কেন ব্যর্থ তামিম-মোসাদ্দেকরা? কেন ব্যর্থ তামিম-মোসাদ্দেকরা? – SportsTour24

রফিকুল ইসলাম কামাল :: চার ম্যাচে তিন পরাজয়। বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপে তামিম একাদশের ব্যর্থতা বোঝাতে আর কোনো তথ্য বোধহয় না দিলেও চলে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তামিম ইকবাল-মোসাদ্দেক হোসেনদের চেনা ছন্দে দেখা গেছে খুব কম সময়ই। শেষ ম্যাচের আগে অধিনায়ক তামিম ইকবালও ছিলেন ব্যর্থ। পুরো আসরে ব্যাটসম্যানরাই ভুগিয়েছেন দলকে।

 

ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর তামিম ইকবাল কোনো রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছেন, তাঁর দল ফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখে না।

 

প্রেসিডেন্ট’স কাপে কাল বুধবার মরণপণ লড়াই ছিল তামিমদের। নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশের বিপক্ষে জিতলে টিকে থাকবে ফাইনালের আশা, হারলেই বিদায়। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত একাদশ লক্ষ্য দিল মোটে ১৬৪ রানের।

 

রান তাড়ায় লক্ষ্যেই ছিল তামিম একাদশ। কিন্তু ৩০ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানে অলআউট তাঁরা! ৭ রানে ম্যাচ জিতে শান্ত একাদশ।

 

বোলাররা যেখানে দারুণ বোলিংয়ে নিজেদের কাজটুকু ঠিকঠাক করেছেন, সেখানে ব্যাটসম্যানরা করেছেন দায়িত্বহীন ব্যাটিং। টুর্নামেন্টে তামিম একাদশও তাই বিবর্ণ।

 

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দায় তামিম ইকবাল নিজেও এড়াতে পারেন না। প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মোটে ৪৪ রান! অবশ্য দলের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে তিনি করেছেন ফিফটি (৫৭)। কিন্তু উইকেট সেট হয়ে গিয়েও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেন নি এই বাঁহাতি। তাঁর বিদায়ের পরই মূলত কাল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তামিম একাদশের ব্যাটিং।

 

তামিম একাদশের মেহেদি হাসান (চার ম্যাচে ১০৬ রান) ও তামিম ইকবালই (চার ম্যাচে ১০১ রান) শুধু আসরে শত রানের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন।

 

প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিলেন এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাইফউদ্দিন, আকবর আলীরা।

 

চার ম্যাচে মোসাদ্দেক ৬৩ রান, সাইফউদ্দিন ৬৩ রান, এনামুল হক বিজয় ৪৫ রান, মোহাম্মদ মিঠুন ৩৫ রান করেছেন।

 

তানজিদ হাসান তামিম তিন ম্যাচে ৩৬ রান, দুই ম্যাচে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৯ রান, ইয়াসির আলী ৬৮ রান, আকবর আলী ৩ রান করেছেন।

 

বিপরীতে তামিম একাদশের বোলররা ছিলেন ছন্দে। সাইফউদ্দিন ১২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। মোস্তাফিজুর রহমান ৮ উইকেট, শরীফুল ইসলাম ৪ উইকেট, তাইজুল ইসলাম ৩ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন।

 

ব্যাটসম্যানেরদ ব্যর্থতার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন দলনায়ক তামিম ইকবালও।

 

দেশসেরা এই ওপেনার বলছিলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, আমার মনে হয় আমরা ফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখি না। (কাল বুধবার) আমি যখন আউট হই তখনো বলের সাথে রানের অনেক ব্যবধান ছিল, প্রয়োজনের রানের চেয়ে ৩০ বল বেশি ছিল। ওই জায়গা থেকে এই জায়গায় (হার) ম্যাচ এসে যাবে, এটা আমি নিজেও কল্পনা করিনি। তিন ম্যাচেই আমরা দল হিসেবে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’

 

ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো তামিম প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বোলারদের।

 

‘সব ম্যাচেই বোলিং ইউনিট চমৎকার করেছে। সাইফউদ্দিন, শরীফুল, মেহেদি….বোলারদের পারফরম্যান্স সত্যিই ভালো ছিল। তবে আমিসহ সব ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্স যতটা ভালো হওয়ার কথা ছিল তার কাছাকাছিও যায়নি।’

শেয়ার করুন :