জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হতে আগ্রহী রাজিন সালেহ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হতে আগ্রহী রাজিন সালেহ – SportsTour24

ক্রিকেটের মানুষ ক্রিকেটেই আছেন। অবস্থানটাই বদলেছে কেবল। আগে ব্যাট হাতে বাইশ গজে পড়ে থাকতেন; ঝড়ও তুলতেন অনেক সময়। এখন উইকেটে কীভাবে থাকতে হয়, গভীর মনোযোগ আর ধৈর্য্যে রান বের করতে হয় কোন কৌশলে-এসবের পাঠ শেখান রাজিন সালেহ। তিনি এখন পেশাদার কোচ। বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালস আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে দায়িত্ব পালনের পর সফল হয়েছেন জাতীয় লিগের দ্বিতীয় স্তরে সিলেট বিভাগীয় দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) প্রাইম ব্যাংকের সহকারী কোচ ছিলেন গেল মৌসুমে। কোচিংয়েই ভবিষ্যতের ছবি আঁকা রাজিন সালেহ আপাতত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবেই দেখতে চান নিজেকে। তবে তাঁর মনের গভীরে আছে একদিন জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন।

স্পোার্টসট্যুর২৪ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এমন আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ আফজাল

 

‘ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার পর কী করবেন?’- সব ক্রিকেটারই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন, বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ বেলায়। সবার মাঝে জানার আগ্রহ থাকে একজন ক্রিকেটার ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার পর কী করবেন, কোন পেশায় যাবেন। রাজিন সালেহও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাঁকেও এই প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে অনেকবার। প্রতিবার উত্তর ছিল একটাই, ‘আমি মাঠের মানুষ মাঠে কাজ করতে চাই, ক্রিকেট কোচের কাজ করতে চাই।’

 

রাজিন সালেহ নিজেকে কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ২০১১ সালে ক্রিকেট কোচিং লেভেল-২ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ইসিবি’র অধীনে এই কোর্স সম্পন্ন করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

 

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের সাথে ভাগাভাগি করতে কোচিংই উত্তম মাধ্যম। এ চিন্তা থেকেই রাজিন ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার আগেই ক্রিকেট কোচিং লেভেল-২ কোর্স সম্পন্ন করেন। শুধু কী তাই! নিজেকে কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দু’বার! সরাসরি বিসিবি থেকে না হলেও চার-পাঁচ বছর আগে সাবেক সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন বাংলাদেশ যুব দলের নির্বাচক হওয়ার। এ বছর বিসিএলে প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোনে কাজ করার সময় বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে জাতীয় দলের নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাজিন সালেহ আগ্রহ দেখালে তাঁরা তাঁকে নিয়ে ভাবতেন। কিন্তু রাজিনের মূল আগ্রহ কোচিংয়ে।

 

কোচ হিসেবে নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়, সেজন্য বিসিবিরও সহযোগিতা চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। এ প্রসঙ্গে রাজিন সালেহ বলছিলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে আমাকে যুব দলের নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমি তখন প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। আমি তখন বলেছিলাম, আমাকে মাঠে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন, আমি মাঠে কাজ করতে চাই। এই বছর বিসিএলের সময় আমাকে জাতীয় দলের নির্বাচক হওয়ার আগ্রহ আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন এক কর্মকর্তা, আমি তখনও আগ্রহ দেখাইনি। চার-পাঁচ বছর কোচিংয়ে কাজ করতে চাই। চার-পাঁচ বছর পর যদি বিসিবি থেকে প্রস্তাব আসে তাহলে যোগ দেব।’

 

মাঠের ক্রিকেট ছাড়ার পর কোচিং হবে তাঁর পেশা, এমনটাই ভাবনা ছিল রাজিন সালেহর। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরই সুযোগ পেয়ে যান তিনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়েই মাঠের ক্রিকেটকে বিদায় জানান জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক। অবসর নেওয়ার পরের মৌসুমে বিসিবি তাঁকে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাঁর কোচিংয়ে সিলেট বিভাগ জাতীয় ক্রিকেট লিগ ২০১৯-২০ এ টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন হয়। এখন তাঁরা খেলবে টায়ার-১ এ।

 

