দেশে ১০ শর্তে খেলাধুলায় অনুমতি দেশে ১০ শর্তে খেলাধুলায় অনুমতি – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: মহামারি করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশে মোটেও ভালো নয়। সংক্রমণ কমছে না, মৃত্যু থামছে না। কিন্তু তারপরও দেশে ‘সীমিত আকারে’ খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ শুরুর অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ১০ শর্তও দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে গেল ১৬ই মার্চ দেশে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধের নির্দেশ দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

 

প্রায় পাঁচ মাস পর আজ সোমবার খেলাধুলা পুনরায় শুরুর অনুমতি এলো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

 

অনুমতি প্রদানের পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ১০ শর্ত দৃঢ়ভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের দেশেও করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। এ প্রেক্ষিতে, আমরা খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করি।’

 

‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০টি শর্তে সীমিত আকারে খেলাধুলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে মতামত দিয়েছে। এমতাবস্থায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত শর্তসমূহ প্রতিপালন পূর্বক দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি সকলকে অনুরোধ করব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে।’

 

‘সীমিত আকারে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে শর্তগুলো হলো-

*খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালুর পূর্বে, মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়ন এর দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভালো হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

 

*সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

 

*খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ক্যাম্প শুরুর পূর্বে প্রয়োজনবোধে সবার করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

 

*খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণকালীন ক্যাম্পে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যপারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজার রেখে খাবার গ্রহণ ও খাবারের ব্যবহৃত থালাবাসন পরিষ্কার ও জীনাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে ডিসপোজেবল প্লেট ব্যবহার করাই ভালো। ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের ঘুম, বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। ডিজিটাল/অনলাইনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

 

*খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ও জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে মুখবন্ধ ময়লার পাত্র ফেলে দিতে হবে।

 

*অধিক জনসমাগম না করে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। মাঠে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় দর্শকদের সারিবদ্ধভাবে পরস্পর হতে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাঠে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট দূরত্ব (১ মিটার) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দুই জন দর্শকদের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে।

 

*খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ফারেনহাইটের বেশি হবে, তাদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

 

*খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক বা কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন কোনো রোগী থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

*খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

 

*স্টেডিয়ামে আগত সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে।

শেয়ার করুন :