ফের বিতর্কে সাকিব ফের বিতর্কে সাকিব – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটিয় সামর্থ্যে প্রশ্ন তোলার লোক সম্ভবত নেই-ই! নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে এই বাঁহাতি হয়ে ওঠেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু মাঠের বাইরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের ঘটনায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাকিব। এবার আইসিসির নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই কোয়ারেন্টিনের নিয়ম-নীতি না মেনে ফের বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি।

 

সাকিব আল হাসান কখনো বোর্ড (বিসিবি) প্রধানের সাথে বিবাদ, কখনো সমর্থকের সাথে রূঢ় আচরণ, কখনো ম্যাচ চলাকালে ক্যামেরার সামনে অপ্রত্যাশিত আচরণ করে, আবার কখনো নির্বাচকদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে ঘিরে অনেক নেতিবাচক কাণ্ডই ঘটেছে।

 

সব বিতর্ক ছাপিয়ে গেল বছর সাকিব আলোচনায় আসেন আইসিসির নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে। তিন দফা জুয়াড়ির কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে সেটি না জানানোর কারণে গেল বছরের অক্টোবরে সাকিবকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। শাস্তির মেয়াদ আরো বাড়তে পারতো। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব দায় স্বীকার করায় ও তদন্তে সহযোগিতা করায় কিছুটা রক্ষা পান।

 

গেল ২৮ অক্টোবর সাকিবের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়। ওই সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাত ২টার খানিকটা পরে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

 

সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুসারে, বিদেশফেরত যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। কিন্তু সাকিব সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার গুলশানে একটি সুপারশপ উদ্বোধন করতে চলে যান!

 

সাকিব যে অনুষ্ঠানে ছিলেন, সেখানে মানুষের ভিড় ছিল। গা ঘেষাঘেষি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকেই। কারও কারও মুখে মাস্কও ছিল না। এমনকি একপর্যায়ে সাকিবকেও মাস্কবিহীন অবস্থায় দেখা গেছে।

 

দেশে ফিরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সাকিবকে এভাবে বাইরে বেরিয়ে চলাফেরা করতে দেখার ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সাকিবের মতো তারকাকে দেখে মানুষ ভালো কিছু শিখবে, অনুসরণ করবে। সেখানে সাকিব যদি নিয়ম না মানেন, তবে ভুল বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের কাছে।

 

বিদেশফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমানে সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি সাকিবের কাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

 

‘কোয়ারেন্টিন বিধি অনুযায়ী বিদেশ থেকে কেউ কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এলে তার ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা। নেগেটিভ সার্টিফিকেট না নিয়ে এলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা ১৪ দিন। সাকিব যদি নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়েও আসে, তাহলে হোম কোয়ারেন্টিনে তার থাকার কথা। জানি না সে কীভাবে এটা করল বা তার ব্যাখ্যা কী, আমি নিয়মটা বললাম।’

 

এ বিষয়ে সাকিব আল হাসানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সাকিবের ‘ব্যক্তিগত’ ব্যাপার নিয়ে মন্তব্য নেই বিসিবির।

 

‘ক্রিকেটাররা যখন বায়ো-বাবলে থাকে, তখন দেখভালের দায়িত্ব আমাদের। সাকিব তো বাবলে নেই। তার ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে আমাদের মন্তব্য নেই।’

 

গেল সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। পরে করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেগেটিভ ফল আসার পর বিকেএসপিতে অনুশীলন করেন। অক্টোবরের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। কিন্তু এবার দেশে এসে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালেন এই তারকা।

 

চলতি মাসে বিসিবির আয়োজনে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা। পাঁচটি দল খেলবে সেখানে। এর একটি দলে থাকবেন সাকিব। মূলত এ জন্যই তিনি দেশে ফিরেছেন।

 

কিন্তু দেশে ফিরেই জড়িয়ে গেছেন বিতর্কে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে গেল জুলাইয়ে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, ‘অবশ্যই এখন আমি যত পারি কম ভুল করার চেষ্টা করবো। আমি বিয়ে করেছি, আমার দুটি বাচ্চা আছে। আমি এখন খেলা এবং জীবনকে আরও ভালো করে বুঝতে পারি। এটা আমাকে বিশ বছর বয়সে আমি যেমন ছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও স্থির করেছে। আমি অনেকটাই বদলে গেছি। মানুষ এখন আর আমাকে বেশি ভুল করতে দেখবে না। দুই মেয়ে আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।’

 

অথচ নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েই ‘ভুল’ করে বসলেন তিনি!

শেয়ার করুন :