পারভেজের চোখে সিলেটের ক্রিকেটের একাল-সেকাল পারভেজের চোখে সিলেটের ক্রিকেটের একাল-সেকাল – SportsTour24

মোহাম্মদ আফজাল :: সিলেটের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল তারকা ছিলেন পারভেজ আহমেদ। ক্রিকেটাঙ্গনে এক নামেই তাঁকে চিনে সবাই- ‘ভাইসাব’! ছোট-বড় সবার কাছেই ‘ভাইসাব’ হিসেবেই খ্যাত পারভেজ। এক সময়ের এই তারকা ব্যাটসম্যান দেশের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্কুল ক্রিকেট, সিলেট জেলা ক্রিকেট লিগের গন্ডি পেরিয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন জাতীয় পর্যায়ে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন দাপটের সাথে।

 

পারভেজ আহমেদ সিলেটের ক্রিকেটের উত্থান-পতন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সিলেট লিগে খেলেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের সাথে। এক সময় সিলেট লিগে খেলতেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতো তারকারা। পাশাপাশি বিদেশি ক্রিকেটারদের আনাগোনাও ছিল সিলেট লিগে। সিলেট লিগে খেলেছেন শ্রীলঙ্কান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা, কেনিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ টিকলোসহ উপমহাদেশের অনেক তারকা ক্রিকেটার।

 

সিলেটের ক্রিকেট পুরনো সেই জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। গেল কয়েক বছর ধরে বিদেশি খেলোয়াড় তো দূরের কথা জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণেরও অনুমতি ছিল না। এর মদ্যে ২০১৮-১৯ মৌসুমে সেই প্রথা কিছুটা শিথিল হয়েছিল, সিলেট লিগে দেখা গিয়েছিল জাতীয় পর্যায়ের তারকা ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, নাসির হোসাইন ও আফিফ হোসাইন ধ্রুবদের।

 

সিলেট লিগে যেমন জেলার বাইরের ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি মেলে না, তেমনি লিগ আয়োজন নিয়েও হয় টালবাহানা। শুষ্ক মৌসুম পেরিয়ে গেলে, ফুটবল মৌসুমে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট লিগে। তার উপরে মাঠ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আছে দুটানা।

 

একটা সময় ছিল সিলেটে লিগ হত নিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়েই মাঠে গড়াতো লিগ। ক্রিকেট লিগ নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমিদের মধ্যে কতো আগ্রহ, কতো আয়োজন থাকতো! পাড়া-মহল্লায় সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়ত। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মাঠে আসতেন খেলা উপভোগ করার জন্য। সেই জৌলুসময় সময়ে দেশ-বিদেশের তারকা ক্রিকেটাররা খেলতেন এখানকার লিগে। সেই সোনালী সময়ের তারকা ব্যাটসম্যান পারভেজ আহমেদ।

 

তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন সিলেট ক্রিকেটের সোনালী সেই দিনগুলি, পাশাপাশি সিলেট লিগেও খেলেছেন দেশি-বিদেশি তারকাদের সাথে। বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটাররা সেই সুযোগ থেকে প্রায় বঞ্চিতই বলা চলে। এখন ঠিক সময়ে লিগ আয়োজন হয় না, নেই আগের মত তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ। সিলেটের লিগ হারিয়েছে পুরনো সেই ঐতিহ্য।

 

সিলেটের ক্রিকেটের সেই পুরনো উজ্জ্বলতা আর বর্তমান মলিনতা নিয়ে স্পোর্টসট্যুর২৪ডটকম-এর সাথে কথা বলেছেন পারভেজ আহমেদ।

 

সিলেটের ক্রিকেটের জৌলুস কমে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপের সুরে পারভেজ আহমেদ বলছিলেন, ‘‘আমরা সিলেটে আগে ক্রিকেট খেলতাম দিনে, এখন ক্রিকেট হয় রাতে। এতটুকুই তফাৎ ধরেন। তখন আমরা ছোট দলের সাথে খেলতাম যেমন ধরেন, মুনলাইটের সাথে খেলতাম, দলের অফিসিয়াল থেকে শুরু করে তার পরিবারের সদস্য নিয়ে মাঠে আসতেন খেলা দেখার জন্য। পাড়ার মানুষও আসতেন নিজ দলের খেলা দেখতে।’’

 

‘‘আগে অনেক ভালো কর্মকর্তা ছিলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থায় যারা ছিলেন তারা অনেক দক্ষ ছিলেন। ঠিক সময়ে লিগ আয়োজন করতেন। অনেক টাকা ব্যয় করতেন, ক্রিকেটারদের টাকা সময় মত বুঝিয়ে দিতেন। এখন অনেক জিনিস এক হয়ে গেছে, কয়েকটা জিনিস এক হয়ে গেছে। মনে করেন স্টেডিয়ামসহ সব জায়গায় যারা দায়িত্বে আছেন, আমি তাদেরকে অযোগ্য বলছি না। যোগ্য অযোগ্য সেটা নিজে বিবেচনা করতে হবে। যদি ঠিক সময়ে নিয়মিত লিগ না হয়, খেলা না হয়, তাহলে এখানে কর্মকর্তা যে বা যারা থাকেন না কেন তারা অযোগ্য। তখন তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।’’

 

বর্তমানে লিগ আয়োজেন আর্থিক টানাপোড়েন আর মাঠ নিয়ে সমস্যা নিত্যদিনের। আছে ক্লাব কর্মকর্তাদের নানা সমস্যাও। দেশের ক্রিকেটে এখন কাড়ি কাড়ি টাকা উড়লেও সিলেটের ক্লাবগুলো অর্থাভাবে ভুগে, খেলোয়াড়রা পান না ন্যায্য পারিশ্রমিক। ফলে লিগ খেলতে তাদের আগ্রহেও ভাটা পড়ছে।

 

বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লিগ আয়োজনে সহায়তা দেয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম কিছু দেখা যায় না। এখানে বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার ওঠে আসেন, ফলে স্থানীয় লিগে নজর নেই বোর্ডের।

 

এ প্রসঙ্গে পারভেজ আহমেদ বলছিলেন, ‘‘ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এখন প্রচুর টাকা আছে, তারা চাইলে স্থানীয় লিগগুলো আয়োজন করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এটা করা হয় না। অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড স্থানীয় লিগ আয়োজন করে থাকে। আমি পাকিস্তান লিগে খেলেছিলাম, দেখেছি সেখানে স্থানীয় লিগ তাদের বোর্ড থেকে আয়োজনের ব্যবস্থা দেওয়া হত।’’

 

‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হয়তো জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক দল নিয়ে চিন্তা করছে। কিন্তু বয়সভিত্তিক দলগুলোতে যারা খেলে তারা কিন্তু স্থানীয় লিগগুলোতে খেলে উঠে আসে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্থানীয় লিগ আয়োজনে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটা আসলে খুবই খারাপ। বিভাগীয় লিগ, জেলা লিগ আয়োজনে গুরুত্ব দিতে হবে। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে প্রচুর টাকা আছে। চাইলে স্পনসর দিয়ে, টাকা দিয়ে এসব লিগ আয়োজন করা যায়। তাহলে আরো ভালো প্লেয়ার বের হয়ে আসবে। এখন সিলেট লিগে যারা খেলে তারা যদি টাকা না পায়, তাহলে খেলায় তেমন আগ্রহ দেখাবে না।’’

 

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সিলেটে লিগে জাতীয় দলের তারকা, বিদেশি ক্রিকেটার একসময় নিয়মিত মুখ ছিল। দেশ-বিদেশের তারকাদের উইলোবাজি দেখে বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন রাজিন সালেহ, অলক কাপালিরা। পেতে অনুপ্রেরণা। কিন্তু এখন এখানকার লিগে বড় মাপের তারকাদের অংশগ্রহণ নেই। লিগে বাইরে থেকে ক্রিকেটার আনা যাবে না, এমন নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়! জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেওয়ার সক্ষমতা নেই, এমন অজুহাতে তাদেরকে সিলেটে লিগে আনার পথ বন্ধ করা হয়।

 

এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ পারভেজ আহমেদ বলেন, যারা এরকম করেছেন, তারা অযোগ্য।

‘আসলে আমি চিন্তা করে পাই না তারা কেন এই কাজটা করেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত যারা দিয়েছিলেন তারা অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাদের ক্রিকেট সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নাই বলে আমি মনে করি। আমরা যে সময় সিলেট লিগে খেলেছি তখন লিপু ভাই (গাজী আশরাফ হোসেন) সিলেট লিগে খেলেছেন, নান্নু ভাই (মিনজুল আবেদীন নান্নু), বুলবুল ভাই (আমিনুল ইসলাম বুলবুল)। আমি তাদেরকে দেখে তাদের মত ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন সিলেট লিগে তরুণ ক্রিকেটার যারা খেলছে তাদেরও তো এরকম স্বপ্ন আছে বড় ক্রিকেটার হবে। জাতীয় ক্রিকেটারদের খেলা টিভি দেখা আর বাস্তবে মাঠে দেখা, একসাথে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। দূর থেকে দেখে কোনো কিছু আয়ত্ত্ব করা যায় না। সিলেট লিগে বাইরের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দিলে স্থানীয় ক্রিকেটের মান বাড়বে, মিডিয়া কাভারেজ পাওয়া যাবে। তখন স্পনসর খুব সহজে পাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

 

‘‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্লেয়ারদের অংশগ্রহণ অনুমতি থাকলে যার সামর্থ্য আছে তারা আনবে, যার সামর্থ্য নাই তারা আনবে না। অর্থের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তো এটা বন্ধ করা যায় না। সবাই সম্মিলিতভাবে জাতীয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ করে, সিলেটের ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে তারা উঠে পড়ে লাগছেন। আসলে ক্লাব মালিকদের কাছে টাকা নাই এমন কথা নয়, তাদের কাছে টাকা আছে কিন্তু তারা টাকা ব্যয় করতে চান না। যদি তাদের কাছে টাকা না থাকে তাহলে ক্লাব মালিকানা ছেড়ে দেন। পারলে ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করেন, না হলে ক্রিকেটটাকে ধ্বংস করবেন না।’’

 

পারভেজ আহমেদের কণ্ঠে আগেকার কর্মকর্তাদের প্রশংসাও শোনা গেল, ‘‘আগের যারা কর্মকর্তা ছিলেন, যেমন জাকির কোরেশি ভাই এবং তারেক ভাই তারা যেকোনোভাবে টাকার ব্যবস্থা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্লেয়ার আনার চেষ্টা করতেন।’’

 

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পাইপলাইনে এখন সিলেটের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে সিলেটিদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। জাতীয় দলের টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ এখন সিলেটের পেসার আবু জায়েদ রাহী, দেশের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে সিলেটের আরো দুই পেসার ইবাদত হোসাইন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের। তারা এখন জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। পেস বোলারদের আধিপত্য দেখা গেলেও সিলেট থেকে তেমন ভালো মানের ব্যাটসম্যান বের হচ্ছে না। জাতীয় দলের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলিই বাদ পড়ে যান তরুন ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। জাকের আলী অনিক আছেন ক্রিকেট বোর্ডের নজরে।

 

বোলার বের হলেও ব্যাটসম্যান বের না হওয়ার দায়টা পারভেজ আহমেদ নিচ্ছেন নিজেদের কাঁধেই। এজন্য তিনি সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের উপর দায় দিতে চান।

 

‘‘আসলে এ ব্যাপারে কথা বললে হয়তো অনেকে মনোক্ষুণ্ণ হবেন। আমি যখন খেলেছি, আমার সাথে যারা খেলত আমি তাদেরকে হাতে ধরে ভুলগুলো ধরিয়ে দিতাম। তাদের ব্যাটিংয়ে ভুলগুলো দেখিয়ে দিতাম এবং ভুল থেকে বের আসার কথা বলতাম। এমনকি বিভাগীয় লিগে কেউ রান করতে না পারলো তারা আমাকে এসে বলত। এমনকি নাহিদও (নাসিরুল আলম নাহিদ) এসে আমাকে বলত ‘পারভেজ আমি রান করতে পারছি না। আমি কীভাবে কী করবো?’ আল্লাহ আমাকে একটি ভালো গুণ দিয়েছিলেন যে মানুষকে ভালো পরামর্শ দিতে পারতাম। আমি শতভাগ পরামর্শ দিতে পারতাম।’’

 

