বাফুফে নির্বাচন: সমন্বয় পরিষদের ইশতেহারে যা আছে বাফুফে নির্বাচন: সমন্বয় পরিষদের ইশতেহারে যা আছে – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনের বাকি মাত্র একদিন। এই একেবারে শেষমুহুর্তে এসে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে সমন্বয় পরিষদ। শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল ২৪ দফা ইশতেহার দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করে সমন্বয় পরিষদ।

 

এর আগে কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ৩৬ দফা এবং সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।

 

সমন্বয় পরিষদ সভাপতি এবং চার সহ-সভাপতি পদের একটি ছাড়া বাকি ১৯টি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সম্মিলিত পরিষদ ২১টি পদেই প্রার্থী দিয়েছে।

 

আজ অনুষ্ঠানে সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ মহি নিজেদের ইশতেহার প্রকাশ করেন।

 

ইশতেহারের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুসারে ফুটবলকে ঘিরে ১২ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

সমন্বয় পরিষদ বলছে, তাঁরা জেলা, উপজেলায় নিয়মিত লিগ আয়োজন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজন, সোহরাওয়ার্দী কাপ, শেরে বাংলা কাপ আয়োজন, প্রিমিয়ার লিগ কাঠামো ঢেলে সাজানো, অন্যান্য লিগ পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান, প্রত্যেক জেলা লিগ চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে শেখ রাসেলের নামে জাতীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করবেন।

 

ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবলে সহযোগিতা প্রদান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বয়স যাচাই ঝামেলা এড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের একক রেজিস্ট্রেশন প্রথার আওতায় আনা, আন্তঃস্কুল, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা, সারাদেশের ক্লাবগুলোকে আর্থিক সাহায্য, অফিস ও কর্পোরেট লিগ আয়োজন করা হবে।

 

এছাড়া জাতীয় দলের জন্য ৪, ৮ ও ১২ বছর মেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ও খেলোয়াড়দের ইন্স্যুরেন্স পলিসির আওতায় আনা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও ইশতেহারে উল্লেখ করেছে সমন্বয় পরিষদ।

 

পরিষদের ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য ফিরিয়ে আনা, ভালোমানের দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও শেখ কামাল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা, মেয়েদের ফুটবল লিগ নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা, বয়সভিত্তিক দল ও জাতীয় দল আলাদা করে গঠনের উদ্যোগ, জিম স্থাপন, একটি আর্কাইভ তৈরি করে তাতে অতীত ও বর্তমানের সব খেলোয়াড়ের রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা করে সবকিছু সবাইকে জানানো হবে।

 

তবে সমন্বয় পরিষদে সভাপতি পদে প্রার্থী না থাকা নিয়ে অনেক কথা ওঠছে। এ প্রসঙ্গে পরিষদের প্রধান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ‘যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই তাহলে আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব সেটাই তো হবে। তখন সভাপতি আমাদের কাজে তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবেন না। সভাপতি তো এককভাবে কিছু করতে পারবেন না।’

 

‘এ প্যানেলে জেলা ও বিভাগের মানুষ রয়েছেন। তারা পরীক্ষিত সৈনিক। আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি আশা করি, কাউন্সিলররা পরীক্ষিত সৈনিকদেরই বেছেন নেবেন।’

 

সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী যাঁরা>>
সিনিয়র সহ-সভাপতি: শেখ মোহাম্মদ আসলাম।
সহ-সভাপতি: মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও এসএম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।

 

কার্যনির্বাহী সদস্য: আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, মহিদুর রহমান মিরাজ, মনজুরুল আহসান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, আমের খান, হাজি মো. টিপু সুলতান, আরিফ হোসেন মুন, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ মুস্তাক আলী মুকুল, মিজানুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু ও শাকিল মাহমুদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন :