বাংলাদেশের গোলরক্ষকদের ‘সাহস বাড়াতে’ চান ক্লিভেলি বাংলাদেশের গোলরক্ষকদের ‘সাহস বাড়াতে’ চান ক্লিভেলি – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: চলতি মাসেই ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখেই গেল ২৩ অক্টোবর শুরু হয় জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প। শুরুতে ক্যাম্পে না থাকা কোচ জেমি ডে ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফেরেন ২৯ অক্টোবর। তার সাথে ঢাকায় আসেন সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস আর নতুন গোলকিপিং কোচ লেস ক্লিভেলি।

 

নেপালের বিপক্ষে ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ম্যাচ দুটির জন্য বাংলাদেশে যে প্রাথমিক দল অনুশীলন করছে, সেখানে থাকা চার গোলরক্ষককে নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন ক্লিভেলি।

 

নতুন এই গোলকিপিং কোচ বলছেন, শুরুতে টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তিনি। আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকো, শহীদুল আলম সোহেল ও পাপ্পু হোসেনদেন ‘সাহস বাড়াতে’ চলছে কাজ।

 

আজ রোববার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের লেস ক্লিভেলি বলেন, ‘টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করছি। গোলকিপারদের সাহস বাড়ানোর চেষ্টা করছি, যাতে ভড়কে গিয়ে তারা ভুল না করে।’

 

‘যদি গোলকিপারদের আত্মবিশ্বাসী করা যায়, স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা শেখানো যায় এবং টেকনিক্যাল সামর্থ্য বাড়ানো যায়, তাহলে তারা আরও কম ভুল করবে। ছেলেদের মনোযোগ বাড়ানোর জন্যও আমাদের কাজ করা দরকার। এটা করতে পারলে তারা আরও সাচ্ছ্বন্দ্যবোধ করবে।’

 

এর আগে জাতীয় দলে বিদেশি গোলকিপিং কোচ হিসেবে কাজ করে গেছেন ববি মিমস। এবার এলেন লেস ক্লিভেলি। এই ইংলিশ কোচ বেশ অভিজ্ঞ।

 

ক্লিভেলির লিংকডইন (প্রফেশনালদের যোগাযোগমাধ্যম) আইডিতে উল্লেখ আছে, খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি প্রিমিয়ার লিগের দল ক্রিস্টাল প্যালেসের গোলরক্ষক ছিলেন। পরে দুই বছরের বেশি সময় ছিলেন টটেনহাম হটস্পারের গোলকিপিং কোচ।

 

উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী লেস ক্লিভেলি চেলসির একাডেমি এবং রিজার্ভ বেঞ্চের গোলকিপিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ২০০৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রয়োজন পড়লে সহায়তা করেছেন মূল দলকেও।

 

২০১৩ সালে ‘লন্ডন সিলেক্ট ফুটবল’ নামে একটি একাডেমির প্রতিষ্ঠা করে হেড কোচ হিসেবে এখনও আছেন ক্লিভেলি। এরই মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের।

 

ববি মিমসের পর এই অভিজ্ঞ কোচের সান্নিধ্য পাওয়া আশরাফুল ইসলাম রানা বলছিলেন, ‘একেকজন কোচ একেক রকম দর্শন নিয়ে কাজ করবে। তিনি যেহেতু বড় বড় জায়গায় কাজ করেছেন, বড় বড় জায়গায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে, সেহেতু সেগুলো আমাদেরকে সঙ্গে শেয়ার করবেন। প্রথম দিনে আমাদের সঙ্গে বসে এ কথাগুলো বলেছেন তিনি।’

 

‘আসলে নতুনত্ব বলতে, জাতীয় দলে শেষ কয়েকটা বছর আমরা বড়-বড় গোলকিপিং কোচের সঙ্গে কাজ করেছি। এর আগে ববি ছিলেন। ববির কাজের ধরন ছিল একরকম। ক্লিভেলির সঙ্গে যেহেতু প্রথম কাজ করছি, প্রথম দিনে তিনি মূলত আমাদের বেসিক বিষয় এবং টেকনিক নিয়ে কাজ করেছেন।’

 

রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গোলরক্ষকদের হাতে ওজন দিয়ে ভিন্নরকম এক অনুশীলন সেশন করতে দেখা যায় লেস ক্লিভেলিকে।

 

এই অনুশীলন নিয়ে রানা বলেন, ‘মূলত এটা ফান ট্রেনিংয়ের মতোই। আমাদের হাতে ওয়েট দিয়ে রাখছেন। সেখান থেকে আমরা যেন নিজেদের প্রেসারাইজ করে বলটার দিকে ফোকাস রাখতে পারি। অনেক ক্ষেত্রে জটলার মধ্যে তিন-চারজন খেলোয়াড়কে পুশ করে আমাদের বলের কাছে যেতে হয়..তখন খুব চাপ দিতে হয়। সে জন্যই এই অনুশীলন।’

শেয়ার করুন :