ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াকু জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াকু জয় – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: ২০০ রান। লক্ষ্যটা খুব বড় কিছু নয়। আবার টেস্টের চতুর্থ ইনিংসের জন্য ছোটও নয় মোটে। সেই লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই পড়ে বিপদে। এরপর শুরু জার্মেইন ব্ল্যাকউডের লড়াই। বুক চিতিয়ে লড়ে দলকে কক্ষপথে ফিরিয়ে তবেই ফিরেছেন এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। জফ্রা আর্চার-আন্ডারসনদের গতির ঝড় সামলে ব্ল্যাকউডের দুর্দান্ত ইনিংসে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জেসন হোল্ডারের দল।

 

তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০’তে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। করোনাকালের বিরতি শেষে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ জিতে সময়টা স্মরণীয় করে রাখলো ক্যারিবিয়ানরা।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় মোটেও সহজ কিছু ছিল না। জফ্রা আর্চার শুরুতেই ছোবল দিয়েছেন, সঙ্গ দিয়েছেন মার্ক উড আর অধিনায়ক বেন স্টোকস।

 

আর্চারের গতির ঝড়ে টালমাটাল হয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে (৪) বোল্ড করে ফেরান একই পেসার।

 

রানের খাতা খোলার আগেই শাহারাহ ব্রোকসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পেলেন আর্চার। শেই হোপকে (৯) বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান মার্ক উড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭ রানে হারিয়ে বসে ৩ উইকেট।

 

এরপর রোস্টন চেইজ আর জার্মেইন ব্ল্যাকউডের প্রতিরোধ। দু’জনের ৭৩ রানের জুটি ভাঙে চেইসের (৩৭) বিদায়ে। অসাধারণ বাউন্সে হন্তারক সেই আর্চার। চেইস উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাটলারকে।

 

দুইবার জীবন পাওয়া ব্ল্যাকউড এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। বেন স্টোকসের বলে ২০ রানে জস বাটলারকে আর ২৯ রানে ররি বার্নসকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

 

এরপর শেন ডাওরিচকে নিয়ে আরেকটি কার্যকর জুটি গড়েন ব্ল্যাকউড। এ জুটিতে ৬৮ রান ওঠার পর বিদায় নেন ডাওরিচ (২০)। স্টোকসের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। অথচ ঠিক আগের বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে নো বলের কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি! আর শুরুতে নিজের ৫ রানে রিভিউ নিয়ে একবার রক্ষা পান তিনি।

 

জার্মেইন ব্ল্যাকউড এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু তাঁর স্বপ্নভঙ্গ করেন ইংলিশ দলপতি স্টোকস। ব্ল্যাকউডের ১৫৪ বলে ১২ চারে গড়া ৯৫ রানের লড়াকু ইনিংস শেষ হয় স্টোকসের বলে মিডঅফে আন্ডারসনের ক্যাচ হয়ে।

 

ততোক্ষণে জয়ের নাগাল পেয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। চোট পেয়ে বাইরে যাওয়া ক্যাম্পবেল ফিরে আসেন ক্রিজে। এবার উডের বল লাগে তাঁর হেলমেটে। কিন্তু জয়ের নাগাল পেয়ে যাওয়া ক্যাম্পবেল আর হাল ছাড়েন নি। দলনায়ক হোল্ডারকে সাথে নিয়ে জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

 

টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে দুইশৎ কিংবা এর চেয়ে কম রানের লক্ষ্য নিয়ে কখনো হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই রেকর্ড অক্ষুণ্নই থাকলো।

 

সাউদাম্পটনের রোজ বৌলে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। আরো ২৯ রান যোগ করে ৩১৩ রানে শেষ হয় তাঁদের ইনিংস। ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের সেরা বোলাল শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো পেলেন পাঁচ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তাঁর শিকার ছিল ৪ উইকেট।

 

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ২০৪ রান তোলার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ৩১৮ রান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস- ২০৪ রান (বেন স্টোকস ৪৩, জস বাটলার ৩৫, ডম বেস ৩১, ররি বার্নস ৩০। হোল্ডার ৬ উইকেট, গ্যাব্রিয়েল ৪ উইকে।)

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস- ৩১৮ রান (ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৬৫, ডাউরিচ ৬১, চেইস ৪৭, ব্রোকস ৩৯। স্টোকস ৪ উইকেট, আন্ডারসন ৩ উইকেট।)

 

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস- ৩১৩ রান (জ্যাক ক্রউলি ৭৬, ডম সিবলি ৫০, স্টোকস ৪৬, বার্নস ৪২। গ্যাব্রিয়েল ৫ উইকেট।)

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস- (লক্ষ্য ২০০ রান) ৬৪.২ ওভারে ২০০/৬ (ব্র্যাথওয়েট ৪, ক্যাম্পবেল ৮*, হোপ ৯, ব্রুকস ০, চেইস ৩৭, ব্ল্যাকউড ৯৫, ডাওরিচ ২০, হোল্ডার ১৪*; অ্যান্ডারসন ১৫-৩-৪২-০, আর্চার ১৭-৩-৪৫-৩, উড ১২-০-৩৬-১, বেস ১০-২-৩১-০, স্টোকস ১০.২-১-৩৯-২)

 

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

শেয়ার করুন :