বাফুফে নির্বাচন: এক ভোট নিয়ে মানিকের বড় প্রশ্ন বাফুফে নির্বাচন: এক ভোট নিয়ে মানিকের বড় প্রশ্ন – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন হয়েছে গেল ৩ অক্টোবর। নির্বাচনে সভাপতি পদে টানা চতুর্থবারের মতো কাজী মো. সালাউদ্দিন হয়েছেন সভাপতি। আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী বাদল রায় পেয়েছেন ৪০ ভোট। কিন্তু সবাইকে অবাক করে শফিকুল ইসলাম মানিকের বাক্সে যায় মাত্র ১ ভোট!

 

সভাপতি প্রার্থী মানিক এই এক ভোট পাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ, হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন।

 

কাজী সালাউদ্দিনের বিপক্ষে পরিবর্তনের ডাক নিয়ে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক। তিনি নির্বাচনের জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপও করেছেন।

 

অন্যদিকে বাদল রায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সরে দাঁড়ান নির্বাচন থেকে। আর ভোটের ঠিক আগের রাতে ফের নিজের পক্ষে ভোট চান।

 

মানিক নির্বাচনের পুরোটা সময় পরিশ্রম করে পেলেন মাত্র এক ভোট, অথচ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বাদল রায় আগের রাতে ফিরে পেলেন ৪০ ভোট। এটা নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

 

বিস্মিত শফিকুল ইসলাম মানিক নিজেও। আজ সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে দেশের স্পোর্টস যে জায়গায় চলে গেছে তাতে যারা প্রকৃত সংগঠক আসতে পারবেন কী-না সেটা প্রশ্ন। এ নির্বাচনটা একটা দৃষ্টান্ত। সভাপতির ১২ বছরের কর্মকান্ড সবাই বলেছেন ব্যর্থ। কিন্তু এ মুহূর্তে তারা ব্যর্থ বলছেন না।’

 

‘আমি নির্বাচন করেছি; কিন্তু আমাকে সব সুযোগ দেওয়া হয়নি। এজিএম শেষে সবকিছু নির্বাচন কমিশনারের অধীনে যায়। আমিও একজন প্রার্থী। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। আমি বাইরে, অন্য প্রার্থীরা ভেতরে- এটা ঠিক হলো না। আমার তো সমঅধিকার থাকবে। ভোটিংয়ের সময় তারা ছিলেন। গণনার সময় গিয়েছিলাম ভেতরে। দুর্ভাগ্যবশত আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে নানা অযুহাত দেখিয়ে।’

 

শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমি কীভাবে বুঝবো শূন্য, নাকি এক, নাকি দশ, নাকি পঞ্চাশ ভোট পেলাম? বাইরে সাপোর্টারের মতো থেকেছি। একজন প্রার্থী হিসেবে আমার যে অধিকার পাওয়ার তা পাইনি। নির্বাচনী বিধিমালায় ১০ নম্বরে বলা আছে প্রত্যক্ষভাবে ভোট গণনা দেখতে পাবেন প্রত্যেক প্রার্থী। তাহলে কেন আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে দেয়া হলো? আমি থাকলে কী হতো? আমি না থাকায় কী হয়েছে?’

 

বাফুফে নির্বাচনে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিকের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে। তবে সেই প্রার্থীর পক্ষে অবশ্যই একজন ভোটারকে প্রস্তাবক ও আরেকজন ভোটারকে সমর্থক হতে হবে। মানিকের পক্ষে এ দুই ভোটার প্রস্তাবক ও সমর্থক ছিলেন।

 

মানিক নিজে ভোটার নন। তিনি পেয়েছেন এক ভোট। তাহলে প্রস্তাবক ও সমর্থকরাই কী তাঁকে ভোট দেননি? নাকি একজন দিয়েছেন, অপরজন দেননি?

 

শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘এখন আমার একটা ভোট। আমি এতো কাজ করেছি একটা ভোটের জন্য? নিশ্চয়ই না। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকে আমাকে আশা দিয়েছেন। মনে করলাম উনারা সবাই সচেতন। এখন মনে হচ্ছে যিনি অসচেতন, এমন একজন মানুষ আমাকে ভোটটা দিয়েছেন। কে দিলেন সেটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তাই আমি আমি ধরে নিচ্ছি ১৩৫ জনই আমাকে ভোট দিয়েছেন।’

 

‘অর্থ এখানে বড় জিনিস। এটা দুঃখজনক। এটা মনে করি বিবেকের কাছে পরাজিত হয়েছে মানুষ। অনেকে বলেছেন আমি ব্যর্থ হয়েছি। আসলে আমি ব্যর্থ হইনি। ফুটবল ব্যর্থ হয়েছে।’

 

মানিকের দাবি, অনেকেই তাঁকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। এখন তাহলে সেই ভোট গেল কোথায়?

 

‘এখানে অনেক কাউন্সিলর (ভোটার) আছেন আমার খেলোয়াড়। আমার অধীনে যারা খেলেছেন এমন কাউন্সিলরও আছেন অনেকে। আমার সহকর্মীরাও আছেন। কেউ কি আমাকে ভোট দেয়নি? কেউ আমাকে যোগ্য মনে করেনি? প্রশ্ন এই জায়গায়। একজন কাউন্সিলরের কথা বলবো, আজ থেকে ২০ বছর আগে আমি ওর খেলা দেখে ৫০ টাকা দিয়েছিলাম গোল করেছিল বলে। সে আমাকে কথা দিয়েছিল ভোট দেবে। টপ লেভেলের কাউন্সিলর বলেছিলেন, তুমি ভোট চাওনি কিন্তু আমি তোমাকে কনফার্ম করলাম ভোট তোমাকে দেবো। এই ভোটগুলো কোথায় গেল! আমি আশ্চর্য হয়েছি।’

শেয়ার করুন :