‘সাকিবকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে’ ‘সাকিবকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে’ – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: আর মাত্র হাতে গোনা ক’টা দিন। এরপরই সাকিব আল হাসান মুক্ত বিহঙ্গ। নামতে পারবেন ক্রিকেটের ময়দানে। সাকিবের ফেরার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অপেক্ষায় আছেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও। কিন্তু প্রত্যাশার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে রাজি নন তিনি। ডমিঙ্গো বলছেন, সাকিব ফিরেই ‘মিরাকল’ করে ফেলবেন না। তাঁকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।

 

জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে সেটি গোপন করায় গেল বছর আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন সাকিব আল হাসান। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ অক্টোবর। পর দিন থেকে তিনি সব ধরনের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে পরশু শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাঁদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু করার কথা ছিল বাংলাদেশের। যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সাকিবকে পাওয়ার আশায় ছিল বিসিবি। কিন্তু কোয়ারেন্টিনের শর্ত নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় মুমিনুল হকদের লঙ্কা সফর স্থগিত হয়ে যায়।

 

লঙ্কা সফরকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে বিকেএসপিতে কঠোর অনুশীলন করেন সাকিব। সফর স্থগিত হওয়ার পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী-সন্তানদের কাছে চলে যান এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

 

আগামী মাসেই বিসিবি পাঁচটি দল নিয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই ক্রিকেটে ফিরবেন সাকিব।

 

নিষেধাজ্ঞার আগে সাকিব সব ধরনের ক্রিকেটে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার। ছিলেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক।

 

তাঁর নিষেধাজ্ঞার সময়ে জিম্বাবুয়ে ছাড়া অন্য সব সিরিজে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। সাকিব ফিরছেন, তাঁর কাছে প্রত্যাশাও আকাশসম।

 

কিন্তু বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন, সাকিবকে মানিয়ে নিতে সময় দিতে হবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘কালও তাঁর (সাকিব) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে সে। আপাতত দেশের বাইরে আছে। অন্য সবার মতো সাকিবেরও ফেরার পর মানিয়ে নিতে সময় লাগবে কিছুটা। যদি আশা করে থাকেন ফেরার পর সরাসরিই বিশাল কোনো মিরাকল সে করে ফেলবে…(সেটা সম্ভব না)। তাকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।”

 

‘এক বছর ধরে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলেনি সে, মাঠে ফিরতে মুখিয়ে আছে। সে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, কিন্তু তারপরও একটা পথ ধরে এগোতে হবে।’

 

বাস্তবতাকে টেনে টাইগারদের কোচ বলছিলেন, ‘অনুশীলনে থ্রো ডাউন এবং বোলিং মেশিনে খেলা আর ম্যাচে ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলারকে খেলার মধ্যে পার্থক্য অনেক। পায়ের নিচে জমি খুঁজে পেতে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তারও কিছুটা সময় লাগবে। আমরা জানি, সে কোয়ালিটি ক্রিকেটার। আশা করি বাংলাদেশের হয়ে আগামী মৌসুম দুর্দান্ত কাটবে তাঁর।’

 

বর্তমানে স্পিন অ্যাটাকে তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাঈম হাসানরা আছেন। সাকিব ফেরার পর উভয় সংস্করণে স্পিনারদের দিয়ে আরও ভালো করা সম্ভব বলে মনে করছেন জাতীয় দলের হেড কোচ।

 

‘তাইজুলকে এখনও কিছু কাজ করতে হবে (অ্যাকশন বদলে ফেলায়)। নাঈম (হাসান) দুর্দান্ত বোলিং করছে। সন্তানের বাবা হওয়া মিরাজ মাত্র ফিরেছে। ফিঙ্গার স্পিনাররাই আসলে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁরা ধারাবাহিক, জানে কী করতে হবে। সাকিব যোগ হলে সমন্বয়টা আরও ভালো হবে। চারজন ভালো মানের ফিঙ্গার স্পিনার থাকলে লাল ও সাদা বলে ধারাবাহিক ভালো করা সম্ভব।’

শেয়ার করুন :