সিলেটের পর্যটনে ৩৬০ কোটি টাকার ক্ষতি! সিলেটের পর্যটনে ৩৬০ কোটি টাকার ক্ষতি! – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: চরম সংকটের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সিলেটের পর্যটন। এখানকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও করোনাভাইরাসের কারণে গেল প্রায় চার মাস ধরে পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে সিলেটে পর্যটনে। এ হিসেবে গত চার মাসে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।

 

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেল মার্চের মধ্যভাগ থেকে স্থবির হয়ে আছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। জাফলং, লালাখাল, পাংথুমাই, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, সাদাপাথর, মায়াবী ঝরনা, উৎমাছড়া, মায়াবন, রাতারগুল–কোথাও নেই পর্যটকের দেখা।

 

সিলেটে পর্যটনের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত থাকা প্রায় দশ হাজার মানুষ এতে বিপাকে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের আয়ের পথ।

 

পর্যটনের সাথে হোটেল, মোটেল, রেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে থাকা স্থানীয় দোকানপাট, নৌকা এসবও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। মহামারি করোনার কারণে সবকিছু থমকে যাওয়ায় এসব খাতেও এখন লেগেছে ক্ষতির ধাক্কা।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটের হোটেল, মোটেলগুলো মূলত পর্যটক নির্ভর। পর্যটকের আনাগোনা থাকায় স্বাভাবিক সময়ে এসব হোটেল, রেস্ট হাউজে রুম প্রায় খালি থাকে না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে পর্যটক না থাকায় সব হোটেল, মোটেলের আয় বন্ধ। ফলে তাঁরা তাঁদের কর্মচারীদের বিনাবেতনে ছুটি দিয়েছে। এসব কর্মচারী কাজ না থাকায় এখন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

 

সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে অনেকেই নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তুপর্যটক না থাকায় তারাও এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

 

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সিলেটের পর্যটনে ক্ষতির বিষয়ে একটি পর্যালোচনা করেছে। সেই পর্যালোচনা বলছে, প্রতিদিন সিলেটের পর্যটনে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

 

চার মাসে ১২০ দিনের হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি টাকায়। যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে বলে মন্তব্য সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েবের। তিনি বলছেন, যথাযথভাবে সার্ভে করলে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।

সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েলও একই কথা বলছেন।

 

তাঁরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যদি করোনা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মেলে, তবে এরপর পর্যটন খাত চাঙ্গা হতে আরো অন্তত দেড় বছরের মতো সময় লাগবে।

শেয়ার করুন :