একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া খেলবে দুই দেশে! একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া খেলবে দুই দেশে! – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: অতি সম্প্রতি ইংল্যান্ডের দুটি দল পর পর দুই দিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছে। দুটি সংস্করণে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি দল ছিল ইংলিশদের।

 

সেই পথে এবার হাঁটার ভাবনায় আছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অজিদের দুটি জাতীয় দল একই সময়ে দুটি দেশে ভিন্ন দুটি সিরিজ খেলতে পারে।

 

অস্ট্রেলিয়া আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে তাঁদের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। এই সিরিজের সূচি চূড়ান্ত।

 

ওই একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তাবিত একটি টেস্ট সিরিজ আছে অজিদের।

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই সফর যদি চূড়ান্ত হয়, তবে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় দল দুটি ভিন্ন দেশে খেলবে।

 

মূলত করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ থাকায় সূচিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু স্থগিত সিরিজ এখন আয়োজন করতে গিয়ে চাপ বাড়ছে।

 

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য আগেই একই সময়ে দুটি ভিন্ন জাতীয় দল খেলিয়েছে। ২০১৭ সালে অজিদের একটি দল ছিল ভারতে, টেস্ট সিরিজ খেলতে। ওই সময়ে তাঁদের টি-টোয়েন্টি দল ছিল শ্রীলঙ্কায়। অজিদের ওই টি-টোয়েন্টি দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ ছিলেন ল্যাঙ্গার।

 

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দল খেলে নিউজিল্যান্ডে। ওই সময়ে টেস্ট দল ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।

 

এবার দুটি জাতীয় দল খেলানো নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের ভাবনা একদমই পছন্দ হয়নি দেশটির প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের।

 

এসইএন রেডিওর সঙ্গে আলাপচারিতায় ল্যাঙ্গার নিজের আপত্তির কথা জানান।

 

‘একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দুটি দল আমি কখনোই দেখতে চাই না। আমার ব্যক্তিগত মত এটি। এ বছর কোভিড পরিস্থিতিতে যা কিছু হচ্ছে, সেই জটিলতা আমি অবশ্যই বুঝি। কিন্তু আমরা একটিই দেশ, তাই না? আমরা দুটি দেশ নই এবং একটিই খেলা।’

 

‘শুধু কোচের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রতি আবেগ আছে, এমন প্রতিটি মানুষের কথা ভেবেই আমার মতামত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীকে জানিয়েছি। স্পষ্টভাবে বলেছি, আমার এটি একটুও পছন্দ হয়নি।’

 

সাবেক ক্রিকেটার জাস্টিন ল্যাঙ্গারের আপত্তির জায়গা আরেকটি। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঘরোয়া বড় দৈর্ঘ্যের টুর্নামেন্ট মনে করা হয় অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ডকে। অস্ট্রেলিয়া যে সময়ে নিউজিল্যান্ডে খেলবে, সে সময়ে শেফিল্ড শিল্ডও চলমান থাকবে। ওই সময়ে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অজিদের আরেকটি দল চলে যায়, তবে শেফিল্ড শিল্ড শীর্ষ ক্রিকেটারদের হারাবে।

 

ল্যাঙ্গার বলছিলেন, ‘দুটি জাতীয় দল খেলানোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক, ১৮ জনের দল থাকবে নিউজিল্যান্ডে, ১৮ জন দক্ষিণ আফ্রিকায়, মানে শেফিল্ড শিল্ডের শেষ ভাগে ৩৬ জন শীর্ষ ক্রিকেটার থাকবে না। সঙ্গে চোট-আঘাত তো আছেই, যেটা অবধারিত। এতো জন শীর্ষ ক্রিকেটারকে ছাড়াই শেফিল্ড শিল্ডের শেষ ভাগ খেলতে হবে, অথচ সবসময়ই আমরা বলে আসছি, এটি বিশ্বের সেরা ঘরোয়া প্রতিযোগিতা।’

শেয়ার করুন :