‘বাংলাদেশের ক্রিকেট পেছনে চলে গেছে’ ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট পেছনে চলে গেছে’ – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার (২৬ জুন)। ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসির কাছ থেকে এই মর্যাদা পেয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট।

 

এই ২০ বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ১১৯টি টেস্ট ম্যাচ। তাতে মাত্র ১৪টি জয়, ১৬টি ম্যাচ হয় ড্র। আর ৮৯টিতেই পরাজয়।

 

বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তিতে সাবের হোসেন চৌধুরীর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। ওই সময়ে (২০০০) তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান।

 

২০ বছর পর সাবের হোসেন চৌধুরী বলছেন, এই সময়ে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে এগোতে পারেনি। সামনে এগোনের বদলে পেছনে চলে গেছে।

 

ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সঞ্চালনায় ‘নট আউট নোমান’ শীর্ষক লাইভে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন বিসিবির সাবেক এই প্রধান।

 

২০ বছরের টেস্টযাত্রা মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীর বলেন, ‘দেখুন, এটাকে দুই ভাবে করা যায়। একটা হচ্ছে, আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত দেব, বিশ্লেষণ করবো। আমার মনে হয় সবার আগে পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো উচিত। কারণ, আমি আমার মতামত ব্যক্ত করলাম, তা নিয়ে কোনো কথা ওঠতেই পারে। আরেকজন এসে বলল যে, এটা ঠিক না। কিন্তু আমি যদি পরিসংখ্যান ঘেটে, পরিসংখ্যানের আলোকে কোনো কথা বলি তাহলে তো আর কথা ওঠার সুযোগ নেই। কারণ, পরিসংখ্যান তো কোনো মিথ্যা তথ্য দেবে না।’

 

‘যদি পরিসংখ্যানের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন আমরা ২০ বছরে ১১৯ টেস্ট খেলে জিতেছি মোটে ১৪টিতে। তার মানে বছরে একটি টেস্টও জেতা সম্ভব হয়নি, ৮৯ টেস্ট হেরেছি। আবার যদি ওই ১৪ জয়ের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন সাতটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বিশ্ব ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের অবস্থান তো এখন ভালো না। এখানে আমাদের অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের সাথে একটি করে টেস্ট জয় আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও চারটি টেস্ট জয় আছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জিতেছি আমরা। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এখনও টেস্ট জয় ধরা দেয়নি, গর্বেরও কিছু নেই।’

 

টেস্ট মর্যাদার ২০ বছর: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?

 

২০ বছর আগের তুলনায় এখন সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। শুরুতে যে নড়বড়ে ভিত ছিল, এখন তা অনেক শক্ত। কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই। কিন্তু সে তুলনায় ক্রিকেট এগোতে পারেনি বলে মনে করছেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

 

‘আমি সার্বিক অবস্থার আলোকে বিশ্লেষণ করলে বলব, আমরা মোটেই এগোতে পারিনি। এখন আমাদের প্রচুর অর্থ আছে। একসময় আমি, সৈয়দ আশরাফুল হক আর তানভীর মাজহার তান্না আমরা যে আইসিসির সভায় যোগ দিতে যেতাম, বোর্ডের সেই বিমান ভাড়া বহনের সামর্থ্য ছিল না। আমরা ব্যক্তিগত খরচে গিয়েছি। আমরা অনেকেই নিজের পকেট থেকে খরচ করতাম। জাতীয় দলের অনেক ট্যুরে যাওয়ার আগে আমাদের অনেকের কাছে টিকিট চেয়ে তারপর ক্রিকেটারদের পাঠাতে হতো।’

 

‘আমি ঠিক জানি না, তবে এখন হয়তো আমাদের ৩০০-৪০০ কোটি টাকা আছে বোর্ডের। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের বাজেট জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়েও বেশি। সরকারি সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সবার অকুণ্ঠ সমর্থন আছে। আমি যে এখন মূল্যায়ন করবো, তা কোন প্রেক্ষাপটে করবো? এখন আমার আর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমাদের কোচ নিয়োগ করতে হাজার কোটি টাকা খরচ করতেও বেগ পেতে হচ্ছে না।’

 

সাবের হোসেন চৌধুরী আরো যোগ করেন, ‘কাজেই ওই ভাবে যদি আমি দেখি, তাহলে এখন চূড়ান্ত কথা কী দাঁড়াচ্ছে? এখন যদি একটা স্কোরকার্ড দেখি, বিশ বছর আগে যে জায়গায় যাত্রা শুরু করেছিলাম, এখনও ঠিক সে জায়গাতেই আছি। আপনি যদি কয়েকটি টেবিলের দিকে তাকান, আইসিসির একটি টেবিল আছে, সেখানে নয়টা দেশকে দেখাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ সবার নিচে। আমাদের নিচে আর কেউ নেই। আবার ক্রিকইনফোর টেবিলে যান তাহলে দেখবেন আফগানিস্তানও আমাদের ওপরে। অর্থাৎ যে দেশটি মাত্র তিন বছর আগে টেস্ট স্ট্যাটাস পেল, যে দেশের জাতীয় পর্যায়ের কোনো কিছুই ঠিক নেই, যারা অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে, সন্ত্রাসবাদ তাদের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় সমস্যা। অর্থনৈতিক সমস্যা আর সুযোগ সুবিধার ঘাটতিও বেশ। তারপরও তিন বছরে মাথায় এসে বাংলাদেশের মাটিতে এসে তারা বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল! পয়েন্ট টেবিলে আফগানিস্তানও বাংলাদেশের ওপরে চলে গেছে।’

 

তিনি মনে করছেন, বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার বদলে পেছনে চলে গেছে। এটাকে তিনি ‘উদ্বেগের বিষয়’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

সাবের বলেন, ‘আসলে যদি আমরা দেখি, অবস্থানের দিক থেকে একই জায়গায় আছি আমরা। এগিয়ে যাওয়ার বিবেচনা করে যদি দেখি তাহলে দেখব আমরা এগোনোর বদলে আরও পেছনে চলে গেছি। সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’

শেয়ার করুন :