পিএসজিকে কাঁদিয়ে বায়ার্নের ষষ্ঠ শিরোপা পিএসজিকে কাঁদিয়ে বায়ার্নের ষষ্ঠ শিরোপা – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেমিফাইনালে দারুণ খেলা ডি মারিয়াও ব্যর্থ। নেইমার থাকলেন নিজের ছায়া হয়ে। গোলের খাতা তাই খুলতে পারলো না পিএসজি। বিপরীতে দারুণ এক সুযোগে গোল করলো বায়ার্ন মিউনিখ। সেই গোলই শেষ অবধি হয়ে গেল ফলাফল নির্ধারক। পুরো আসরে দুর্দান্ত খেলে চলা বায়ার্ন শেষটাও রাঙালো জয় দিয়ে।

 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন কিংসলে কোম্যান।

 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি বায়ার্নের ষষ্ঠ শিরোপা। ১১ বার ফাইনালে খেলে ছয়বারই উল্লাস করলো জার্মান ক্লাবটি।

 

এর মধ্য দিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের কীর্তি গড়লো বায়ার্ন। এ মৌসুমে তাঁরা বুন্দেসলিগা আর ডিএফবি পোকাল তথা লিগ কাপ জিতেছিল। এবার জিতলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগও।

 

বার্সেলোনার পরে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে দু’বার ট্রেবল জয়ের রেকর্ড এখন বায়ার্নের।

 

অন্যদিকে পিএসজি শিবিরে শুধুই হতাশা। স্বপ্নের ঘুড়ি আকাশে উড়িয়ে ফাইনালে খেলতে নেমেছিল ফরাসি ক্লাবটি। কিন্তু সেই স্বপ্নঘুড়ি ভূপাতিত হয়েছে ভূমিতে।

 

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠেও শিরোপা ছোঁয়া আর হলো না পিএসজির। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ৩৪ ম্যাচে গোল করার পর এই ফাইনালে এসে ব্যর্থ হলো তাঁরা।

 

ম্যাচ শেষে তাই নেইমার, এমবাপ্পেদের চোখের কোনে চিকচিক করলো নোনা জল।

 

বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হয় ফাইনাল। ১৮তম মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল পিএসজির সামনে। এমবাপ্পের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শট নিয়েছিলেণ নেইমার। কিন্তু পা বাড়িয়ে কোনো রকমে সেই শট ঠেকিয়ে দেন পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্য়য়ার।

 

২২তম মিনিটে রবার্ট লেভানডোভস্কির শট পিএসজির পোস্টে বাধা পায়। ঠিক পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠে পিএসজি। কিন্তু ডি-বক্সে থেকে, ভালো জায়গায় বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে সেটি উড়িয়ে মারেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া।

 

৩১তম মিনিটে পিএসজি ডিফেন্সে আতঙ্ক ছড়ায় বায়ার্ন। ছোট ডি-বক্সের বাইরে উড়ে আসা বলে ঠিকভাবে মাথা ছুঁয়াতে ব্যর্থ হন ‘গোলমেশিন’ লেভানডোভস্কি। দুই বারের চেষ্টায় বল হাতে জমান চোটের কারণে সেমিফাইনাল মিস করা কেইলর নাভাস।

 

মধ্য বিরতির ঠিক আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপ্পে। দুর্বল শটে বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে!

 

দ্বিতীয়ার্ধে মিনিটের ব্যবধানে দু’বার নেইমারকে ফাউল করেন বায়র্নের জিনাব্রি। এ নিয়ে ম্যাচে ছড়ায় উত্তেজনা। জিনাব্রির দিকে তেড়ে যান পেরদেস। জিনাব্রি আর পেরদেস দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

 

৫৯তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জসুয়া কিমিচের দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান কিংসলে কোম্যান। উল্লাসে মেতে ওঠে বায়ার্ন শিবির। এই উল্লাস বজায় থাকে শেষ অবধি।

 

এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের ৫০০তম গোল। এমন কীর্তি আছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার।

 

৭০তম মিনিটে ফের পিএসজিকে হতাশ করেন ন্যয়ার। মার্কিনিয়োসের শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন এই গোলরক্ষক। শেষ দিকে হয়েছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু গোলের দেখা আর পায়নি কোনো দলই।

 

প্রথমবার ফাইনালে ওঠে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন টমাস টুখেলের শিষ্যরা। বায়ার্ন শিবিরে তখন উড়ছিল আনন্দের ফল্গুধারা।

শেয়ার করুন :