আলোচিত সুমন খানের চোখ জাতীয় দলে আলোচিত সুমন খানের চোখ জাতীয় দলে – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: এক ফাইনালের পারফরম্যান্সেই অনেক কিছুই যেন বদলে গেছে সুমন খানের। তরুণ এই পেসার এখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু। বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পাওয়া সুমন খান যোগ দিয়েছেন হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ক্যাম্পে।

 

সেখানেই নিজেকে শাণিত করার কথা বলেছেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণ পেসার। তার চোখে যে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ভাসে, সেটাও ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

প্রায় দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন সুমন খান। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছিলেন তিনি। কিন্তু মাথায় ক্রিকেটের পোকা ঢুকে যাওয়ায় বিকেএসপিতে নাম লিখিয়ে নেন মানিকগঞ্জের এই ছেলে। যে স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটের পথে বাড়িয়েছিলেন, সে স্বপ্নে নতুন রঙ লেগেছে গেল রোববার ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপে।

 

ফাইনালে ৫ উইকেট। এর আগে দুই ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তিন ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে বিসিবি সভাপতির বিশেষ পুরস্কারও তার কপালে জুটেছে।

 

হুট করে লাইমলাইটে আসা সুমন খান ‘সব পেয়ে গেছি’র আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না মোটেও। বরঞ্চ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা না থাকা এই পেসারের লক্ষ্য এইচপি ক্যাম্পে নিজের স্কিল ও ফিটনেসের আরও উন্নতি করা।

 

সুমন খান বাংলাদেশ ইমার্জিং দল, বিসিবি একাদশের হয়ে খেলেছেন। কিন্তু বয়সভিত্তিক কোনো ধাপেই খেলা হয়নি তার। শেখার পথের এই সিঁড়ি না পেরোনোয় এখন নিজেকে ঘষামাজা করতে চান তরুণ পেসার।

 

৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এইচপি ক্যাম্পে মাঝে ছেদ পড়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপের জন্য। এইচপির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার স্থান পান ওই টুর্নামেন্টের তিনটি দলে। টুর্নামেন্ট শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে ফের শুরু হয়েছে ক্যাম্প। যেখানে এইচপির নতুন কোচ টবি র‍্যাডফোর্ড পুরো স্কোয়াড নিয়ে কাজ করছেন।

 

এই ক্যাম্পকে বড় সুযোগ হিসেবেই মনে করছেন সুমন খান।

 

‘এইচপি একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে আমি এখানে এসেছি, আমার কোনো বয়সভিত্তিক খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। বিসিবি একটা সুযোগ করে দিয়েছে এখানে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। নিজের স্কিল ও ফিটনেসের উন্নতি করার সুযোগ এটি। এইচপি একটা ভালো জায়গা, নিজেকে প্রস্তুত করার অন্যতম মাধ্যম।’

 

মুখ ফুটে ‘জাতীয় দলে খেলতে চাই’ বলেন নি সুমন খান। কিন্তু তার কথায়ই ফুটে ওঠলো তিনি জাতীয় দলে খেলতে চান এবং সেটা দীর্ঘমেয়াদে।

 

‘বিশেষ করে তরুণ বা উঠতি ক্রিকেটার যারা, তাদের জন্য রাস্তা বা সিঁড়ি যেটাকে বলে, এখান থেকে আসলে প্রস্তুত করা যায়। জাতীয় দলে যাওয়ার আগে যদি এখান থেকে পারফরম্যান্স, মানসিকতায় বা টেকনিক্যালি নিজেকে প্রস্তুত করা যায়, পরে জাতীয় দলে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটা এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেটি খেলোয়াড় গড়ে তোলার মাধ্যম।’

 

সুমন খান বলছিলেন, ‘আসলে যেদিন থেকে পড়াশোনা ছেড়ে ক্রিকেটে চলে আসি, সেদিন থেকে আমার সব মনোযোগ ক্রিকেটেই। ক্রিকেট নিয়েই এগিয়ে যাব, আশা আছে টপ লেভেল খেলার। ইন শা আল্লাহ, একদিন খেলব।’

শেয়ার করুন :