ইফতিখার চমকে সিরিজ জিতলো পাকিস্তান ইফতিখার চমকে সিরিজ জিতলো পাকিস্তান – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর ডেস্ক :: প্রায় ৯ বছরের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ার ইফতিখার আহমেদের। কখনোই কোনো ম্যাচে ৩ উইকেটের বেশি পান নি। আগে ৫ ওয়ানডে খেলে নিতে পারেন মাত্র ১ উইকেট। সেই ইফতিখার আজ হঠাৎ করেই দারুণ চমক দেখালেন অফ স্পিন বোলিংয়ে। কার্যকর বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের মিডল ও লোয়ার-মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে নিলেন ৫ উইকেট।

 

২০৬ রানে জিম্বাবুয়েকে বেঁধে রেখে পাকিস্তান পরে জিতেছে ৬ উইকেটে। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন বাবর আজম। তার ৭৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করেই ৮৮ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

 

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ২৬ রানে হেরেছিল জিম্বাবুয়ে। টানা দ্বিতীয় জয়ে ২-০’তে এগিয়ে পাকিস্তান।

 

ইফতিখার মূলত ব্যাটসম্যান। মাঝেমধ্যে বল ঘুরান। ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার আজও হাতে পেলেন বল। আর তাতেই চমকে দিলেন জিম্বাবুয়েকে।

 

রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। দলটির অধিনায়ক চামু চিবাবাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানকে ব্রেক থ্রু এনে দেন হারিস রউফ। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই অভিষিক্ত হওয়া তরুণ পেসার দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পেলেন প্রথম উইকেটের দেখা।

 

আরেক অভিষিক্ত পেসার মুসা খান নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট শিকার করেন। ক্রেইগ আরভিন বাইরের বলকে স্টাম্পে টেনে এনে উইকেট উপহার দেন মুসাকে।

 

ওপেনার ব্রায়ান চারি (৪৬ বলে ২৫) ফিরে যান ফাহিম আশরাফের শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ব্রেন্ডন টেইলর জুটি গড়ে তুলেন শন উইলিয়ামসের সাথে। দুজনের পাল্টা আক্রমণে খানিকটা দিশেহারা হয় পাকিস্তানের বোলিং। মূল বোলাররা যখন রান দিচ্ছিলেন বোলিংয়ে, তখনই ইফতিখারকে দৃশ্যপটে হাজির করেন বাবর আজম।

 

তাতেই পাল্টে যায় চিত্র। ইফতিখালের ঘূর্ণিতে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন টেইলর (৩৬)। শুরু হয় আসা-যাওয়া। জিম্বাবুয়ের শেষ ৬ ব্যাটসম্যানের মধ্যে কেউই ২০ রানের ঘরে পা রাখতে পারেন নি।

 

তবে লড়াই করছিলেন উইলিয়ামস। তিনিও ধরা দেন ইফতিখারের জালে। ৭০ বলে ১০টি চার ও ১টি ছয়ে ৭৫ রান করা উইলিয়ামসকে বিদায় করে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ইফতিখার।

 

অবিশ্বাস্যভাবে আজ উইকেটহীন ছিলেন বাঁহাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। অথচ আগের চার ম্যাচেই নিয়েছেন ১৮ উইকেট!

 

অভিষিক্ত ২০ বছর বয়সী পেসার মুসার ঝুলিতে যায় ২ উইকেট। ৪৫.১ ওভারে ২০৬ রানে আটকে যায় জিম্বাবুয়ে।

 

সহজ লক্ষ্য তাড়ায় অনায়াসে ব্যাটিং চালিয়ে যান পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আবিদ আলী। দুজনের জুটিতে ১০ ওভারে আসে ৬৮ রান। এ দুজনকে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার টেন্ডাই চিসোরো। আবিদ ক্যাচ দেন শর্ট কাভারে (২২), ইমাম কট বিহাইন্ড হন লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে (৪৯)।

 

হায়দার আলীকে পাকিস্তানের ভবিষ্যত তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তরুণ অভিষেকে ব্যাট করতে নামলেন চারে। কিন্তু শুরুটাই হলো নড়বড়ে। প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। পরের ওভারে তাকে জীবন দেন কিপার টেইলর। পরে অবশ্য নিজের ঝলক দেখিয়েছেন হায়দার। কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ২৪ বলে ২৯ রানে ফিরে যেতে হয় তাকে।

 

দ্রুত ফিরে যান মোহাম্মদ রিজওয়ানও। কিন্তু স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান বাবর আজম পাকিস্তানের বিপদ বাড়তে দেননি। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করা পাকিস্তান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৭৪ বলে ৭৫ রান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর>>

জিম্বাবুয়ে: ৪৫.১ ওভারে ২০৬। চারি ২৫, চিবাবা ৬, আরভিন ৩, টেইলর ৩৬, উইলিয়ামস ৭৫, মাধেভেরে ১০, রাজা ২, চিসোরো ৭, মুম্বা ১১, মুজরাবানি ১৭ এনগারাভা ১*।

আফ্রিদি ১০-১-৩৬-০, রউফ ৭-০-৩১-১, মুসা ৬.১-১-২১-২, ফাহিম ৭-১-৩০-১, ইমাদ ৫-০-৪৩-১, ইফতিখার ১০-২-৪০-৫।

 

পাকিস্তান: ৩৫.২ ওভারে ২০৮/৪। ইমাম ৪৯, আবিদ ২২, বাবর ৭৭*, হায়দার ২৯, রিজওয়ান ১, ইফতিখার ১৬*।

এনগারাভা ৪-০-২৫-০, মুজারাবানি ৮-০-৪৮-০, মুম্বা ১-০-১২-০, চিসোরো ১০-০-৪৯-২, মাধেভেরে ২.২-০-১৪-০, উইলিয়ামস ৫-০-৩১-১, রাজা ৫-১-২৩-১।

 

ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইফতিখার আহমেদ।

শেয়ার করুন :