পাওনা ইস্যুতে বাফুফের দ্বারস্থ ফুটবলাররা পাওনা ইস্যুতে বাফুফের দ্বারস্থ ফুটবলাররা – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: মহামারি করোনার কারণে দেশের ফুটবল ধাক্কা খেয়েছে। বাতিল হয়ে গেছে প্রিমিয়ার লিগ, স্বাধীনতা কাপ। শুধুমাত্র ফেডারেশন কাপ শেষ হয়েছে। প্রায় চার মাস ধরে মাঠে ফুটবল নেই। এই অবস্থায় ফুটবলাররা ক্লাব থেকে চুক্তি অনুসারে যে টাকা পাবেন, সে বিষয়টিও ঝুলে আছে। পাওনা ইস্যুতে এবার তাই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দ্বারস্থ হয়েছেন ফুটবলররা।

 

আজ সোমবার বিভিন্ন ক্লাবের অন্তত ২৫ জন ফুটবলার দেখা করেছেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সাথে। লিগে খেলা ফুটবলারদের পাওনার বিষয়টি ছাড়াও প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগ, এমনকি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের আর্থিক দূরবস্থার চিত্র সালাউদ্দিনের কাছে তুলে ধরা হয়। একইসাথে দ্রুত লিগ শুরু করার দাবিও জানান তাঁরা।

 

ফুটবলাররা বলছেন, বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং এসব ক্লাব চুক্তি অনুসারে দেশীয় খেলোয়াড়দের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছে।

 

বাফুফে সভাপতির কাছে ফুটবলাররা বলেন, চলতি বছর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ এবং বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ মাঠে গড়ায় নি। এসব ধাপে যেসব ফুটবলার খেলেন, তাঁরা আছেন আর্থিক দূরবস্থার মধ্যে। কারণ, খেলা হয় নি। তাই তাঁরা কোনো টাকাও পান নি।

 

বাংলাদেশ জাতীয় দল ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা বলছিলেন, ‘বাফুফের সভাপতির কাছে আমাদের কিছু বিষয় বলার ছিল। যেমন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেন লিগটা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা হয়। আরেকটা বিষয় ছিল, গত চার মাস লিগ বন্ধ থাকায় আমরা ফুটবলাররা পুরোপুরি বেকার। লিগ বাতিল হয়ে গেছে। তৃতীয়, দ্বিতীয়, প্রথম বিভাগও হয়নি। ফলে ফুটবলারদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ। আমরা যারা পেশাদার খেলোয়াড়, তারা হয়তো ক্লাব থেকে কিছু টাকা পেয়েছি। কিন্তু যারা অন্য স্তরের ফুটবলার, তারা লিগ খেলতে পারেনি, টাকাও নিতে পারেনি। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। পরিবার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে লিগটা বাতিল হয়ে গেছে, ওটার ব্যাপারে ফেডারেশন যেন ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলে এবং আমরাও যেন একটা অঙ্কের টাকা পাই-এই বিষয়গুলো বলেছি। সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটা ভালো সিদ্ধান্তে আসবেন।’

 

জাতীয় দলের মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘কেবল লিগের নয়, নিচের স্তরের টুর্নামেন্টগুলোর খেলোয়াড়রাও খারাপ অবস্থায় আছে। তাদের দূরাবস্থা, চুক্তি অনুযায়ী ক্লাবগুলোর কাছে আমাদের যে পাওনা রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতায় আসার জন্য সভাপতিকে অনুরোধ করেছি।’

 

এদিকে, বাফুফের পক্ষ থেকে ভিডিওবার্তায় নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। তিনি বলছেন, ফুটবলাদের পাওনার বিষয়টি ‘সেকেন্ডারি’।

 

বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য ফিফা আমাদের অক্টোবরে তারিখ দিয়েছে। এটার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ওদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করলাম। এবার সরকারের সঙ্গে আলাপ করবো। সমস্যা হচ্ছে, ফিফার ম্যাচ তো খেলতে হবে, তা না হলে সাসপেন্ড করে দিবে, এটা নিয়ে একটা মাথাব্যথা আছে। আবার সরকারের থেকেও অনুমতি লাগবে। এ নিয়েই মূলত আলোচনা।’

 

তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বলেছি, ফিটনেস ধরে রাখতে। আজ হোক, কাল হোক, খেলা হবে। পৃথিবী থাকলে ফুটবল হবে। ওটা (ফুটবলারদের পাওনা) সেকেন্ডারি বিষয়। মূলত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

 

গেল ১৭ জুন বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্বকাপ আর এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অনুশীলন শুরু হবে আগস্টে। যেসব ফুটবলার ও স্টাফদের ক্যাম্পে ডাকা হবে, তাঁদেরকে প্রথমে আইসোলেশনে রাখা হবে। এছাড়া তাঁদের সবার করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষারও করানো হবে। এরপর শুরু হবে মাঠের অনুশীলন।

শেয়ার করুন :