রিয়াল মাদ্রিদ যে ৬ কারণে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ যে ৬ কারণে চ্যাম্পিয়ন – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: স্প্যানিশ লা লিগায় নিজেদের ইতিহাসে ৩৪তম শিরোপা ঘরে তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কাল রাতে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতেন সের্জিও রামোসরা।

 

২০১৮-১৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্স খুব বেশি ভালো ছিল না। চলতি মৌসুমের শুরুতে দলটির কোচ কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান যখন বলেন, এবার লিগ জয়ই তাঁদের লক্ষ্য। তখন অনেকের কাছেই আগের মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় কথাটি অবিশ্বাস্য ঠেকেছিল।

 

কিন্তু শেষ অবধি রিয়াল চ্যাম্পিয়ন হলো এক ম্যাচ হাতে রেখেই। করোনা বিরতি শেষে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ১০ ম্যাচ খেলে সবক’টিতে জয় নিয়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে। বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে রিয়ালের শিরোপা নিশ্চিত করার পেছনে অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কী সেই ৬ কারণ?

 

১. দৃঢ়চেতা মনোভাব
নিজেদের দৃঢ় মনোভাবের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাঁরা লিগ শুরুতে ঠিক করেছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাঁদের লক্ষ্য। সে বিশ্বাস নিয়েই তাঁরা খেলে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ চলতি মৌসুমে গোল করেছে ৩৭ ম্যাচে ৬৮টি। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচে গড়ে ২টি করেও গোল পায় নি তাঁরা। নূন্যতম তথা ১ গোলের ব্যবধানে বেশিরভাগ ম্যাচ জিতেছে রিয়াল। কিন্তু চাপের সময়ে ওই ১ গোল করেই ম্যাচ জয় করাই সুফল হয়ে দেখা দেয় জিনেদিন জিদানের দলটির জন্য।

 

২. জিদানের ট্যাকটিকস ও বড় স্কোয়াড
ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের কৌশল নিয়ে কারো প্রশ্ন নেই। তিনি যেভাবে দল সামলাতে পারেন, তা অবিশ্বাস্য অসাধারণ বলেও মন্তব্য অনেকের। তাঁর ট্যাকটিকস নিয়ে সে তুলনায় আলোচনা কম হয়। চলতি মৌসুমে নিজের ‘ম্যানেজারিয়াল দক্ষতার’ ওই দিকটাও দেখিয়ে দিয়েছেন জিদান।

 

লিগে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাদশে বদল এনেছেন। প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা বিবেচনা করে ফরমেশনেও পরিবর্তন করেছেন প্রত্যেক ম্যাচে। এনেছেন প্রতিদিন। লিগ শুরু করেছিলেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে। সেটা কখনো ৪-৪-২, কখনোবা ৪-৫-১, আবার প্রয়োজনে ৪-২-৩-১ ও হয়েছে।

 

স্কোয়াডে অনেক ভালো খেলোয়াড় থাকায় জিদানের কাজটুকু সহজ হয়েছে। গ্যারেথ বেল, হামেস রড্রিগেজ সাইডবেঞ্চে, হ্যাজার্ড প্রায় অর্ধেক মৌসুম চোটে; তবু কিন্তু জিদানের সমস্যা হয় নি স্কোয়াড বড় থাকায়।

 

৩. গোলদাতা ২১ জন
চলতি মৌসুমে লা লিগায় ২৩ গোল নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর পরেই আছেন রিয়ালের করিম বেনজেমা। তাঁর গোল ২১টি। বেনজেমা ছাড়া গোলের জন্য জিদানের বড় ভরসাস্থল ছিল না। পেনাল্টির দায়িত্ব বুঝে নেওয়া সের্জিও রামোস গোলে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন।

 

ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বেনজেমার পরে ভিনিসিয়ুসের গোল মাত্র ৩টি! এরপরও লিগ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে রিয়াল। কারণ, দলের প্রয়োজনে কেউ না কেউ গোল করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের মৌসুমে রিয়ালের ২১ জন খেলোয়াড় গোল করেছেন। ৬৮টি গোলের মধ্যে মিডফিল্ডাররা করেছেন ১৫টি, ডিফেন্ডাররা ১৬টি। বাকিগুলো ফরোয়ার্ডরা করেছেন। ‘দশে মিলে করি কাজ’-ই জিদানের দলের সাফল্যের অন্যতম রহস্য।

 

৪. দুর্দান্ত রক্ষণ
রিয়ালের রক্ষণভাগ খুব বেশি শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু এবার এই রক্ষণের প্রশংসা করছেন সবাই। ফেরলাঁ মেন্দিকে দলে এনে রিয়াল রক্ষণের চেহারাই বদলে দিয়েছে। রিয়ালের বাঁ প্রান্তে মার্সেলো আক্রমণে উঠে গিয়ে দলের রক্ষণে শূন্যস্থান রেখে দিতেন। রক্ষণের বাঁ প্রান্তেই আবার খেলেন আক্রমণাত্মক মানসিকতার সের্জিও রামোস।

 

প্রতিপক্ষ ঠিক এ দুর্বলতাই কাজে লাগাতো। কিন্তু মেন্দি আসার পর ওই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠেছে রিয়াল। অন্যদিকে থিবো কোর্তোয়াও গেল বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক হওয়ার ফর্মটা এক মৌসুম পর এবার ফিরে পেয়েছেন। ৩৪ ম্যাচে মাত্র ২০ গোল খেয়েছেন এই বেলজিয়ান!

 

রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন, ঘরে তুললো ৩৪তম শিরোপা

বার্সেলোনার এ কী হাল!

 

 

৫. রামোসের সামনে থেকে নেতৃত্ব
রামোস মূলত ডিফেন্ডার। কিন্তু গোলের নেশা তাঁর অদম্য। তাইতো প্রায়ই তিনি ওঠেন আক্রমণে। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে বেনজেমার পরেই গোলসংখ্যা বেশি রামোসের।

 

তাঁর নেতৃত্বগুণও অসাধারণ। সামনে থেকে কীভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয়, সেটা ভালো করেই জানা আছে এই স্প্যানিশের। চলতি মৌসুমে নিজের নেতৃত্ব গুণের সর্বোচ্চটা প্রয়োগ করেছেন রামোস। দলের পেনাল্টি নেওয়ার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে সবগুলো স্পটকিকই কাজে লাগিয়েছেন।

 

৬. দুর্দান্ত বেনজেমা
চলতি লা লিগায় বেনজেমার গোলসংখ্যা ২১টি। ২০০৯ সালে লিওঁ থেকে মাদ্রিদে যোগ দেওয়া বেনজেমা এই প্রথম লা লিগায় টানা দুই মৌসুমে ২০ বা তার বেশি গোল করলেন। গত মৌসুমে করেছিলেন ২১টি। স্পষ্টতই, সময়টা ভালো যাচ্ছে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি।

 

অনেকেই বলছেন, এবার যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য পায় রিয়াল, তবে বেনজেমার ব্যালন ডি’অর পাওয়া কেউ আটকাতে পারবেন না।

 

মূলত এবারের লিগে রিয়ালের আক্রমণভাগ একাই টেনেছেন বেনজেমা। গোলও করেছেন। মেসির (২৩) পরেই লিগে সর্বোচ্চ গোল তাঁর।

 

শুধু গোল করাই নয়, ভিনিসিয়ুস, রড্রিগোদের গোল বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে রিয়ালের আক্রশন বেনজেমাকে ঘিরেই গড়ে ওঠেছে। তিনিই যেন হয়ে ওঠেছিলেন মধ্যমণি।

শেয়ার করুন :