শান্তর চোখ বড় ইনিংসে শান্তর চোখ বড় ইনিংসে – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: চার টেস্টের ক্যারিয়ার নাজমুল হোসেন শান্তর। এর মধ্যে দুটি টেস্টে উইকেট থিতু হয়েও বড় করতে পারেন নি ইনিংস। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ দল যখন ব্যাটিং ব্যর্থতায়, তখন শান্তর ব্যাট থেকে উভয় ইনিংসে আসে ৪৪ ও ৩৮ রান। পরে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে করেন ৭১ রান।

 

ইনিংস বড় করতে না পারার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে তাই করছেন কঠোর অনুশীলন। বলছেন, সুযোগ পেলে বড় ইনিংস খেলতে চান।

 

বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে শান্ত বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় সবশেষ দুই-তিনটা ইনিংসে ভালো ব্যাটিং হয়েছে। আমি সবচেয়ে যে জিনিসটা চাই তা হলো ইনিংসগুলো যেন লম্বা হয়। আর নিয়মিত পারফরম্যান্স যেন করতে পারি। আমার ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেট হওয়া ইনিংসগুলো যেন বড় করতে পারি।’

 

মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশ। অনুশীলন করছেন ক্রিকেটাররা, কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ হচ্ছে না। কঠিন সময়ে ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় মগ্ন ২২ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

 

‘এই অবস্থায় সব ক্রিকেটারের জন্যই (ছন্দ ফিরে পাওয়া) কঠিন। যেহেতু এখন মাঠে এসে সবাই মিলে প্রস্তুতি নিচ্ছে, নেটে ব্যাটিং করছে। আমার মনে হয় মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকলে, আমি ইতিবাচক আছিও, এভাবে শুরু করতে পারলে আবারও আগের ছন্দ ফিরে পাব। কিন্তু অবশ্যই কঠিন, তাই এটাই চেষ্টা করছি যে যখনই অনুশীলন করছি আগের ছন্দটা ফিরে পাওয়ার।’

 

করোনার কারণে লকডাউনে নিজের অতীতের ভুল নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কাজ করেছেন সেগুলো নিয়ে।

 

শান্ত বলছিলেন, ‘লকডাউনে ইতিবাচক দিক বলতে অতীতে যে ভুলগুলো ছিল বা অতীতে যেসব আমি ভালো করেছি ওসব নিয়ে চিন্তা করার খুব ভালো একটা সুযোগ ছিল। যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি। আমি মনে করি, সামনে যদি সুযোগ পাই তাহলে এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে। ভালো বা খারাপ খেলা যেটাই বলি, লকডাউনে নিজের খেলাগুলো নিয়ে অ্যানালাইসিস করতে পেরেছি। যেটা আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে এবং সামনে সুযোগ পেলে ভালো কিছু হবে মনে করি।’

 

তবে দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি হয়ে থাকতে কষ্ট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর। এর আগে এতো দীর্ঘ সময় যে ঘরবন্দি সময় কাটান নি।

 

‘লকডাউনটা কষ্টকর ছিল এই কারণে, অতীতে কখনো দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়নি। মাঠ ছাড়া বাসার মধ্যে এতোদিন থাকা অনেক কষ্টকর ছিল। তারপরও ইতিবাচক দিক যেটি, এখন মাঠে ফিরেছি, ভালো লাগছে খুব।’

 

তবে এখন নিয়মিত করোনাভাইরাসের টেস্ট করানো বিরক্তিকর মনে হচ্ছে শান্তর কাছে। তারপরও নতুন সময়ের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এই বাঁহাতি।

 

‘করোনা টেস্ট দুই দিন পর পর। এই ব্যাপারটা একটু অস্বস্তিদায়ক। নাকের ভিতর দিয়ে টেস্ট করা হচ্ছে, এটি একটু অস্বস্তিকর। কোয়ারেন্টিনে থাকতে কারোরই ভালো লাগে না। এতো নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হবে, এসব আগে কখনো হয়নি। হ্যাঁ, ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি এসবের সঙ্গে। এসব নিয়েই এগোতে হবে সেইভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন :