পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার চিন্তায় সরকার পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার চিন্তায় সরকার – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: মহামারি করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত দেশের পর্যটন খাত। প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব পর্যটন কেন্দ্র। ফলে ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার। বেকার হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

 

সবমিলিয়ে দেশের পর্যটন এখন গভীর সংকটে। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছে সরকার।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র সংবাদমাধ্যমকে বলছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

 

বাংলাদেশের পর্যটনের ক্ষতির একটা ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। গেল ৩০ জুন তারা ‘কোভিড-১৯ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলে, করোনার কারণে পর্যটন খাত স্থবির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ জিডিপি থেকে ২০৩ কোটি ডলার বা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা হারাতে পারে। ফলে ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

 

পর্যটন খাতে ক্ষতির বিষয়ে সরকারও চিন্তিত। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে কীভাবে এ খাত ফের চালু করা যায়, তা নিয়ে চলছে নানা চিন্তাভাবনা।

 

যেহেতু সীমিত আকারে প্রায় সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু পর্যটন খাতও খুলে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

 

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, প্রথমে পর্যটনের উপখাতগুলো চালুর লক্ষ্যে একটা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ বা ‘এসওপি’ প্রস্তুত হচ্ছে, যেখানে কীভাবে পর্যটন খাতকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে তা বলা থাকবে।

 

তিনি বলেন, ‘২৪ পৃষ্ঠার এসওপি প্রায় প্রস্তুত হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার তা অনুমোদন দিলে পর্যটনের উপখাতগুলো চালুর পদক্ষেপ নেব।’

 

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা না দিলে পর্যটন শিল্প ফের দাঁড়াবে না।

 

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়শন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. রাফিউজ্জামান ‘এসওপি করে সরকার কিছু নির্দেশনা দেবে কীভাবে পর্যটকদের গ্রহণ করা হবে। এর আগে তো দরকার আমাদের ব্যবসা চালু করা। সরকার যদি আর্থিক কোনো সহযোগিতা না করে তাহলে এই শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে।’

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, পর্যটন শিল্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়নে ‘বিশাল রিকভারি প্ল্যান’ হচ্ছে।

 

‘এখানে অনেক বিষয় আছে। প্রতিটি বিষয় ধরে আলাদাভাবে গাইডলাইন হচ্ছে। এটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে যাবে।’

শেয়ার করুন :