চার গোল হজম, এ কোন রিয়াল! চার গোল হজম, এ কোন রিয়াল! – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: ভ্যালেন্সিয়ার আগের সেই শক্তিমত্তা নেই। একসময় লা লিগায় বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের পরেই তাদের নাম উচ্চারিত হতো। এই জায়ান্টদের সাথে টক্কর দিয়েই তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালি, অব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের শক্তি হারিয়েছে, হয়ে পড়েছে দুর্বল। গেল মৌসুমে দলের সেরা খেলোয়াড়দেরও নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দিয়েছে দলটি।

 

সবমিলিয়ে ‘ডুবন্ত তরী’ ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু সেই ভ্যালেন্সিয়াই রীতিমতো চমকে দিল রিয়াল মাদ্রিদকে। লা লিগার চ্যাম্পিয়নদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা।

 

জয়ের পেছনে ভ্যালেন্সিয়ার কৃতিত্ব তো আছেই। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণের ভুলগুলোও তো বড়!

 

ভ্যালেন্সিয়া যে চার গোল করেছে, এর মধ্যে তিনটিই এসেছে পেনাল্টি থেকে! বাকিটা আত্মঘাতী গোল! রিয়ালের চার ডিফেন্ডার প্রত্যেকেই একটা করে গোল ‘উপহার’ দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়াকে।

 

পেনাল্টি থেকে তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভ্যালেন্সিয়ার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার কার্লোস সোলের। রিয়ালের বিপক্ষে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি গোলের হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।

 

রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের আগে থেকেই সমস্যাজর্জর। মূল একাদশের দুই তারকা কাসেমিরো ও এডেন হ্যাজার্ড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে গেছেন। বিশেষ করে কাসেমিরোর অভাব ভালো করেই টের পেয়েছে রিয়াল।

 

গেল মৌসুমে কাসেমিরোকে ছাড়া পাঁচ ম্যাচ খেলে চারটাতেই জয় পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। এ মৌসুমে এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ছাড়া দুটি ম্যাচ খেলে একটাতে হার, অপরটাতে ড্র করে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। এরপর কাল রাতে মেস্তায়া স্টেডিয়ামে তাকে ছাড়া খেলতে নেমে হারের বৃত্তে আটকে গেল রিয়াল।

 

এবার লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের এটি দ্বিতীয় হার। সবশেষ চার ম্যাচের মধ্যে তারা এ দুই ম্যাচে হেরেছে।

 

ম্যাচে প্রথম গোলটি পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদই। ২৩ মিনিটে লেফটব্যাক মার্সেলোর ব্যাকপাস ধেরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে গোল করেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা।

 

৩৫ মিনিটে সমতায় ফিরে ভ্যালেন্সিয়া। বাঁ প্রান্ত থেকে লেফটব্যাক হোসে গায়ার ক্রস বক্সে রিয়ালের রাইটব্যাক লুকাস ভাসকেজের হাতে লাগে। পেনাল্টি পায় ভ্যালেন্সিয়া। নাটকীয় এক পেনাল্টি!

 

ভ্যালেন্সিয়ার মিডফিল্ডার কার্লোস সোলেরের শট প্রথমে আটকে দেন রিয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ফিরতি শটেও সোলের গোল করতে ব্যর্থ হন। বল পেয়ে যান ভ্যালেন্সিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের উইঙ্গার ইউনুস মুসার পায়ে। তার শট আর আটকাতে পারেননি কোর্তোয়া। কিন্তু গোল হলো না! রেফারি ভিএআরের সহায়তায় জানান, সোলেরের পেনাল্টি নেওয়ার সময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ইউনুস মুসা। তাহলে? দ্বিতীয়বার পেনাল্টি শট! এবার আর গোল করতে ভুল হয়নি কার্লোস সোলেরের।

 

৪৩তম মিনিটে ম্যাক্সি গোমেজের শট গোললাইন থেকে ফেরাতে গিয়ে ভুল করে বসেন ভারানে। এই ফরাসি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। পড়ে থাকা কোর্তোয়া বল ফেরাতে পারেন নি। ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, ফেরানোর আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করেছিল।

 

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের আরেক ডিফেন্ডার মার্সেলো গোল ‘উপহার’ দেন ভ্যালেন্সিয়াকে। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া গোমেজকে ফাউল করে বসেন তিনি। পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করেন কার্লোস সোলের। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া।

 

সব ডিফেন্ডার যেখানে ‘ভুল’ করে চলেছেন, সের্জিও রামোসই বা কেন পেছনে পড়ে থাকবেন! এবার ভুল করার পালা তার! ইউনুস মুসাকে আটকাতে গিয়ে বক্সে বলে হাত লাগিয়ে বসেন রামোস। আবারও পেনাল্টি! ফের দৃশ্যপটে কার্লোস সোলের, ফের গোল!

 

লিগে রিয়াল সোসিয়েদাদ ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। ভিয়ারিয়াল ২ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে দুইয়ে। সাত ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আতলেটিকো মাদ্রিদ। আট ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ। সাত ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আছে বার্সেলোনা।

শেয়ার করুন :