দর্শকশূন্য মাঠে টেস্ট, মনোবিদের কাছে ব্রড দর্শকশূন্য মাঠে টেস্ট, মনোবিদের কাছে ব্রড – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: করোনার কারণে বদলে গেছে ক্রিকেট। দীর্ঘদিন পর জুলাইয়ের শুরুতে মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ। কিন্তু সবগুলো ম্যাচ হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে।

 

এমন রুদ্ধদ্বার পরিস্থিতির মুখোমুখি ক্রিকেটাররা আর কখনোই হন নি। মানসিকভাবে তাই ভিন্ন ধরনের এক চাপ অনুভব করছেন তাঁরা।

 

এই অবস্থায় মনোবিদের পরামর্শ নিয়েছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড।

 

চাপের মধ্যে নিজেরেক মেলে ধরতে পারেন ব্রড। এর প্রমাণ অতীতে অনেকবারই দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটকে, বলছেন ব্রড।

 

এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ পেসার বলেন,‘ফুটবল বা রাগবির চেয়ে ক্রিকেট খানিকটা আলাদা। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন লাল বলের ম্যাচ খেলি আমরা, অনেক সময়ই খুব কম দর্শকের সামনে খেলতে হয়। কাজেই শুধু দর্শকের উৎসাহই যে আমাদের ধাবিত করে বা ওই আবহের ওপর সব নির্ভর করে, তা নয়। কিন্তু দর্শক ছাড়া খেলাটাকে অবশ্যই ভিন্ন কিছু মনে হবে।’

 

আর এ জায়গাতেই ‘মানসিক পরীক্ষা’র কথা বলছেন স্টুয়ার্ট ব্রড, ‘এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিশ্চিতভাবেই হবে মানসিক পরীক্ষা। প্রতিটি ক্রিকেটারকে এই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেটি নিয়ে আমি খুবই সচেতন এবং এর মধ্যেই আমাদের ক্রীড়া মনোবিদের সঙ্গে কথা বলেছি, যেন নিজের সেরাটা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় থাকতে পারি।’

 

তবে ‘চাপ’ বিষয়টা যে তাঁর জন্য ইতিবাচক হয়, সেটাও বলেছেন ব্রড। কিন্তু মাঠে দর্শক না থাকার বিষয়টি ‘দুর্ভাবনার’ বলছেন তিনি।

 

‘আমার জন্য ব্যাপারটি দুর্ভাবনার। কারণ আমি জানি, ক্রিকেটার হিসেবে আমার সেরা পারফরম্যান্সটা আসে যখন চাপে থাকি, খেলায় যখন উত্তেজনা প্রবল এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এটাও জানি, কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আমার সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সও বেরিয়ে আসে। সেই দোলাচলেই এখন আছি।’

 

টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সফলতম পেসার (৪৮৫ উইকেট) স্টুয়ার্ট ব্রড মায়ের কাছ থেকেও পেয়েছেন বিশেষ পরামর্শ।

 

তিনি বলছিলেন, ‘‘মা আমাকে বলেছেন, ‘১২ বছর বয়সে ফিরে যাও, যখন যে কোনো জায়গায় ক্রিকেট খেলতে চাইতে।’ সেই মানসিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। অবশ্যই আমরা এখন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলছি। কিন্তু ১২ বছর বয়সে যে ব্যাপারটি ছিল, যে কোনো মূল্যে শুধু খেলতে চাইতাম। ছুটির দিন সকালে জানালার পর্দাটা সরিয়ে যদি দেখতাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, মনটাই খারাপ হয়ে যেত। ক্রিকেটের সেই রোমাঞ্চ ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি। এভাবে ভাবলে ভেতরে প্রাণশক্তি অনুভব করা যায়।’’

 

আসন্ন টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ‘মানসিক প্রস্তুতি’টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখছেন ৩৪ বছর বয়সী পেসার, ‘‘এমন একটি মানসিকতা আমার গড়ে তুলতে হবে, যেন মনে না হয় যে ‘কিছুই হচ্ছে না এখানে, কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।’ আমার মস্তিষ্ককে টেস্ট ম্যাচের আবহে নিয়ে আসতে হবে। এটা বলছি না যে, এখনই তা পুরোপুরি হয়ে গেছে, এখনও অনুশীলনে এটা নিয়ে কাজ করছি। তবে অনুশীলনের সময় তো এমনিতেও দর্শক থাকে না, এভাবেই সবসময় অনুশীলন করে আসছি।’’

 

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু হচ্ছে ৮ জুলাই। এর আগে নিজেদের মধ্যে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন ব্রডরা। সেই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে তিনি, ‘মূলত ম্যাচের সময়ই অদ্ভূত লাগতে পারে দর্শক ছাড়া। এজন্য তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের মন ও শরীরকে ম্যাচের মতো করে তৈরি করতে হবে, যেন ৮ জুলাই মাঠে নামার পর অস্বস্তি না থাকে।’

শেয়ার করুন :