বাফুফে নির্বাচন: কেন সরে গেলেন বাদল রায়? বাফুফে নির্বাচন: কেন সরে গেলেন বাদল রায়? – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাদল রায়। তিনি সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছিলেন। তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধও হয়েছিল।

 

কিন্তু আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিকে তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তাঁর পক্ষে স্ত্রী মাধুরী রায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চিঠি বাফুফেতে জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্নও।

 

বাফুফে নির্বাচনের জন্য ২১টি পদের বিপরীতে ৪৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ শনিবার বিকাল ৫টা অবধি ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়।

 

বাফুফের গঠিত নির্বাচন কমিশন বিকাল ৫টায় জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়ে সদস্য পদে দুজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

 

সবাই তখন ধরে নেন, বাকি যেসব প্রার্থী আছেন, তাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু নাটকীয় মোড় এলো এর পরই।

 

সন্ধ্যা ৬টার দিকে সভাপতি প্রার্থী বাদল রায়ের স্ত্রী মাধুরী রায় ছুটে আসেন বাফুফে ভবনে। সেখানে তখন চাপা গুঞ্জন। সেই গুঞ্জনই শেষ অবধি সত্যি হয়।

 

মাধুরী রায় তাঁর স্বামীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চিঠি জমা দেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগের কাছে।

 

হুট করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে কেন সরে গেলেন বাদল রায়?
সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নে তাঁর স্ত্রী মাধুরী রায় বলেন, ‘সে ফুটবলের জন্য কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন দেখছি তার শরীর আসলে ভালো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যের অনেক অবনতি হয়েছে। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। আমার পরিবার, ছেলে-মেয়ে এবং যারা ওর শুভাকাঙ্ক্ষী, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে (বাদল রায়) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবে। সে জন্য প্রত্যাহার করতে এসেছি।’

 

শুধুই কী অসুস্থতা, নাকি এর পেছনে আছে চাপও?
এমন প্রশ্নে মাধুরী রায় বলেন, ‘কোনো দিক দিয়ে কোনো চাপ ছিল না। নির্বাচন করতে গেলে অনেক চাপ আসবে, সেটা আসলে শারীরিক চাপ। ক্যাম্পেইন করা, লোকজনের সঙ্গে কথা বলা। নির্বাচন করতে গেলে ওর (বাদল রায়) শরীর আরও খারাপ হতো। সে জন্যই প্রত্যাহার করা। অন্য কোনো চাপ আসছিল কী-না, তা জানি না।’

 

বাফুফের সর্বশেষ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ছিলেন বাদল রায়। জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাফুফে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াটাই সর্বোত্তম মনে করি। অতএব, এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

 

কিন্তু বাদল রায় সরে যেতে চাইলেও তিনি কী পারবেন? কারণ, নিয়ম অনুসারে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল বিকাল ৫টা। এ সময়ের মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন নি। ফলে নিয়ম অনুসারেই তাঁর নাম প্রত্যাহার হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে নির্বাচনের ব্যালটে প্রার্থী তালিকায় থাকতে পারে বাদল রায়ের নামও।

 

এ প্রসঙ্গে বাদল রায়ের স্ত্রী বলেন, ‘যদি তার (বাদল রায়) নাম ব্যালট পেপারে থাকেও, তবু তাকে ভোট না দেয়ার জন্য আমি কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন :