ক্যাম্পে ফিরলেন মারিয়া-মনিকারা ক্যাম্পে ফিরলেন মারিয়া-মনিকারা – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনের চতুর্থ তলায় নারী ফুটবলারদের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। পার্শ্বস্থ অ্যাস্ট্রো টার্ফে চলে তাঁদের অনুশীলন। কিন্তু গেল কয়েক মাস ধরে এ দুই স্থানে ছিল না নারী ফুটবলারদের কোনো পদচারণা। সেই নিরবতা অবশেষে ভেঙেছে। আজ থেকে ফের সেখানে ক্যাম্প শুরু করেছেন ৩৩ নারী ফুটবলার।

 

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মার্চ থেকে ক্যাম্প বন্ধ ছিল। ফলে ফুটবলাররা নিজেদের বাসা-বাড়িতে ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন ভার্চুয়াল মাধ্যমে সব তদারকি করছিলেন। এবার শিষ্যদের অবস্থা সরাসরি পরখ করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন নারী দলের এই কোচ।

 

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই আগামী বছরের মার্চে হওয়ার কথা। ওই বছরের এপ্রিলে হবে অনূর্ধ্ব-১৭ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই। এ দুই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই ৩৩ জন ফুটবলারকে নিয়ে শুরু হয়েছে ক্যাম্প।

 

অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জন্য ১৫ জনকে এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য ১৮ জন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আপাতত কম খেলোয়াড় নিয়ে ক্যাম্প শুরু হয়েছে।

 

মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, কৃষ্ণাদের নিয়ে গড়া অনূর্ধ্ব-২০ দল বেশ অভিজ্ঞ। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই জাতীয় দলে খেলেছেন। তবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বেশিরভাগই অনভিজ্ঞ। বাছাইয়ের জন্য এ দল হবে ২৩ জনের। এর মধ্যে মাত্র ১০ জনের আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।

 

বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, ‘আমাদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলটা নতুনই বলা যায়। কেবল মাত্র দশজনের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। বাকিরা অনভিজ্ঞ। নতুনদের নিয়ে দল তৈরি করাটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা আগেও হয়েছি এবং তাতে সফলও হয়েছি।’

 

আজ ক্যাম্প শুরু হলেও আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে অনুশীলন। দীর্ঘদিন ক্যাম্পের বাইরে থাকা মেয়েদের ফিটনেস নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন কোচ।

 

‘আগে দেখা যেত ছুটিতে বাড়ি গেলে মেয়েদের ওজন কম-বেশি হয়ে যেত। কিন্তু এবার তারা অনলাইনে নিয়মিত তাদের আপডেট আমাদের দিয়েছে। আশা করছি, ফিটনেস যে অবস্থায় আছে, তা থেকে দ্রুতই তারা আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে।’

 

বাফুফের উইমেন্স উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলছেন, ‘আমরা মোট ৬৪ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে প্রধম ধাপে ৩৩ জনকে ডেকেছি। পরীক্ষা আগে করানো হয়েছে সকলের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে। এর মধ্য থেকে একটা বড় সংখ্যা নিজ নিজ ক্লাবে চলে যাবে লিগ খেলার জন্য। তখন অন্যদের ক্যাম্পে নিয়ে আসব।’

 

অনেক দিন পর ক্যাম্পে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা বাড়িতে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুশীলন করেছি। তবে ক্যাম্পের অনুশীলনটাই আসল। ক্যাম্পে এসে সবাইকে অনেক দিন পরে দেখলাম। ভালো লাগছে।’

শেয়ার করুন :