পারভেজ আরও বলেন, ‘আমি কখনো মনে করতাম না যে কেউ ভালো করলে আমার জায়গা নিয়ে নিবে, পরবর্তীতে সে আমার সাথে প্রতিযোগিতা করবে। আমি কখনো এমনটা ভাবতাম না, আমি মনে করি সে যদি তার যোগ্যতা দিয়ে আমাকে পিছনে ফেলতে পারে তাহলে আসুক। আমার কোনো সমস্যা হবে না। আমার মতে জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের সেই সামর্থ্য আছে কিন্তু কোনো এক কারণে তারা এই কাজটা করতে পারেন না। আমি যখন খেলতেছিলাম তান্না (ইমতিয়াজ হোসেন তান্না) তখন খুব ভালো করছিল। আমি তার জন্য ওপেনিং জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন আমাদের সিলেট দলে ওপেনার বেশি ছিল, শিশির ছিল, হিমেলও ওপেনিংয়ে খেলত। তখন আমি যদি জায়গা না ছাড়তাম তাহলে তারা খেলতে পারত না। এই যে মানবিক একটা ত্যাগ এটা কয়জন করে বা করছে? একটা ব্যাটসম্যান যে উঠে আসবে কীভাবে আসবে? আপনি তাদেরকে এভাবে সুযোগ দিয়েছেন কী-না আমি তাদেরকে প্রশ্ন করতে চাই। ব্যাটসম্যানকে তো ব্যাটসম্যান সাহায্য করবে। ব্যাটসম্যানকে বোলার সাহায্য করবে না।’

 

সিলেটের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল পদে দেখতে চান পারভেজ আহমেদ। জাতীয় ক্রিকেটাররা থাকলে সব কাজ খুব সহজে হবে মনে করেন সাবেক এই তারকা ব্যাটসম্যান।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের কার্যক্রমে মুগ্ধ তিনি। সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটির এই কার্যক্রম আগের কমিটির ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

 

এসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গেল মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একটি টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। গত অক্টোবরে তিন দলের একটি টি-২০ টুর্নামেন্টও করেছিল তারা। বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী স্কিল ক্যাম্পের আয়োজনও ছিল সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের, যেখানে শেষ দিনে উপস্থিতি হয়েছিলেন পারভেজ আহমেদ।

 

তাদের এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তাদের এই কার্যক্রম অনেক ভালো, তারা ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করছে। তাদের এই কার্যক্রম বলে দিচ্ছে নতুন এই কমিটি আগের কমিটির চেয়ে ভালো। আগের কমিটির ব্যর্থতা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই কাজগুলো আগের কমিটির করার কথা ছিল।’’

 

‘‘আমার পরামর্শ থাকবে তাদের কাছে, আরও যারা সাবেক ক্রিকেটার আছেন তাদেরকেও যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন আহমদ ভাই, হানিফ ভাই, মনি ভাই, হিমু ভাই এবং পল দা এরকম আরো অনেক ক্রিকেটার আছেন। যাদের অবদান সিলেট ক্রিকেটে ভুলে যাওয়ার মত নয়। এসোসিয়েশন প্লেয়ারদের কিছু নিয়ম কানুন আছে, যা অতিক্রম করে কথা বলা যাবে না। যেমন বর্তমান সভাপতি এনামুল হক জুনিয়র, সে এখন তরুণ। সে যখন সিনিয়র একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে যাবে তখন কিন্তু সব কথা সে বলতে পারবে না। তাদের সাথে যদি সাবেক ক্রিকেটাররা কেউ থাকেন, তখন তিনি এই সব কথা বলতে পারবেন যা রানিং প্লেয়াররা বলতে পারবে না। তাই সাবেকদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছি। সিলেটের ক্রিকেটকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে, ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন মানে হলো এখানে সব ক্রিকেটার জড়িত থাকা। সাবেক বর্তমান, সিনিয়র-জুনিয়র সবাই থাকবে। বিশেষ করে সিনিয়র প্লেয়ারদের অন্তর্ভুক্ত থাকাটা দরকার, তারা যে কথাটা বলতে পারবে আপনে আমি তা বলতে পারব না।’’

 

পারভেজ আহমেদের স্বপ্ন আর প্রত্যাশা, সিলেটের ক্রিকেট তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে। আগের মতোই লিগ নিয়ে উচ্ছ্বাসের আবাহন ছড়িয়ে যাবে পাড়া থেকে মহল্লায়, শহর থেকে গ্রামে।

শেয়ার করুন :