২০১৯-২০ জাতীয় ক্রিকেট লিগকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে মাসব্যাপী অনুশীলনের আয়োজন করা হয়েছিল। যার কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় দলের সাবেক দুই খেলোয়াড় রাজিন সালেহ এবং নাজমুল হোসাইনকে। মাস দেড়েক পরে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ, কিন্তু তখন বিসিবি থেকে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসছিল না। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হলে সিলেট বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাবেন বলে আশাবাদী ছিলেন রাজিন সালেহ।

 

এক মাসের ক্যাম্প সম্পন্ন করে রাজিন সালেহ চলে যান চাঁদপুর। সেখানে ক্লেমনের ক্যাম্পে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে থাকা অবস্থায়ই বিসিবি থেকে জানানো হয় যে তাঁকে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

রাজিন সালেহ বলেন, ‘আমি অবসর নেওয়ার পর সুজন ভাইকে বলে রেখেছিলাম যে আমি কোচিংয়ে আগ্রহ দেখাব। আমরা এক মাসের ক্যাম্প শেষ করে আমি ক্লেমনের কাজে চাঁদপুর চলে যাই। তখন বিসিবি থেকে ফোন আসে যে একটি নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাকে প্রধান কোচ আর নাজমুল হোসাইনকে সহকারী কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

 

জাতীয় দলের সাবেক এই দুই কৃতি ক্রিকেটারের অধীনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম সেরা সাফল্য পেয়েছে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দল। দীর্ঘদিন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কাজটা অনেক কঠিন ছিল সিলেটের জন্য, কারণ সেই সময় জাতীয় দল ও এইচপি দলের খেলা ছিল। জাতীয় দল এবং এইচপি দলের খেলা থাকার কারণে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের পাননি তিনি।

 

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ভারত সফরে চলে যান আফিফ হোসাইন, আবু জায়েদ রাহী ও ইবাদত হোসেন। তখন এইচপি দলে ডাক পান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান এবং জাকের আলী অনিক। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না অন্যতম সেরা পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ফলে তারকাশূন্য হয়ে পড়ে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দল। ফলে শেষ দুই ম্যাচে অভিষেক করাতে হয়েছিল তিন ক্রিকেটারকে, যার মধ্যে অভিষেকে আলো ছড়িয়েছেন দু’জন। ব্যাট হাতে অমিত হাসান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরির দেখা পান। সিনিয়র পেস বোলারদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে বল হাতে রুয়েল মিয়া প্রথম ইনিংসে তুলে নেন ৮ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসেও পান ৫ উইকেট। যা সিলেট বিভাগকে টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন হতে অনেক সাহায্য করেছিল।

 

তারকাশূন্যতা এবং অনভিজ্ঞ তরুণদের নিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল কারণ হিসেবে রাজিন সালেহ দেখছেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারার সুযোগটাকে। বিসিবি থেকে শুরু করে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট সংস্থাসহ সবাই তাঁর উপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। কোচের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন তাঁরা। দলে সিনিয়র প্লেয়ার যারা ছিলেন সবাই তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন। বিশেষ করে অলক কাপালি, এনামুল হক জুনিয়র, ইমতিয়াজ হোসাইন তান্না এবং বিভাগীয় দলের ম্যানেজার ফরহাদ কোরেশী।

 

রাজিন সালেহ বলেন, ‘শুরু থেকেই বোর্ড থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। দল গঠন করা থেকে, দলের সিনিয়র প্লেয়ার অলক কাপালি, এনামুল হক জুনিয়র, তান্নাসহ সবাই আমাকে মেনে নিয়েছিল। দলের ম্যানেজার ফরহাদ ভাই ছাড়াও কাবী ভাই আমাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফরহাদ ভাই (ফরহাদ কোরেশী আমার দেখা অন্যতম সেরা ম্যানেজার বলে মনে করি। তিনি সব সময় সমর্থন দিয়েছিলেন। এছাড়াও কাবী ভাইয়ের কথা বিশেষবাবে বলতে হয়।’

 

‘আফিফ হোসাইন, জাকির হাসান এবং জাকের আলী অনিকরা যখন জাতীয় দল এইচপি খেলতে চলে যায়, তখন আমি হান্নান সরকারকে কল করি একটা ব্যাটসম্যান দেওয়ার জন্য, যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে পারবে। সে আমাকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্ট্যান্ডবাই থাকা অমিত হাসানের কথা বলে। তার কথায়ই আমি অমিতকে দলে নিয়েছিলাম। অমিত তার অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিল। আমি এক সময় ক্রিকেটার ছিলাম, তাই অনেককে দেখলেই বুঝতে পারি সে কী করতে চায়, সে কীভাবে খেলতে চায়। আমি শুধু সবাইকে তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, তাঁরা নিজেদের মত করে খেলেছে।’

