ব্র্যাথওয়েট: বিশ্বকাপ ফাইনালে হৃদয়জয়ী নায়ক ব্র্যাথওয়েট: বিশ্বকাপ ফাইনালে হৃদয়জয়ী নায়ক – SportsTour24

মান্না চৌধুরী :: আরেকটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন সামনে দাঁড়িয়ে, তখন গত আসরের নায়কের ছবি ভাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কারণ, কাল (১৯ জুলাই) ছিল তাঁর জন্মদিন। এজন্যই ভক্ত, ক্রিকেট পিপাসুদের শুভেচ্ছায়,ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট।

 

তাঁর এই শুভ দিনে কেউ একজন হয়তো মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই দিনের কথা, ঐতিহাসিক ইনিংসের কথা। স্ত্রী,সন্তান কিংবা বন্ধুদের কেউ। এ এমন সুখস্মৃতি যেটা মনে করে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার! তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনে শক্তি,সাহস বারবার দেখানোর প্রয়োজন নেই। একবার বুক চিতিয়ে দাঁড়াও, দেখিয়ে দাও সামর্থ্যের সবটুকু। মানুষ মনে রাখবে অনেক দিন।

 

কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ভাগ্যবান। বিশ্ব আসরের ফাইনালে নায়ক হতে পারার চেয়ে গৌরবের আর কী আছে! তাও যেভাবে অসম্ভবকে অবিশ্বাস্য কীর্তিতে সম্ভব করেছেন, তিনি তো নায়কের চেয়েও বেশি কিছু! আমার মতো পাড়া গাঁয়ের সাংবাদিকও কী কম ভাগ্যবান? ব্র্যাথওয়েট সবুজ গালিচায় শিল্প রচনা করছেন, তাঁর মাথার ওপরের প্রেসবক্সে বসে আমি তা উপভোগ করছি! এখনো কেমন অবিশ্বাস্য লাগে। স্বপ্নের মতো মনে হয় সেদিনের স্মৃতি।

 

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগের যে হিসেব তাঁর সবই ভারতকে নিয়ে। পাকিস্তানকে উড়িয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উড়ে গিয়েও ভারতীয়দের বিশ্বাসে টান পড়ে না। আমাদের মাটিতে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো! কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে সোনালী দিন ফিরে পাওয়ার ফেরিওয়ালা। তাই হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ভারতের ডেরায় এসেও তাঁরা ভয়ডরহীন। সাহস আর সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা দেখিয়ে ভারতকে হারিয়েই ফাইনালে! এদিকে সব বাধা পেরিয়ে মরগ্যানের ইংল্যান্ড ইডেনের শিরোপা মঞ্চে। ভাঙা মন নিয়েই ভারতীয়রা ইডেনে। কানায় কানায় পূর্ণ ৬৮ হাজারের গ্যালারি! প্রথমে ব্যাটিং করে ১৫৫ রানের চ্যলেঞ্জ দেয় ইংল্যান্ড।

 

লক্ষ্যটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কঠিন নয়, আবার সহজও নয়। টি-টোয়েন্টি বলে একটু ভরসা পান ড্যারেন স্যামি। কিন্তু ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট যে শুরুতেই শেষ করে দিলেন সব। এক ওভারে নিলেন দুই উইকেট! ভয়ংকর ক্রিস গেইলসহ ১১ রানেই উইন্ডিজের তিন উইকেট শেষ! মারলন স্যামুয়েলস অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রাখলেন। তবে অন্যপ্রান্তে যোগ্য সঙ্গীর অভাব। ১০৭ রানে ৬ উইকেট নেই। শেষে এসে যে সমীকরণ তাতে মরগ্যানের হাতেই ট্রফি তুলে দিয়েছেন সাংবাদিক, দর্শক সবাই।

 

ছয় বলে ১৯ রান দরকার উইন্ডিজের। ইংল্যান্ডকে জয়ী ধরে প্রেসবক্সে সাংবাদিকরা কলম (পড়ুন কি-বোর্ড) চালিয়েছেন আগেই। ইন্ট্রোটা প্রায় শেষ। নিউজের বাকি অংশের জন্যই কেবল অপেক্ষা। কিন্তু কার্লোস ব্র্যাথওয়েট দিলেন সব ওলট-পালট করে! বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারের চার বলে চার ছক্কা!

 

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ অংশে এত রোমাঞ্চ! প্রেসবক্সে থেকেও বিশ্বাস হয় না। গ্যালারিতে দর্শক একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে, প্রেসবক্সে সাংবাদিকদেরও একই অবস্থা। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি এও সম্ভব?! ব্র্যাথওয়েটের আকাশে ওড়ার চেষ্টা দেখে, ড্যারেন ব্র্যাভোর নাচ দেখে ঘোর কাটে। সত্যিই তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়ন!

 

অবিশ্বাস্যভাবে জিতিয়ে দিয়েও ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের হাতে উঠেনি, উঠে মারলন স্যামুয়েলসের হাতে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতার চেয়ে মানুষের হৃদয় জেতা কী কম কিছু? হৃদয় জিতেছেন বলেই তো বাংলাদেশ থেকেও জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’।

 

খানিকটা দেরিতে হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ককে শুভেচ্ছা।

শেয়ার করুন :