দুই লাল কার্ডের ম্যাচে বার্সার স্বস্তির জয় দুই লাল কার্ডের ম্যাচে বার্সার স্বস্তির জয় – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: লা লিগায় এমনিতেই অস্বস্তিতে আছে বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে পিছে আছে পয়েন্টে। তাঁদের সামনে এখন প্রত্যেকটা ম্যাচেই জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

 

এই অবস্থায় কাল রাতে নিজেদের মাঠে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। দুই লাল কার্ডের ম্যাচে গোলটি করেছে লুইস সুয়ারেজ। এস্পানিওলের বিপক্ষে এটি বার্সার শততম জয়।

 

এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান আপাতত ১ এ নেমে এসেছে বার্সার। ৩৫ ম্যাচে ২৩ জয় আর ৭ ড্রয়ে বার্সার পয়েন্ট ৭৬। ৩৪ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৭। রিয়াল পরের ম্যাচে জয় পেলেই ব্যবধান অবশ্য ফের ৪ পয়েন্টে চলে যাবে।

 

এই হারের মধ্য দিয়ে এস্পানিওলের অবনমন ঘটেছে। ৩৫ ম্যাচে মাত্র ৫ জয় আর ৯ ড্রয়ে তাঁদের পয়েন্ট ২৪। ক্লাবের ১২০ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো লা লিগা থেকে অবনমন ঘটলো এস্পানিওলের। আর ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথমবার।

 

দেয়ালে পিঠ ঠেকে আছে এস্পানিওলের। ম্যাচের শুরু থেকে তাঁরা তাই মরিয়া। বার্সার রক্ষণে একের পর এক আক্রমণে ছড়ায় ভীতি। ১০ম মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে আদ্রি এমবার্বার শট নিয়েছিলেন। পা দিয়ে সেটি কোনো রকমে ঠেকানা বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্ট্যাগেন।

 

৪৩তম মিনিটে ফের বার্সার রক্ষণকে কাঁপিয়ে দেয় এস্পাানিওল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে প্রায় জড়িয়ে দিচ্ছিলেন ক্লেমোঁ লংলে। বল লাগে স্ট্যাগেনের পায়ে। সেখান থেকে আলগা বল পেয়ে দিদাক ভিলার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।

 

প্রথমার্ধে বার্সার পারফরম্যান্স ছিল হতাশার। লক্ষ্যে ছিল না কোনো শট।

 

দ্বিতীয়ার্ধে নেলসন সেমেদোর বদলি হিসেবে নেমেছিলেন আনসু ফাতি। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মাথায় তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এস্পানিওলের ডিফেন্ডার ফের্নান্দো কালেরোকে কঠিন ফাউল করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন ফাতি। তবে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান।

 

মিনিট তিনেক পরে একইভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এস্পানিওলের মিডফিল্ডার পল লোসানো। জেরার্ড পিকেকে ফাউল করেছিলেন তিনি, রেফারি প্রথমে দেখান হলুদ কার্ড। পরে ভিএআরের সাহায্যে সেটি লাল কার্ডে পরিণত হয়।

 

দুই লাল কার্ডের ম্যাচে অস্বস্তি বাড়ছিল বার্সার। অবশেষে ৫৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় তাঁরা। আঁতোয়ান গ্রিজমানের ব্যাকহিলে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেটি প্রতিহত হলে আলগা বল পেয়ে যান সুয়ারেজ। লিগে নিজের ১৫তম গোলটি করেন এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার।

 

বার্সার ইতিহাসে সুয়ারেজ এখন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে। তাঁর গোলসংখ্যা ১৯৫টি। লাজলো কুবালাকে (১৯৪) ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

 

গোল খেয়ে এস্পানিওল চেষ্টা করেছে সেটি শোধ করার। কিন্তু ভাগ্যও ছিল না তাঁদের পক্ষে। হারের হতাশার সঙ্গে অবনমনের যন্ত্রণা যোগ করে মাঠ ছাড়ে তাঁরা।

শেয়ার করুন :