বিশ্বকাপ বাছাই: বাংলাদেশ দল নিয়ে জেমির যতো ভাবনা বিশ্বকাপ বাছাই: বাংলাদেশ দল নিয়ে জেমির যতো ভাবনা – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: কাতার বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ বাকি চারটি। ওই ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে কাল রোববার ৩৬ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

 

এই প্রাথমিক দল নিয়ে আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে একটি রিসোর্টে শুরু হবে ক্যাম্প। জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে ক্যাম্প থেকে বেছে নেবেন ২৪ সদস্যের স্কোয়াড।

 

প্রাথমিক দল ঘোষণার পর আজ সোমবার ইংল্যান্ড থেকে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করেন জেমি ডে। সেখানে জাতীয় দল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই ইংলিশ কোচ।

 

প্রাথমিক দল প্রসঙ্গে জেমি ডে বলেন, ‘তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটেছে এবারের স্কোয়াডে। নতুন যে চার জন ডাক পেয়েছে, তারা লিগে নিজেদের প্রমাণ করেছে। এখান থেকে ২৪ জনের স্কোয়াড রাখা হবে। সাধারণত ২৩ জনের স্কোয়াড করা হয়, তবে চোটের বিষয়টি মাথায় রেখে হয়তো একজন বেশি থাকবে।’

 

‘দলে নতুন যে চার জনকে ডাকা হয়েছে, তাদের খেলা আমি দেখেছি। প্রথমত এই চার জনকে ফিটনেস ধরে রেখে ট্রেনিংয়ের প্রাথমিক পর্যায় শেষ করতে হবে। এখন বাকিটা তাদের ওপর।’

 

চোট কাটিয়ে দীর্ঘ দিন পর দলে ফিরেছেন তিন মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি, আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। তাঁদেরকে দলে জায়গা পেতে প্রমাণ করতে হবে, এমনটাই ইঙ্গিত জেমির, ‘জনি আর ফাহাদ জাতীয় দলে আগেও ভালো করেছে। ওদের ফিরে পেয়ে ভালো হয়েছে। ওরা লম্বা সময় খেলার বাইরে ছিল। আমি জানি ফাহাদ বসুন্ধরার সঙ্গে ছিল, কিন্তু কোনো ম্যাচ খেলেনি। জনি কেবল ফিরল। ক্যাম্পে বোঝা যাবে ওদের বর্তমান অবস্থা কেমন। ক্যাম্পে ভালো করলে স্কোয়াডে থাকবে। নতুনদের মতোই তাদের জায়গা করে নিতে হবে দলে।’

 

জেমি ডে বলছেন, বাংলাদেশ দলে ঢুকতে ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দরকার।

 

‘আমাদের দলে প্রতিযোগিতা দরকার। প্রতি পজিশনে দুই জন বা তিন জন খেলোয়াড় আমরা সবসময়ই রেখেছি। এবার আমাদের দলে এবার অনেক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আছে। এটা সম্ভবত আমার সেরা দলই। এখন এখান থেকে ২৪, এরপর একাদশে ঢোকার চেষ্টা করতে হবে খেলোয়াড়দের।’

 

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রাথমিক দলে ফিনল্যান্ড প্রবাসী

 

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের বাংলাদেশের ম্যাচ ৮ ও ১৩ অক্টোবর এবং ১২ ও ১৭ নভেম্বর। এরই মাঝে অক্টোবরের ২৩ তারিখ থেকে মালদ্বীপে শুরু হবে বসুন্ধরা কিংসের এএফসি কাপের বাকি পাঁচটি ম্যাচ। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়াদের সিংহভাগই (১৪ জন) বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়। এ নিয়ে ঝামেলা হতে পারে কী-না?

