মা শ্রীলঙ্কান, ছেলে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার! মা শ্রীলঙ্কান, ছেলে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার! – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: ইমরান তাহির। পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এই স্পিনার খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে। ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত পেসার জোফ্রা আর্চার খেলেন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে। আয়াল্যান্ডের ইয়ন মর্গান ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলছেন।

 

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় এরকম উদাহরণ আরো অনেক আছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটা বিরলই বটে।

 

ব্যতিক্রম শুধু সাইফ হাসান। এই ওপেনারের বাবা বাংলাদেশি হলেও মা শ্রীলঙ্কান।

 

গেল বছরের শেষ দিকে ভারত সফরে যায় বাংলাদেশ। দুটি টেস্ট ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পড়ে সাইফ হাসানের। যদিও অভিষেকটা হয়নি।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিণ্ডিতে টেস্টে অভিষেক ঘটে সাইফ হাসানের। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও খেলেছেন একটি ম্যাচ। যদিও শুরুটা তাঁর ভালো হয়নি। দুই টেস্টের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ১৬ রানের।

 

কিন্তু ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে বাতিলের খাতায় ফেলছে না বাংলাদেশ। তিনি আছেন দলের ভাবনায়।

 

সাইফ হাসানকে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই মনে করা হতো ভবিষ্যতের টেস্ট ব্যাটসম্যান। দুটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন, যার একটিতে নিজেই ছিলেন অধিনায়ক। ইমার্জিং দল, ‘এ’ দল, ঘরোয়া ক্রিকেট সবখানে রান করেছেন সাইফ। তাঁকে নিয়ে তাই পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের।

 

সামনে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবেন মুমিনুল হক-তামিম ইকবালরা। অক্টোবরের ২৪ তারিখ থেকে লঙ্কানদের বিপক্ষে শুরু হবে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন সাইফ হাসান। দলে জায়গা পাওয়ার আশায় আছেন এই ওপেনার।

 

যদি সাইফ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে সুযোগ পান, তবে সেটি হবে ‘মাতৃভূমি’র (মায়ের দেশের) বিপক্ষে তাঁর টেস্ট খেলা।

 

সাইফ হাসানের বাবা হাসান রেজা চাকরি করতেন সৌদি আরবে। সেখানেই শ্রীলঙ্কান এক মেয়ের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। সেই প্রণয় রূপ নেয় বিয়েতে। শ্রীলঙ্কা তরুণী খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

 

১৯৯৫ সালে বিয়ের পর ১৯৯৮ সালে স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরেন হাসান রেজা। দেশে জন্মগ্রহণ করেন সাইফ হাসান।

 

পরশু ফিরছেন সাকিব

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ এইচপির সিরিজ শুরু ১৬ অক্টোবর

 

সাইফের মায়ের আত্মীয়স্বজন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে খানিকটা দূরের এলাকায় বসবাস করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলতে গিয়ে সেই আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করেছিলেন সাইফ।

 

সাইফ সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, ‘আমার মায়ের বাড়ির কয়েকজন আত্মীয় কলম্বো থেকে কিছুটা দূরে থাকেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে আমি তাদের কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তারা আমাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন।’

 

সেটা ২০১৬ সালের কথা। যুব এশিয়া কাপ খেলতেই লঙ্কায় গিয়েছিলেন সাইফ। ওই সফরেই মায়ের পক্ষের আত্মীয়দের সাথে সাইফের দেখা হওয়ার পর তাঁর মায়ের সাথে তাঁদের দূরত্ব অনেকটাই কমে আসে।

 

জন্মের কিছুদিন পর বাবার সাথে থাকতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সাইফ হাসান। সেখানে ছিলেন বছর দশেক। ক্রিকেটের সাথে তাঁর হাতেখড়ি আরবের দেশটিতেই। সেখানে টেপ টেনিস দিয়ে খেলতেন।

 

দেশে ফেরার পর ক্রিকেটে মনোযোগ দেন। প্রতিভা দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ক্যাম্পে ডাক পান। পরে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক হন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ পেরিয়ে খেলেন ‘এ’ দল, ইমার্জিং দলে। সবশেষ ঠিকানা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন জাতীয় দলেও। এখন সাইফের চোখে বহূদরের পথ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন।

শেয়ার করুন :