ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীসের মা বলছি… ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীসের মা বলছি… – SportsTour24

|| সালমা আনজুম লতা ||

গত পরশু ফেসবুকে মা ও ছেলের ক্রিকেট অনুশীলনের একটা ছবি দেখলাম। কেউ একজন ছবিগুলো পোস্ট করেছেন। গত দু’দিন ধরে সেই ছবি নিয়ে ফেসবুকে তুমুল আলোচনা, সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

 

পল্টন ময়দানে মা ঝর্ণা আকতার তার এগারো বছরের ছেলে ইয়ামিন আহমেদ সিনানকে নিয়ে এসেছিলেন। তখন সময় সকাল আটটা কী নয়টা। মাঠে জনসমাগম ছিল না বললেই চলে। কোচ আসতে দেরি হচ্ছিল, তাই মা ব্যাট হাতে নিয়ে ছেলেকে বোলিং প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন। আমি বলবো ছেলের আবদার রক্ষা করছিলেন। কিংবা ছেলেকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। এই মা এমন পোষাক পরে ব্যাট হাতে নেওয়াতে কঠোর সমালোচনা হচ্ছে! আমি মায়ের পোষাক নিয়ে কিছু বলতে আসিনি।

 

এই ছবি দেখে আমার চোখে পানি এসে গেছে। এই ছবি আমাকে বারবার একটি কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে, সেটা হলো ‘মাতৃত্ব’। মাতৃত্ব এমন একটা জার্নি, যার শুরু আছে শেষ নেই।

 

এই মা সকাল বেলা সংসারের কাজ ফেলে, নানা ব্যস্ততার মধ্যেও ছেলেকে নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছেন। হয়তো তাঁর আরো একটি ছোট সন্তান আছে। সেই সন্তানটিকে কারো কাছে রেখে এসেছেন। এই মাকে দেখে আমার নিজের অতীতের কথা মনে পড়ে গেছে। আমিও আমার বড় সন্তান শাহরিয়ার নাফীসের বয়স যখন দশ বছর, তখন তাকে নিয়ে মাঠে যাওয়া শুরু করেছিলাম। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করিনি। আমি মনে করেছি, নাফীস ওর পছন্দের পথে চলতে চায়। আর সেই পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। মা মানেই সন্তানের জন্য সবকিছু করার ক্ষমতা রাখেন।

 

ফেসবুকে ঝর্ণা আকতাররের পোষাক নিয়ে নানা রকমের কথা উঠেছে। আমি মনে করি, তার পোষাক নিয়ে আলোচনা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।

 

আমাদের নবীদের স্ত্রীরা পর্দার ভিতরে থেকে ময়দানে যুদ্ধও করেছেন। ইয়ামিনের মায়ের পোষাক নিয়ে তাহলে কেন এত কথা? উনি কী এমন অন্যায় করেছেন? বরং সন্তানের প্রতি কাতর একজন মা, বিভোর একজন মা তাঁর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

পৃথিবীতে এমন কোন বান্ধব নেই যে মাকে হার মানায়। এমন কোন আলো নেই যে মাকে নিভিয়ে দেয়। এমন কোন ভালবাসা নেই যে তাকে পরাজিত করে।

 

আসুন আমরা এই ছবিতে তার পোষাক নিয়ে সমালোচনা না করে একজন মাকেই দেখি। প্রিয় সন্তানের জন্য মায়ের আত্মত্যাগটাকেই দেখি।

 

*লেখক: সালমা আনজুম লতা
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের মা।
অ্যারিজোনা থেকে।
১৩/০৯/২০২০।

শেয়ার করুন :