 

রাজিন যোগ করেন, ‘জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল ছেলেরা। তারা নিজেদের জায়গা থেকে পারফর্ম করেছে। আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা ভালো করতে পেরেছি। আমি তাদের নিয়ে যে কাজগুলো করেছি মাঠে তারা খুব ভালো ভাবেই সেগুলো প্রতিফলিত করতে পেরেছে। আমি আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করছি যে কোচ হিসেবে আমার প্রথম কাজেই সফলতা পেয়েছি বলে। ধন্যবাদ দিতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আমাকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ দিতে চাই খালেদ মাহমুদ সুজন ভাইকে। তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন।’

 

অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে, বিভাগীয় দলের খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় কী রাজিন সালেহ এভাবে টিম মিটিংয়ে নিজের মতামত দিতে পারতেন কী-না, দিলেও কী তাঁর মতামত নেওয়া হত না। রাজিন সালেহ কী চাইতেন তাঁর পরিকল্পনা নিলে হয়তো ফলাফল ভিন্ন কিছু হতে পারত। এমন প্রশ্নের উত্তর খুশি মনেই দিয়েছেন রাজিন সালেহ।

 

রাজিন সালেহ বলেন, ‘আগে যিনি কোচ ছিলেন তিনি আমার সাথে পরামর্শ করতেন, বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করতেন। পরামর্শও নিতেন, তবে কোচের একটা নিজস্ব ভাবনা থাকে। আমার প্ল্যান অনেক সময় কোচের পছন্দ নাও হতে পারে। আসলে কোচ হিসেবে যতটা স্বাধীনভাবে গেইম পরিকল্পনা করা যায়, খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় এতোটা মনযোগ দিতে পারতাম না। কারণ গেইম পরিকল্পনার পাশাপাশি নিজের খেলায় মনোযোগ দিতে হত। তাই একসাথে দুই কাজ করা কঠিন হয়ে যেত। আমি যেহেতু খেলোয়াড় ছিলাম, সেহেতু প্লেয়ারের দুঃখ কষ্ট বুঝি। একটা প্লেয়ার কী করতে চায় তাকে দেখলেই বুঝতে পারি। আমি চাইতাম, যখন কোচ হব তখন প্লেয়ারের কাছ থেকে খেলাটা আদায় করে নিতে চাইব। প্লেয়ারের কাছ থেকে খেলাটা আদায় করে নেওয়াটা একজন কোচের মূল কাজ।’

জাতীয় ক্রিকেট লিগে সফল এই কোচ সুযোগ পান সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে কাজ করার। ওয়াইস শাহর সহকারী হিসেবে তাঁকে রাজশাহী রয়্যালসে নেন হান্নান সরকার। রাজিন সালেহ এক সময়ের সতীর্থ হান্নান সরকার দলের ম্যানেজারে দায়িত্বে থাকায় কাজ করাটা সহজ হয়েছিল তাঁর জন্য। স্বাধীনভাবে কাজ করারও সুযোগ পেয়েছিলেন রাজিন সালেহ। তিনি বলেন, ‘আমি হান্নান সরকারকে বলেছিলাম যেহেতু সে একটা দলের সাথে আছে, যদি তার দলের কোচিং স্টাফের সাথে কাজ করার সুযোগ থাকে সে যেন আমাকে নেয়। কারণ তার সাথে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবো।’

 

‘প্রধান কোচ শুরুর দিকে আমাকে এতোটা গুরুত্ব দেননি। পরে যখন জানতে পারলেন যে আমি বাংলাদেশের হয়ে অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ খেলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করারও অভিজ্ঞতা আছে, তখন তিনি দেশীয় ক্রিকেটারদের দেখভালের দায়িত্ব আমাকে দেন।’

 

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের রাউন্ড রবিন লিগ যখন শেষপর্যায়ে, তখনই রাজশাহী রয়্যালসকে গুডবাই জানান ইংলিশ কোচ ওয়াইস শাহ। সেদিন ম্যাচ খেলতে মাঠে যাওয়ার উদ্দেশ্য বাসে উঠবে দল, ঠিক তার আগ মূহূর্তে বিদায় নেন প্রধান কোচ। তাৎক্ষনিকভাবে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজিন সালেহকে। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই সেদিন দল পরিচালনা করেছিলেন, কিন্তু ফলাফল ছিল হার। এভাবে হঠাৎ করে দল পরিচালনা করা যায় না বলে মনে করেন রাজিন। হার দিয়ে বিপিএলে প্রধান কোচের যাত্রা শুরু হয় রাজিন সালেহর। তবে পরের দুই ম্যাচে জয় লাভ করে তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

