শেখ কামাল জীবন্ত তাঁর ক্রীড়াপ্রেমে শেখ কামাল জীবন্ত তাঁর ক্রীড়াপ্রেমে – SportsTour24

মান্না চৌধুরী :: উচ্চতায় ছয় ফুট হবেন। শারীরিক কাঠামো কেনিয়া, জ্যামাইকার দৌড়বিদদের মতো। কিন্তু ছবিটা দেখলে বেশ স্মার্ট দেখায়। ভারতীয় বাংলার সাদাকালো যুগের নায়কও মনে হতে পারে। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। ঘাতকের গুলিতে মারা যাওয়ার আগে মাত্র ২৬ বছরের জীবন তাঁর।

 

এই ছোট্ট সময়ে কতকিছুই তো করে দেখালেন। স্বপ্ন দেখে আর দেখিয়ে আবাহনী প্রতিষ্ঠা করলেন, স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে আবাহনীকে উপহার দিলেন বিদেশী কোচ! আকাশী জার্সিতে আকাশ ছোঁয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, সেটা দেখতে দিল না ঘাতকের দল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাবা, মা, ভাই, স্বজনের সাথে শেখ কামালের প্রাণোচ্ছল দেহটাও নিথর করে দেয় ভোরের আলো ফুটতে না দেয়া কালো বুলেট।

 

বঙ্গবন্ধুর ফুটবল প্রতিভার খবর জানেন না অনেকে। অকুতোভয় সাহস আর অসাধারণ নেতৃত্বগুণে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি পরিচয়ে ঢাকা পড়ে যায় শেখ মুজিবের বল পায়ে প্রতিভা। বাবার খেলা প্রেমই হয়ত তাঁকে মাঠের সঙ্গে মিতালী করে দেয়। শাহীন স্কুলে পড়ার সময়ে শেখ কামাল স্কুল দলের হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল খেলতেন। ক্রিকেটে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আজাদ বয়েজের হয়ে ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে খেলেছেন সুনামের সাথে। তাঁর বোলিং অ্যাকশন ছিল দৃষ্টিকাড়া। উইকেটও পেয়েছেন কিছু।

কিন্তু নানা কারণে খেলার ক্যারিয়ার আর লম্বা হয় না। খেলা ছেড়ে সংগঠক হিসেবে নিজের পরিচিতি ছড়াতে থাকলো ক্রীড়াঙ্গনে। দেশ স্বাধীনের পর গঠন করেন স্বপ্নের আবাহনী ক্লাব। ১৯৭৩ সালে আবাহনীতে বিদেশী কোচ নিয়ে এসে তাক লাগিয়ে দেন। তখন ক্লাব পর্যায়ে তো নয়ই, উপমহাদেশের কোন জাতীয় দলেও ছিল না বিদেশী কোচ! বিল বাইট আসার পর ইংল্যান্ড, ইতালি, জার্মানির ফুটবলারও হয়ত আসতেন আবাহনীতে।

 

কিন্তু ঘাতকের দল স্বপ্নের সীমানা ছুঁতে দিলে তো। ছোট সময়কালটায় শুধুই যে খেলার মেলায় যুক্ত ছিলেন তা নয়। বাবার স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার যে সংগ্রাম তিনি দেখেছেন তাতে নিজেও উজ্জীবিত হন। যোগ দেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে।

আরো পড়ুন:

‘শেখ কামাল মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে আছেন ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সঙ্গীতে’

 

সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও নিজেকে মেলে ধরেছেন বহুমুখী প্রতিভার গুনে। শখের বসে, নেশার টানে প্রায়ই সুর তুলতেন। একসময় তো ব্যান্ড দলই গঠন করে নিলেন। নাম দিলেন ‘স্পন্দন’। স্পন্দন মানুষের কাছে পৌছার আগেই অবশ্য কিছু অমানুষ শেখ কামালের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়। নাটকের নেশাও ছিল বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্রের। ছোট বোন শেখ রেহানার বান্ধবী ডলি জহুরসহ আরো অনেকের সাথেই মঞ্চ মাতিয়েছেন।

তবে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ দেয়ার ৪৫ বছর পরও শেখ কামাল জীবন্ত হয়ে ওঠেন তাঁর ক্রীড়াপ্রেমে। খেলার জগতে বিচরণ আর ব্যাপক অবদানে হারিয়ে যায় অন্য সব প্রতিভা। অনেকেই অকপটে বলেন, শেখ কামাল বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতো। আবাহনী হতো কোরিয়া, জাপানের শীর্ষ ক্লাবের মানের। দেশের ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় এসব কথা হয়তো পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে।

 

কিন্তু শেখ কামালকে যারা দেখেছেন, যারা একসাথে চলেছেন, তাঁরা এখনো বিশ্বাস করেন, কামাল বেঁচে থাকলে বাংলার ফুটবল বিশ্বজুড়ে উপহার দিতো বিস্ময়।

শেয়ার করুন :