শ্রীলঙ্কান হুঙ্কারে পাত্তা দিচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক শ্রীলঙ্কান হুঙ্কারে পাত্তা দিচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: করোনাভাইরাসের দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে অক্টোবরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁদের মাটিতে টাইগাররা খেলবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজে বাংলাদেশকে ‘গতির ঝড়ে’ বেসামাল করতে চায় লঙ্কানরা। এমনটাই জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার অসান্থা ডি মেল। তবে লঙ্কানদের এমন হুঙ্কারে তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক।

 

শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট মানেই স্পিনার লেলিয়ে দেওয়া। ঘূর্ণি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করা। মুত্তিয়া মুরালিধরন, রঙ্গনা হেরাথরা এ কাজ করে গেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু তাঁরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর মানসম্মত স্পিনার পায়নি শ্রীলঙ্কা, যিনি দলকে দীর্ঘমেয়াদে সার্ভিস দিতে পারেন।

 

লঙ্কানরা তাই তাঁদের চিরায়ত স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবুর চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছে।

 

শ্রীলঙ্কার ইংরেজি দৈনিক দ্য আইল্যান্ডকে এক সাক্ষাৎকারে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার অসান্থা ডি মেল বলেন, ‘কখনো কখনো পুরনো ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন করে আপনাকে নতুন কিছু নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষেই সেই নতুন কিছুর সূচনা করতে চাই আমরা। এ লক্ষ্যেই চলছে প্রস্তুতি।’

 

‘নতুন কিছু’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন অসান্থা ডি মেল? দিলেন সেই ব্যাখ্যাও, ‘এখনই সময়, বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্পিন থেকে পেস শক্তিতে পরিবর্তন হওয়ার।’

 

‘আমাদের চিন্তা এবং পরিকল্পনা হচ্ছে তাঁদেরকে (বাংলাদেশ) পেস দিয়েই হারানো। এটা অবশ্যই স্পিন দিয়ে নয়। কারণ, বাংলাদেশের এমনিতেই বেশ ভালো স্পিন অ্যাটাক রয়েছে। তাঁদের ব্যাটসম্যানরাও স্পিনে ভালো খেলে। অন্যদিকে আমাদের বেশ কয়েকজন ভালো পেসার রয়েছে। সুতরাং, এখনই সময় আমাদের শক্তিকে কাজে লাগানোর। এমনকি আমরা স্কোয়াডে পাঁচজন পেসারও রাখতে পারি। এটা নিয়ে কোচও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

 

তাঁর এমন মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ হবে তখনই, যখন শ্রীলঙ্কার স্কোয়াডে স্পিনারদের চেয়ে পেসারদের দাপট বেশি থাকবে; যখন তাঁরা বেশি সংখ্যক পেসার নিয়েই মাঠে নামবে।

 

তবে লঙ্কানরা কী ভাবছে, তাতে কান দিতে চাচ্ছেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি বলছেন, ভালো কিছু করতে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী।

 

‘তাঁরা কী বললো না বললো, তাতে আমার তেমন কিছুই এসে যায় না। ওখানে গিয়ে দেখা যাবে আসলে কী হয় না হয়। আমার কাছে যে স্ট্রেংথ আছে, আমি ওইটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করবো।’

 

মুমিনুল বলছেন, ‘আমাদের যে ব্যাটিং ও বোলিং লাইন আপ আছে, এটা নিয়ে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব। তাছাড়া জিম্বাবুয়ে সিরিজ (চলতি বছরের শুরুতে, দেশের মাটিতে) থেকেই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। এই চেষ্টাটা সবার মধ্যেই আছে যে, আমাদের ভালো করতেই হবে। একজন দলপতি হিসেবে অবশ্যই আমি এই সিরিজে ভালো কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী।’

 

আগামী ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট শুরু হবে। ক্যান্ডিতে প্রথম দুটি এবং কলম্বোতে হবে শেষ টেস্ট।

 

এর আগে চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ যাবে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে চলবে মাসখানেকের অনুশীলন।

শেয়ার করুন :