নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপুটে জয় নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপুটে জয় – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: প্রায় দশ মাস পর খেলতে নেমে দাপুটে ফুটবল খেললো বাংলাদেশ। নাবীব নেওয়াজ জীবনরা শুরু থেকেই চেপে ধরলেন নেপালের রক্ষণকে। গোল পেতেও বেশি অপেক্ষা করতে হলো না বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে এক গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে এলো আরেক গোল।

 

দুই অর্ধের দুই গোলে দুটি প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে ২-০ গোলে বাংলাদেশ হারিয়েছে নেপালকে। প্রথম অর্ধে গোল করেন নাবীব নেওয়াজ জীবন, দ্বিতীয়ার্ধে মাহবুবুর রহমান সুফিল।

 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সবশেষ ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। এরপর করোনার কারণে মাঠে নামা হয়নি তাদের। তবে ঘরোয়া ফুটবল চালু ছিল মার্চের মধ্যভাগ অবধি। মহামারির তাণ্ডব বাড়তে থাকায় তখন বন্ধ হয়ে যায় ঘরোয়া ফুটবলও।

 

কয়েক দিন আগে মেয়েদের ঘরোয়া ফুটবল দিয়ে করোনাকালকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। এবার শুরু হলো ছেলেদের ফুটবলও।

 

ব্ঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মাঠে ৮ হাজার দর্শক নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তাদেরকে মোটেও হতাশ করেন নি জামাল ভুঁইয়ারা। প্রায় পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচেই হিমালয়ের দেশটির কাছে হারের বিষাদ সইতে হয়েছিল লাল-সবুজের জার্সিধারীদের।

 

নেপালের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটেছে বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ও ফরোয়ার্ড সুমন রেজার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই তারা পেলেন দাপুটে জয়ের উচ্ছ্বাস।

 

ম্যাচের ৯ম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বনাথ ঘোষ যে লম্বা থ্রো করেছিলেন, সেটি থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে জটলার মধ্যে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তপু বর্মণ।

 

তবে পরের মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। নাবীব নেওয়াজ জীবনের পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন সাদ উদ্দিন। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বল বাড়ান গোলমুখে। দারুণ স্লাইডে জাল কাঁপিয়ে দেন জীবন।

 

২১তম মিনিটে জীবনের ক্রস থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম হেড নিয়েছিলেন। তবে সেটি লাগে এক ডিফেন্ডারের গায়ে।

 

২৭তম মিনিটে অল্পের জন্য গোল পায়নি বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলা মানিক মোল্লা ২৫ গজ দূর থেকে নিয়েছিলে শট। সেটি নেপালের গোলরক্ষকের গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। ৩২তম মিনিটে সাদ উদ্দিনের ভলি যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

 

৩৯তম মিনিটে আক্রমণে ওঠে নেপাল প্রথমবারের মতো গোলমুখে শট নেয়! তবে অঞ্জন বিসটার দুর্বল শট সহজেই গ্লাভসে নেন আনিসুর রহমান জিকো।

 

দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় নামান বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে। মানিক নামিয়ে নামান ফরোয়ার্ড সোহেল রানাকে। খানিক পরে জামাল ভুঁইয়া ও নাবীব নেওয়াজ জীবনকে তুলে নিয়ে মাহবুবুর রহমান সুফিল ও বিপলু আহমেদকে নামান কোচ।

 

৭৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক নেন তপু বর্মণ। তবে নেপালের গোলরক্ষক কিরণ কুমার লাবু সেটি ফিস্ট করলে বল যায় ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে।

 

পরে পাল্টা আক্রমণে ওঠে নেপাল। থ্রো ইন থেকে অনন্তা তামাংয়ে দারুণ হেড আঙুলের টোকায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে বের করে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।

 

৮০তম মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। সোহেলের বাড়ানো বল ধরে মাঝ মাঠের একটু ওপর থেকে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল নিয়ে এগিয়ে যান সুফিল। বাঁ দিক বক্সে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথায় বাকি কাজ সারেন তিনি।

 

পরে তপু বর্মণকে তুলে নিয়ে ইয়াসিন খানকে নামান বাংলাদেশ কোচ। ম্যাচের বাকি সময় নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে হওয়া দুটি প্রীতি ম্যাচের সিরিজে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে আগামী মঙ্গলবার।

শেয়ার করুন :