প্রধান কোচ চলে যাওয়াতে নতুন কাউকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু দলের ম্যানেজার হান্নান সরকার কোচ হিসেবে রাজিন সালেহর প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। ম্যানেজারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্লেয়াররাও তাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন তখন।

 

রাজিন সালেহ বলেন, ‘আমাকে কোচের দায়িত্ব দেওয়াতে দলে থাকা জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান প্লেয়াররা খুশি হয়েছিল, যেমন অলক কাপালি ছিল, লিটন দাস ও আফিফ হোসাইনও ছিল। তারা বলেছিল রাজিন ভাই আপনাকে আমরা এখানে দেখতে চাই। বিদেশি প্লেয়ার, বিশেষ করে শোয়েব মালিক, সেও এটাকে ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে নিয়েছিল। সে অনেক সাহায্য করেছিল, ফলে আমার কাজ করাটা সহজ হয়েছিল। আন্দ্রে রাসেল সে তো খুব ভালো একজন অধিনায়ক। সে বলতো, কোচ তুমি যেভাবে বলবা সেভাবেই হবে। প্লেয়াররা ডিসিপ্লিন মেনে চলছিল, তারা পারফর্ম করছিল বিধায় দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমি অনেক কোচের অধীনে খেলেছিলাম সেখান থেকেই শিখেছি একটা দলকে কীভাবে পরিচলনা করতে হয়। আশা করি আমি দল ভালোভাবে পরিচলনা করতে পেরেছিলাম এবং সফল হয়েছিলাম।’

 

রাজিন সালেহ এর আগে একবার বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন। এনসিএল ও বিপিএল চ্যাম্পিয়ন এই কোচ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ২০১৯-২০ এ সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোনের হয়ে। বিসিএলেও তাঁর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দল পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল তাঁকেই, পাশে পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর জ্জাককে। প্রধান কোচ দলের দায়িত্ব প্রায় সব কিছুই এই দ ‘জকেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে রাজিন সালেহ কাজ করছেন দেশের অন্যতম সেরা কোচ সারোয়ার ইমরানের সহকারী হিসেবে।

 

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন অন্যতম সেরা কোচ ভাবা হচ্ছে রাজিন সালেহকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক কোচ হিসেবে নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তিনি এগিয়ে যেতে চাচ্ছেন, তাঁ কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ধাপে ধাপে নিজেকে কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের কোনো দায়িত্ব পেতে হলে এ বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হবে বলেও মানছেন রাজিন সালেহ। আর জাতীয় দলের কোচ হতে হলে তাঁকে করতে হবে ক্রিকেট কোচিং কোর্স লেভেল-৩। যেখানে প্রয়োজন বিসিবির সহযোগিতা। তবে রাজিন আশাবাদী, বোর্ড থেকে সাহায্য পাবেন। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের ভাবনায়ও আছেন তিনি।

 

তবে এখনই জাতীয় দলের হেড কোচ নয়, বরঞ্চ নিজেকে জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দেখতে চান তিনি। সেজন্য চলছে বিস্তর পড়াশোনা।

 

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘কতো বছর পর নিজেকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দেখতে চাই সেটা বলতে চাই না, অবশ্যই এখন হেড কোচ হওয়ার লক্ষ্য নেই। তবে খুব শিগগিরই নিজেকে জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দেখতে চাই। আর এজন্য অনেক পড়াশোনা করতে হবে, আমি সেটা করছি। সারোয়ার ইমরান স্যার আমাকে অনেক মেটারিয়ালস দিয়েছেন। এগুলো নিয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হচ্ছে, বিভিন্ন কোচের কোচিংয়ের ধরন দেখতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খালেদ মাহমুদ সুজন ভাইও আমাকে অনেক সাহায্য করছেন। নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। স্যার আমাকে কোচিংয়ের ব্যাপারে অনেক সাহায্য করছেন।’

 

‘আমার কাজ ও পরিশ্রম দেখে হয়তো বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। আমি আশাবাদী, খুব শিগগিরই ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পাবো ইনশা আল্লাহ!’

শেয়ার করুন :