১৮ জুন: ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটনাবহুল দিন! ১৮ জুন: ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটনাবহুল দিন! – SportsTour24

ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১৮ই জুন। ক্রিকেটের ইতিহাসে ঘটনাবহুল একটি দিন।

কেন ঘটনাবহুল?

 

এ দিনকে ঘিরে টুকরো টুকরো ঘটনাগুলো সাজানোর চেষ্টা করেছেন তরুণ ক্রীড়ালেখক বোরহান উদ্দিন জাবেদ….

 

১৮ জুন ১৯৭৫: অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। গ্যারি গিলমোর।

অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার গ্যারি গিলমোরের বোলিং তোপে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে নেয় চার উইকেটে। বলহাতে গিলমোর নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। গিলমোরের বোলিং ফিগার ছিল এরকম: ১২-৬-১৪-৬!

 

এর মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ছয় উইকেট নেওয়া বোলারের খাতায় নাম লেখান গিলমোর। দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার নামটিতেও লেখা হয় গিলমোরের নাম। এই ম্যাচের মাত্র দশদিন আগে প্রথম পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ডেনিস লিলি। ব্যাটিংয়েও সেই ম্যাচে অবদান রাখেন গিলমোর। ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

 

বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোন বাঁহাতি পেসারের সেরা বোলিং ফিগার এখনো পর্যন্ত এটি টিকে আছে। কাকতালীয়ভাবে ম্যাচটি ছিল সেই বিশ্বকাপে গিলমোরের প্রথম ম্যাচ এবং মাত্র দুই ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট নিয়ে সেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়েছিলেন তিনি!

 

১৮ জুন, ১৯৮৩: ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে। কপিল দেব।

এই দিনেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কপিল দেবের মহাকাব্যিক অপরাজিত ১৭৫ রানের সেই ইনিংস। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ভারতের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি! এই একটি তথ্যই যথেষ্ট ছিল ইনিংসটা মনে রাখার জন্য। কিন্তু ১৭ রানে পাঁচ উইকেট পড়ার পর যে শোচনীয় অবস্থা থেকে কপিল দেব ইনিংসটি খেলেন এবং দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন, তাতে ইনিংসটি আজীবন মনে খোদাই করে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

 

কপিলের ১৩৮ বলের ইনিংসে ১৬ চারের সাথে ছিল ছয়টি ছক্কার মার। এই সেঞ্চুরির পদচিহ্ন এঁকে ভারতের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরি এসেছে আরো ২৯৩টি। ৩৭ জন ব্যাটসম্যান নাম লিখিয়েছেন সেঞ্চুরির খাতায়। দুটোর সিরিয়ালে প্রথম নামটি কপিল দেব। যার দরুন সেঞ্চুরিটার মাহাত্ম্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ! ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২২৫ ম্যাচে কপিল দেবের সেঞ্চুরিও অবশ্য ওই একটিই!

 

আমি নাটের গুরু ছিলাম না: আশরাফুল

 

১৮ জুন ২০০৫: বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়াবধ।

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনস অনেক কারণেই মনে রাখবে বাংলাদেশ। স্মরণীয় অনেক স্মৃতির মধ্যে এই জয়টি সবচেয়ে জ্বলজ্বলে। ওয়ানডেতে সেটি মাত্র ষষ্ঠ জয় ছিল বাংলাদেশের। জয়টিকে উইজডন উল্লেখ করেছিল এভাবে, ‘the biggest upset in one-day international history’।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচটিতেই আশরাফুলের প্রথম ওয়ানডে শতক দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সেটি ছিল ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আশরাফুল করেছিলেন ১০১ বলে ঠিক ১০০ রান। ইনিংসে ছিল ১১টি চার। কাকতালীয়ভাবে মেহরাব হোসেন অপি যেদিন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটি করেন, সেদিনও মাঠে ছিলেন আশরাফুল! তবে ব্যাট-বল হাতে নয়, বলবয় হিসেবে।

 

১৮ জুন ২০১৭: ভারত বনাম পাকিস্তান ফাইনাল।

আইসিসি আয়োজিত কোন টুর্নামেন্ট মানে যেন কোনো না কোনোভাবে পাকিস্তান হারবে ভারতের কাছে। এক প্রকার অবধারিত নিয়মই হয়ে গিয়েছিল যেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাথে সাতবারের সাক্ষাতে সাতবারই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে ভারত। টি-টোয়েন্টিতেও একই দৃশ্য। মুখোমুখি পাঁচবারে চার জয় ভারতের। একটি ম্যাচ টাই।

 

তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই চিত্রটা একটু ভিন্ন। ২০১৭ সালের ১৮ জুনের সেই ম্যাচটির আগে চার দেখায় সমান দুটি করে জয় ছিল দু’দলের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে আজকের দিনে ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতে সেই লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে যায় পাকিস্তান! পাকিস্তান ম্যাচ জিতে ১৮০ রানে। রানের হিসেবে কোন আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের জয়।

 

১৮ জুন ২০১৯: মরগানের তাণ্ডব।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এডউইন মরগ্যানের সেই তাণ্ডবলীলা। ১৪৮ রানের ইনিংসে একে একে মারেন ১৭টি ছক্কা! এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন মরগ্যান। ৭১ বলের মরগ্যানের সেঞ্চুরিটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরি।

 

এছাড়াও…

১৮ জুন ১৯৮৭: মঈন আলী। ইংল্যান্ডেল অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। ১৯৮৭ সালের আজকের দিনেই বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন মঈন আলী।

 

১৮ জুন ২০১৫: ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৭৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের কল্যাণে সেই ঐতিহাসিক সিরিজ জিতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই প্রথম ম্যাচে ফিজ ৫০ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।

 

স্পোর্টসট্যুর২৪ডটকম/আরআই-কে

শেয়ার করুন :