 

জেমি বলছেন, ‘বসুন্ধরা কিংসে জাতীয় দলের অনেকে খেলোয়াড় আছে। একই সময় যেহেতু ম্যাচ পড়েছে, তাই একটা সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তবে আমি অস্কারের (বসুন্ধরার কোচ) সঙ্গে কথা বলব। আশা করি এই নিয়ে তেমন কোনো ঝামেলা হবে না।’

 

অক্টোবর-নভেম্বরে কিছু দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে হবে জাতীয় দল ও বসুন্ধরার খেলোয়াড়দের। এটি ‘আদর্শ পরিস্থিতি’ নয় বলে মন্তব্য বাংলাদেশ দলের কোচের, ‘এটা তো আদর্শ কোনো পরিস্থিতি নয়। বসুন্ধরার জন্যও না, জাতীয় দলের জন্যও না। এতো অল্প সময়ে এতোগুলো ম্যাচ খেললে তাদের কাছ থেকে সেরাটা আশা করা কঠিন। এসব মাথায় রেখে আমাদের ট্রেনিং সেশনগুলো সাজানো হবে। দরকার হলে বিশ্রাম দিয়ে ট্রেনিং করানো হবে।’

 

বিশ্বকাপ বাছাইকে সামনে রেখে ৬ সপ্তাহের ক্যাম্প, এটা কী যথেষ্ট? জেমি ডে বলছেন, ‘আপনি যদি পুরো পৃথিবীর দিকে তাকান, যেমন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোও প্রাক মৌসুমে ৬ সপ্তাহ ট্রেনিং করে মাঠে খেলতে নেমে যায়। ভারত সেপ্টেম্বরে ক্যাম্প শুরু করবে। ওদের ম্যানেজার বিশ্বকাপও খেলেছেন, প্রাক মৌসুমে কী করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা আছে।’

 

‘১৫ সপ্তাহ ধরে ট্রেনিং করার মানে হয় না। শুধু আমার জন্য নয়, পৃথিবীর সব কোচের জন্যই ৬ সপ্তাহ যথেষ্ট সময় যদি কাজে লাগানো যায়। যদি আপনার ভালো পিচ থাকে, ভালো জিম থাকে- এই ৬ সপ্তাহই যথেষ্ট। এখানে একটাই সমস্যা যে, প্রীতি ম্যাচ হয়তো আমাদের খেলা হবে না।’

 

খেলোয়াড়দের ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন ইংলিশ কোচ, ‘খেলোয়াড়রা যদি ওজন বাড়িয়ে আসে তাহলে তাকে বিবেচনা করা হবে না। তবে আমি আশা করব খেলোয়াড়রা ভালো শেপে ট্রেনিংয়ে যোগ দেবে। গত ৩ মাসে তারা আমাকে তাদের ট্রেনিং সেশনের ভিডিও পাঠিয়েছে নিয়মিত, তাদের ওজন, ডায়েট চার্ট সম্পর্কেও আমরা অবগত। তারা দারুণ করেছে, আমার বিশ্বাস তারা নিয়ম মেনে চলেছে। দুই সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের পর আমার মনে হয় বাকি যে ঝামেলাগুলো আছে সেগুলো কাটিয়ে উঠবে ওরা।’

 

বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে ফিনল্যান্ড প্রবাসী কাজী তারিক রায়হান ডাক পেয়েছেন। তবে নতুন করে কোনো প্রবাসী ফুটবলার খোঁজা হচ্ছে না বলেই জানালেন জেমি ডে, ‘ইউরোপ থেকে এই মুহুর্তে আর খেলোয়াড় নেওয়া হচ্ছে না। যেহেতু ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন (ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা) আছে। একেবারে নতুন কাউকে দলে নেওয়ার আগে তাদের খেলা আমার দেখতে হবে। সেটা এই মুহুর্তেই সম্ভব হচ্ছে না। আর তারা যেহেতু বাংলাদেশে লিগ খেলে না, তাই নানান জটিলতাও আছে। আপাতত নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত অন্য কাউকে দলে ডাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’

 

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী ৮ অক্টোবর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লড়বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

শেয়ার করুন :