জিততে চায় বাংলাদেশ, কিন্তু ফল ‘মুখ্য নয়’ জিততে চায় বাংলাদেশ, কিন্তু ফল ‘মুখ্য নয়’ – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ জাতীয় দল নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে; বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বুরুন্ডির বিপক্ষে। মার্চের মধ্যভাগে ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ হয়ে পড়ে করোনার কারণে। এখনও দেশে স্বাভাবিক হয়নি ফুটবল।

 

গেল মৌসুমের লিগ বাতিলের পর আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন মৌসুম শুরুর কথা বলেছে বাফুফে। তবে এর আগেই, জাতীয় দল ফিরছে মাঠে। ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবেন জামাল ভুঁইয়া-সাদউদ্দিনরা।

 

এ ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখে গেল ২৩ অক্টোবর ক্যাম্প শুরুর পরদিন থেকে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড থেকে ২৯ অক্টোবর ফেরার পর ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে। তার সঙ্গে ফেরেন সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। একই দিন ঢাকায় আসেন জাতীয় দলের নতুন গোলরক্ষক কোচ লেস ক্লিভেলি। এরপরই মূলত সোহেল রানাদের অনুশীলনে আসে নতুন গতি।

 

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির জন্য প্রস্তুতিতে যে সময় পাওয়া গেছে, তা যথেষ্ট নয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন জেমি ডে। ছয়-সাত সপ্তাহ সময় পেলে ভালো হতে বলে তার মন্তব্য। একইসাথে ম্যাচ দুটির ফলাফল কী হবে, সেটা নিয়ে খুব বেশি ভাবনা নেই জেমি ডের।

 

এই ইংলিশ কোচ বলছেন, এই ম্যাচ দুটি দিয়ে সামনের দিনের ব্যস্ত সূচির জন্য প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে হবে।

 

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল এ বছর। কিন্তু সেগুলো করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে আগামী বছরে। সামনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপও হওয়ার কথা। আছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও। ফলে আগামী বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যস্ততা থাকবে জামাল ভুঁইয়াদের।

 

জেমি ডে তাই বারবার আগামীর ব্যস্ত সূচির জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা বলছেন।

 

আজ রোববার এই ইংলিশ কোচ সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘ম্যাচ দুটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। অবশ্যই আমরা জিততে চাই কিন্তু আগেও বলেছি ফল মূল ব্যাপার নয়। আগে এটাও বলেছি ২০ দিনের প্রস্তুতি আদর্শ নয়। এটা খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন। কিন্তু সামনের ১০-১৫ দিনে আমরা যেটা করতে পারি, তা হচ্ছে ছেলেরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে; ম্যাচগুলো খেলবে এবং পরের বছরের প্রস্তুতির জন্য এটা কাজে লাগাবে।’

 

‘সময় যথেষ্ট নয় কিন্তু কাজ চালিয়ে যেতে হবে। বুঝতে পারছি, ছেলেরা খেলতে চায়। চাওয়া পূরণ করতে হলে এই সময়ের মধ্যে আমাদের গুছিয়ে নিতে হবে। যদি ছয়-সাত সপ্তাহ সময় পেতাম, তাহলে ভালো হত। সেটা আমরা পাচ্ছি না, সেহেতু যে সময়টুকু পাচ্ছি তার সদ্ব্যবহার করতে হবে। যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

 

মহামারির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের অনুশীলন বন্ধ থাকায় ফুটবলারদের ফিটনেসেও এর প্রভাব পড়েছে।

 

জেমি ডে জানান, ‘এই মুহূর্তে সবার ফিটনেস লেভেল ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে আছে। কেউ কেউ বাকিদের চেয়ে বেশি ফিট। কারো কারো ফিটনেসে ঘাটতি আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে এটা হয়েছে। তবে ছেলেরা যেভাবে অনুশীলন করছে, তাদের নিবেদন নিয়ে আমি খুশি।’

 

‘ছেলেরা এখনও পুরোপুরি ফিট নয় এবং এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সামনের পাঁচ-ছয় দিন এ নিয়ে কাজ চলবে। খেলোয়াড়দের বলেছি, নেপালের বিপক্ষে খেলতে হলে ফিটনেস লেভেল একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।’

 

গেল জানুয়ারিতে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেন জেমি ডে। মার্চে ফিরে যান নিজ দেশে। প্রায় ৭ মাস পর গেল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তিনি।

 

আজ থেকে জাতীয় দল নিয়ে শুরু করেছেন কাজ। প্রায় ১০ মাস পর দলের সঙ্গে ফিরতে উচ্ছ্বাস লুকোতে পারেন নি এই ইংলিশ কোচ, ‘অপেক্ষায় ছিলাম কবে মাঠে ফিরতে পারব। আজ অনেক দিন পরে মাঠে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। খেলোয়াড়দেরও আনন্দিত দেখলাম।’

শেয়ার করুন :