শিল্প আর শক্তিতে অবিশ্বাস্য বায়ার্ন শিল্প আর শক্তিতে অবিশ্বাস্য বায়ার্ন – SportsTour24

মান্না চৌধুরী :: ৮৫ ও ৮৯ মিনিটে টানা দুই গোল করলেন বদলি নামা কৌতিনহো। ৮২ মিনিটে লেভানডোভস্কি, ৬৩ মিনিটে কিমিচের গোল। এ তো গেলো শেষ ৪৫ মিনিটের হিসেব! প্রথমার্ধে মুলার দুটি, পেরিসিক আর সার্জ গ্যানাব্রির গোল একটি করে! সব মিলিয়ে আট গোলের মালা!

 

গত রাতের ম্যাচটি নামেই কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ। বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ যেন স্প্যানিশ তৃতীয় বিভাগের কোন দল! বল সারাক্ষণেই থাকলো সেই দলের বক্সের কাছাকাছি। একটার পর একটা আক্রমণ। টিকিটাকা, লম্বা পাস, চমৎকার বোঝাপড়ায় মাঠে খেলছে একদলই। এগারো জনের একপেশে শো। বাকি এগারো যেন নীরব দর্শক! কেউ কোমরে হাত রেখে, কেউ মাথা নিচু করে শিল্পের সঙ্গে শক্তি মেশানো ফুটবলের অনিন্দ্য প্রদর্শনী দেখছেন।

 

অথচ কাল রাতে ম্যাচ শুরুর আগের আবহ কী আগুনে। মেসির সঙ্গে লেভানডোভস্কি, জেরার্ড পিকে আর জেরোম বোয়াটেঙ, টের স্টেগেনের সাথে ম্যানুয়েল ন্যয়ার। কতো হিসেব, কতো তুলনা। শিল্পের সঙ্গে শক্তির লড়াইয়ের অধীর অপেক্ষা। যে দুই শহরের দুই দল মুখোমুখি সেই বার্সেলোনা, মিউনিখ ছাড়িয়ে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামে উত্তেজনা বেশি! খেলার মাঠ, চায়ের স্টলে তর্ক চলে। ফেসবুকে তো যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। পরিসংখ্যানের কাটাকুটিতে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে বুঝিয়ে দেন নিজেদের সাফল্য, শক্তির কথা।

 

কিন্তু বল মাঠে গড়ানোর পর থেকে বিশ্বের বড় অংশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। আঁধারে ঢেকে যায় কোটি মুখ। একটি, দুটি, চার গোলের পরও অবশ্য ফিরে ফিরে আসে বিশ্বাস। মেসি জ্বলবেন, ঠিকই গোল বের করে নিবেন সুয়ারেজ। ক্ষণিকের জন্য ফুটবল জাদুকর জাদু দেখালেন, সুয়ারেজ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলও পেলেন। কিন্তু এরপর যা হলো, তাতে আঁধার কেটে আলোর রেখা আর বের হয় না। নিজের চোখ যেন দেখায় অবিশ্বাসের খেলা! মনে হয় ফুটবলের ভিডিও গেম চলছে। দুই-তিন টাচে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢোকা যাচ্ছে, গোল লাইনের ওপর দিয়ে ড্রিবলিং করে যাওয়া যাচ্ছে গোলপোস্টের সামনে! এরপর মাথা, বুক, পায়ের ঠোকায় যেভাবে পারো জাল কাঁপাও!

 

বায়ার্নের জাল কাঁপানোর মিশনে লজ্জার ইতিহাসও এলো ফিরে। না, বায়ার্নের জন্য নয়; বার্সার জন্য। ১৯৪৬ সালে কোপা দেল রে’র এক ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে ৮-০ গোলে হেরেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ৭৪ বছর পর এবার আরো একবার ৮ গোলের লজ্জায় ডুবলো তারকাখচিত বার্সেলোনা।

 

খেলাটা ফুটবল ছিল বলেই ৯০ মিনিট পর্যন্ত চলেছে। বক্সিং কিংবা ইউএফসি হলে তো রেফারি বেশ আগেই বাজিয়ে দিতেন শেষের বাঁশি! মোহাম্মদ আলীর বিপক্ষে মাইক টাইসন উড়ে যেতে যেতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু বার্সেলোনা বারবার পিছিয়ে পড়েও তেজী আর জেদী হয়ে উঠে না। মেসি,বুসকেটস,পিকেদের দেখে মনে হয়েছে তাঁরা যেন ভাইরাসে আক্রান্ত! অদৃশ্য কিছু ধরে রেখেছে, চাইলেই সামনে যাওয়া যায় না! রক্ষণ একেবারেই নড়বড়ে, মাঝমাঠে বুসকেটস, ভিদাল যেন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক!

 

নিঃসঙ্গ মেসি খেলা শুরুর দশ মিনিটেই বুঝলেন আজ লা লিগার কোন ম্যাচ নয়। ব্রাজিলকে ৭-১ এ উড়িয়ে দেয়া জার্মানির ‘পাওয়ার হাউস’ বায়ার্ন প্রতিপক্ষ। যারা সেরা অস্ত্রকে বোতলবন্দি করে রাখতে জানে। জানে প্রতপক্ষ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে কীভাবে গোল আদায় করে নিতে হয়।

 

ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ম্যাচের ছয় বছর পরও টমাস মুলার কি দুর্দান্ত ফর্মে! দুই গোল করে বড় জয়ের ভীত গড়ে দেন অবসরের ক্ষণ গোনা এই স্ট্রাইকার। বদলি নেমে বার্সেলোনার ছেড়ে দেয়া কৌতিনহোও দেখান জাদু। যেমন ইচ্ছে তেমন গোল করো এর প্রদর্শনী যেন লিসবনে। দেখে মনে হয়েছে ম্যানুয়েল ন্যুয়ারও চাইলে গোল করতে পারতেন! এমন ম্যাচে আট গোলও কম মনে হয়!

শেয়ার করুন :