‘দেশের ফুটবল বাঁচাতে’ মানববন্ধন ‘দেশের ফুটবল বাঁচাতে’ মানববন্ধন – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: ‘দেশের ফুটবলকে বাঁচানোর’ ডাক নিয়ে মানববন্ধন হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার এই মানববন্ধন হয়। এর আয়োজক ছিল ‘প্রজন্ম, ফুটবল যাদের চেতনায় ও অস্তিত্বে’। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

 

মানববন্ধনে সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ও ফুটবল সংগঠক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বক্তব্য রাখেন।

 

কায়সার হামিদ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে বাফুফের সভাপতি হয়েও কাজী মো. সালাউদ্দিন দেশের ফুটবলের দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেন নি।

 

তিনি বলেন, ‘সবশেষ ২০১৬ সালের নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন এটাই তার শেষ নির্বাচন। ১২ বছর ধরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেন নি। গেল নির্বাচনে বলেছিলেন ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলাবেন। অথচ চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন।’

 

‘আমরা ভুটানের মতো দলের কাছে হারি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দিন দিন নিচে নামছি। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাফেই তলানিতে আছি, কীভাবে বিশ্বকাপে যাবো?’

 

আগামী ৩ অক্টোবর হবে বাফুফে নির্বাচন। এবারও সভাপতি পদে আছেন কাজী সালাউদ্দিন। প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও সরে দাঁড়ান সাবেক ফুটবলার বাদল রায়। আর নির্বাচনী মাঠে শুরুতে থাকলেও পরে প্রার্থী হননি তরফদার রুহুল আমিন।

 

মানববন্ধনে মোহামেডানের তারকা ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুটবলের উন্নয়ন না, তাদের উদ্দেশ্য চেয়ার দখল। ভালো লোককে তারা বাফুফেতে আসতে দেয় না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা। ভালো মানুষ ভোটে দাঁড়ালে তাদের বসিয়ে দেওয়া হয়। যারা সত্যিকারের ফুটবলপ্রেমী ও সংগঠক তাদেরকে নেতৃত্বে আসতে হবে।’

 

বাফুফের ‘দুর্নীতির’ বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ফুটবল খেলতেন। তার ছেলে শেখ কামাল সংগঠক ছিলেন। ফুটবলপ্রেমী পরিবারের সদস্য হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাফুফের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছেন। আশা করি বাফুফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিবেন তিনি।’

 

নিজের বক্তব্যে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এখানে যারা দাঁড়িয়েছে কেউ বাফুফের নেতা হতে আসেনি। কেউ বাফুফের দুর্নীতির ভাগ নিতে আসেনি। যারা এসেছেন বিবেকের টানে, দেশ ও ফুটবলকে ভালোবেসে এসেছেন। যেখানে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। বাফুফের রুমে রুমে বসে ভাগাভাগি যখন চলছে, এই ছেলেরা এখানে এসেছেন ফুটবলের প্রেমে। তারা জানেন, তাদের আওয়াজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাও পৌঁছতে পারে। তবু আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

 

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুমন বলেন, ‘শেখ কামাল সাহেব ফুটবলপ্রেমী ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে আজকে ফুটবলের এই অবস্থা হতো না। ফুটবল নিয়ে আপনার ভাইয়ের হৃদয়ে জায়গা ছিল। এই ফুটবলকে আপনি বাঁচান।’

শেয়ার করুন :