গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেল বার্সেলোনা গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেল বার্সেলোনা – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: অবশেষে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পানের বার্সেলোনার সাথে জড়িতরা। স্পেনের এই শীর্ষ ক্লাবটির বিপক্ষে যে গুরুতর সব অভিযোগ ওঠেছিল। সেসব অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছিল স্পেনের মানি লন্ডারিং বিভাগ। তবে শেষ অবধি তদন্তে কিছু পাওয়া যায় নি। বার্সেলোনার বর্তমান বোর্ড নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।

 

বার্সেলোনার বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউর।

 

অভিযোগ ওঠে, বার্তোমেউর-এর একক আধিপত্য ধরে রাখতে বার্সেলোনার কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের টুইটার ও ফেসবুকে অপমান করা হতো, লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে চলতো নেতিবাচক প্রচারণা। এ কাজে ‘আই থ্রি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করা হয়। ব্যয় করা হয় ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা!

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কে থি জোগাস একটি প্রতিবেদনে দাবি করে, বার্সেলোনা বোর্ড ‘আই থ্রি’ নামের ওই জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করে বার্সা সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউর পক্ষে কাজ করার জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তাঁর ভাবমূর্তি যাতে উজ্জ্বল হয়, সেজন্য এ প্রতিষ্ঠান প্রচারণা চালায়। যেসব বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড় বার্তোমেউর পক্ষে নন, তাঁদের বিরুদ্ধে চলে নেতিবাচক, কুৎসা রটানোর কাজ।

 

ওই সংবাদমাধ্যম আরো দাবি করে, প্রায় একশত ভুয়া টুইটার ও ফেসবুক আইডি দিয়ে মেসি, জাভি, জেরার্ড পিকে, কার্লোস পুয়োল, পেপ গার্দিওলা প্রমুখদের বিরুদ্ধে চলতো কুৎসা রটানো। এছাড়া ক্লাবের সাবেক সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা ও রাজনীতিবিদি কার্লেস পুইচডিমন্তের বিপক্ষেও চলে প্রচারণা। এঁরা নাকি বার্তোমেউর পক্ষের লোক নন।

 

কে থি জোগাস জানায়, বার্সার সাথে মেসি চুক্তি নবায়ন করছেন না মেসি, এ ধরনের গুজব রটানো হতো ওই সব ভুয়া টুইটার ও ফেসবুক আইডি থেকে। জেরার্ড পিকের ব্যবসায়িক নানা দিক নিয়েও চলতো সমালোচনা। ২০১৭ সাল থেকে নাকি এমনটা হয়ে আসছিল।

 

স্পেনের সংবাদমাধ্যম বিখ্যাত ‘ওয়াটারগেট’ কেলেঙ্কারির আদলে বার্সেলোনার এই ‘কেলেঙ্কারিকে’ ‘বার্সাগেট’ নামও দিয়ে বসে!

 

ভয়ঙ্কর এই অভিযোগকে ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ে বার্সেলোনার পরিচালনা পর্ষদ। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করতে উদ্যোগী হয় তাঁরা। ব্যবস্থা করা হয় নিরপেক্ষ তদন্তের।

 

তথ্য, প্রমাণের জন্য কয়েকদিন আগে স্পেনের মানি লন্ডারিং বিভাগের সদস্যরা হানা দেন বার্সার ন্যু ক্যাম্পে। কিন্তু তদন্তে পাওয়া যায় নি কোনো প্রমাণ।

 

অবশেষে বার্সেলোনার পরিচালনা পর্ষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যে অভিযোগ ওঠেছিল, তা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

 

তাঁরা আরো বলছে, যারা বার্সার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভুয়া অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ক্লাবের আইন পরামর্শককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন :