কঠোর বার্তা দিলেন কাজী সালাউদ্দিন কঠোর বার্তা দিলেন কাজী সালাউদ্দিন – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: রোববার বিকাল সাড়ে ৩টা। রাজধানীর মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে আচমকাই বেড়ে গেল ব্যস্ততা। কারণ আর কিছুই নয়, টানা চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়া কাজী মো. সালাউদ্দিন এসেছেন। এরপর শুরু হলো তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো আর মিষ্টিমুখ করানোর ধুম।

 

এসব থামতেই বাফুফের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মানিক ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন কাজী সালাউদ্দিন। পরে নতুন লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সাথে।

 

কাজী সালাউদ্দিন এবার জেলার ফুটবল নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, যদি কোনো জেলায় পরপর দুই বছর লিগ না হয়, তবে ওই জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাফুফের কাউন্সিলরশিপ হারাবেন।

 

সাবেক তারকা ফুটবলার বলেন, ‘১২ বছর হয়ে গেছ, এখন একটা জায়গায় এসেছে ফুটবল। এখন এগিয়ে নিতে হলে ফেডারেশন ও ক্লাবগুলোর মধ্যে ডিসিপ্লিনটা থাকতে হবে।’

 

‘আমরা এবার একটা ফর্মুলা করবো যেটা ফিফা-এএফসি করেছে। আপনার জেলায় পরপর দুই বছর লিগ না হলে আপনি কাউন্সিলরশিপ হারাবেন। ফিফা এরকমটা হলে ব্যান করে দেয়। এই নিয়মগুলো যদি আমি প্রথম থেকেই আরম্ভ করে দিতাম, তখন আপনারাই আমাকে মারতেন। এখন তো একটা ফরম্যাটে এসেছে, এখন আমার কিছু কথা শুনতে হবে।’

 

শনিবার অনুষ্ঠিত বাফুফে নির্বাচনে ‘সম্মিলিত পরিষদের’ সভাপতি প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন ৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাদল রায় পান ৪০ ভোট। আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিকের পাতে পড়ে মাত্র এক ভোট।

 

নতুন পথচলায় সালাউদ্দিন যুব ফুটবলে নজর দেওয়ার কথাও বলছেন, ‘বারবার বলছি আমাদের কাজ নয় ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট, তবে সেটা নিয়ে এ বছর থেকে কাজ করবো। আর জেলায় যে তিনটি টুর্নামেন্টের কথা বলেছি, বঙ্গবন্ধু সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, শেখ কামাল জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ, শেখ রাসেল জাতীয় অনূর্ধ্ব-১২ চ্যাম্পিয়নশিপ। বছরে এই তিনটি প্রতিযোগিতা হলে জেলার ফুটবল চাঙা হবে। এই তিনটি প্রতিযোগিতা হোম অ্যান্ড আ্যাওয়ে ভিত্তিতে করতে পারলে সেখানে ব্যস্ততা বেড়ে যাবে।’

 

জেলার ফুটবল নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেন, ‘জেলা লিগগুলো তো প্রতিটি জেলার সংগঠকদের করার কথা। কিন্তু সেটা আপনারা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। সেটা তো আমার দায়িত্ব না। যে জেলায় লিগ হয় না, ওই জেলার সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করেন না কেন লিগের বিষয়ে। বাংলাদেশে লিগ না হলে তার দায় তো ফিফার প্রেসিডেন্টের হবে না। সেটা আমার দায়িত্ব।’

 

কাজী সালাউদ্দিনের সম্মিলিত পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ১৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে। ছয়টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সমন্বয় পরিষদের’ প্রার্থীরা। চারটি সহ-সভাপতি পদের মধ্যে তিনটিতেই বিজয়ী হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের প্রার্থীরা। আরেকটি সহ-সভাপতি পদে তাবিথ আউয়াল ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহির ভোট সমান ৬৫ করে হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পুনরায় ভোট হবে।

 

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কাজী সালাউদ্দিন বলছেন, এখন ফুটবল আরও বেগবান হবে।

 

‘আগের সালাউদ্দিন ২০০৮ সালে যখন দায়িত্ব নিয়েছিল তখন মাঠে খেলা ছিল না। ২০২০ সালের মধ্যে আগের সালাউদ্দিন লিগটা মাঠে রেখেছে। নতুন সালাউদ্দিন সেই বলটা মাঠেই রাখবে উইথ হাই স্পিড অ্যান্ড মোর এনার্জি। কারণ এখন মাঠে বল রাখাটা অভ্যাস হয়ে গেছে। আগে যেটা ছিল না। এখন বেগবান গতিতে ফুটবল এগিয়ে চলবে।’


আরও পড়ুন>>

আবারও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

বাফুফে নির্বাচন: তাবিথ-মহি সমান, হবে ফের ভোট

সালাউদ্দিন এখন কী করবেন?


সালাউদ্দিনকে নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেন যে, তিনি টানা ১২ বছর দায়িত্বে থেকেও ফুটবলের উন্নয়ন করতে পারেন নি। তবে সালাউদ্দিন ‘অহেতুক’ সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না।

 

‘সমালোচনা আপনি করতেই পারেন, বুঝে করেন আর না বুঝে। কর্মকাণ্ড হয় ফুটবলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ১৩৯টি সংস্থা ক্লাব, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় সব মিলিয়ে। নির্বাচন হয় এই ১৩৯ জনের ভোটে। কোনও কোটিপতি, কোনও গরীব কিংবা রাস্তার কোনও লোকের ভোটে না। ১৩৯ জন যারা ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। আমি দেখছি ২০০৮ সালে যে ভোট পেয়েছিলাম, ২০১৬ তে তার থেকে বেশি পেয়েছি। আর এবার আরও বেশি পেয়েছি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাকে বকাবকি করছে,এটা হয়তো তাদের অভ্যাস।’

শেয়ার করুন :