উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বিশ্বকাপ জয়! উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বিশ্বকাপ জয়! – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, দুঃশ্চিন্তা, ভয়। এগুলো মানসিক যন্ত্রণা। যারা এর মধ্য দিয়ে যান, তারাই বুঝতে পারেন এগুলোর ভয়াবহতা কতোটা। কিন্তু এমনও তো হয়, এসব ভয়, উদ্বেগকে শক্তিতে রূপ দিয়ে কেউ কেউ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেমে প্রস্ফুটিত করেন।

 

এই যেমন লিয়াম প্লাঙ্কেট। ইংল্যান্ডে এই পেসার বলছেন, ভয়, দুঃশ্চিন্তা নিয়েই ২১০৯ বিশ্বকাপ জিততে পেরেছেন। এগুলো এখন তাঁর শক্তি।

 

দ্যব্রোকেন ট্রফি পডকাস্টে নিজের জীবনের এই আড়ালে পড়ে থাকা দিক তুলে ধরেছেন প্লাঙ্কেট। তিনি বলছেন, ‘ভয়, দুঃশ্চিন্তা, অন্তত ২০১০ সাল থেকে ভোগাচ্ছিল আমাকে। সত্যিই আমার মধ্যে অনেক বেশি উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কাজ করত..…খুব খারাপ অবস্থা ছিল যখন আমি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম এবং সেখানে ক্লাব ক্রিকেট খেলতাম। এমনও হয়েছে, টানা আট দিন বেডরুম থেকে বের হতে পারিনি। আমি কোনো একজনের সঙ্গে থাকতাম এবং এই সব ভয়, দুঃশ্চিন্তা সঙ্গী করেই থাকতাম।’

 

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে ইংল্যান্ড। তাতে বড় ভূমিকা ছিল প্লাঙ্কেটের। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। গত বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ৪.৮৫ ইকোনমিতে নেন ১১ উইকেট। মাঝের ওভারগুলোয় উইকেট এনে দেওয়ার গুরু দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ঠিকঠাক পালন করেছেন তিনি।

 

এই পেসার বলছেন, দুঃশ্চিন্তা, ভয় আর উৎকণ্ঠা না থাকলে তিনি চূড়ায় উঠতে পারতেন না, ‘এখনও পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, দুঃশিন্তাগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার, যা আমি কিছুটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছি। মনে হয়, ওই ভয়টা না থাকলে আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারতাম না, বিশ্বকাপ জয়ে দলকে সাহায্য করতে পারতাম না, এমনকি বিশ্বকাপ দলেও থাকতাম না।’

 

‘আমার জীবনে যে বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেদিকে এটাই আমাকে পরিচালিত করেছে। একা একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমি উৎকণ্ঠায় ভুগতে পারি, কিন্তু এরপরই ৩০ হাজার মানুষের সামনে গিয়ে খেলতে পারি। তখন আমার কিছুই মনে হবে না। আর তাই, ভয় পাওয়া, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া-এগুলো থাকায় আমি কৃতজ্ঞ।’-যোগ করেন প্লাঙ্কেট।

 

শেরিয়ানা বয়েলের লেখা ‘দ্য ফোর গিফট অব এনজাইটি’ বইটিও ভীষণ কাজে দিয়েছে বলে জানান প্লাঙ্কেট।

 

বাংলাদেশে বাঁহাতি স্পিনের পথিকৃৎ আর নেই

 

মনের ভীতি কিভাবে কাটান প্লাঙ্কেট?

‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখনও সচেতন। আমাকে কি বা কোন বিষয়গুলো উদ্বিগ্ন করে তোলে, আমি জানি। কীভাবে ভীতি আমার মনে চেপে বসেছে, এর কারণ কি, কীভাবে প্রস্তুত হতে পারি এবং এমনটা আবার হলে তখন কী করব-এসব বুঝতে আমার ১০ বছর লেগেছে। যখনই আমি বুঝতে পারি যে কোনো কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছি, ভয় জেঁকে বসতে যাচ্ছে, তখন অনুভূতিটাকে আমি নিজের অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করি, এরপর ধীরে ধীরে সব ঠিক হতে শুরু করে। একটা বই পড়েছিলাম, দা ফোর গিফট অন এনজাইটি, এটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

 

বিষয়টি নিয়ে এখন যেমন সহজেই কথা বলতে পারছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তা ভিন্ন ছিল বলে মন্তব্য প্লাঙ্কেটের, ‘ভয় আর দুঃশ্চিন্তা একজন মানুষের কী হাল করতে পারে, সবাই জানে। আমরা দেখেছি, এতে মানুষের কি অবস্থা হয়। এটা একটা ভালো জায়গা যেখানে নিজেকে নিয়ে বিব্রত বা লজ্জিত না হয়ে কারো সঙ্গে কথা বলা যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই কথা বলা উচিত।’

 

তদন্তের মুখে ভারত-শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ ফাইনাল

 

যারা এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যান, তারা যেন আলোচনা করেন, কথা বলেন, সেই তাড়া দিয়েছেন প্লাঙ্কেট।

 

“মানুষ রোগটাকে যতটা বিরল ভাবে, আসলে ততটা না। অনেকের মাঝেই দেখা যায়। যখন কারও এটা হয়, সে মনে করে সমস্যাটা তার একারই সামলাতে হবে। কিন্তু এ নিয়ে কথা বললে দেখা যায় একজন বলছে, ‘আমার ক্ষেত্রে এটা কাজ করেছে।’ এরপর আরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এটা অনেকটা ক্রিকেটের মতো; যেখানে আপনি অনেক মানুষের থেকে অনেক কিছু শিখবেন। আমি হয়তো একটু ধ্যান করব, আরেকজন হয়তো চাপমুক্ত থাকার জন্য অন্য কিছু করবে।”

 

স্পোর্টসট্যুর২৪ডটকম/আরআই-কে

শেয়ার করুন :