আরও ১৮৬ উপজেলায় হচ্ছে ‘মিনি স্টেডিয়াম’ আরও ১৮৬ উপজেলায় হচ্ছে ‘মিনি স্টেডিয়াম’ – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ১২৫টি ‘মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

 

আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানা।

 

খেলাধুলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর যে ভালোবাসা তা অতুলনীয়। ক্রীড়া নিয়ে যখন কথা হয় অনেকে অবাক হন যে, তিনি এতো সময় ফোনে আলোচনা করেন। তার নেতৃত্বে জেলা ও বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পর উপজেলা পর্যায়ে ১২৫টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে পেরেছি। এই অর্থ বছরে আরো ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে জিমনেসিয়াম কাম ইনডোর স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য সুইমিংপুল নির্মাণ করে দিচ্ছি।’

 

দাবায় বাংলাদেশের চেয়ে পার্শ্বস্থ দেশগুলো এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন জাহিদ আহসান রাসেল। দাবাকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে স্থায়ী জায়গা ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

‘দাবায় উপমহাদেশে প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার আমাদের সন্তান। অনেক দেশ যখন কল্পনাও করতে পারেনি, তখন আমরাই এই অঞ্চলে প্রথম অর্জন করতে পেরেছি। এটিকে ধরে রাখতে হবে। পাশ্ববর্তী অনেক দেশ যারা পিছিয়ে ছিল, তারা অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু সেভাবে এগোতে পারিনি।’

 

‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাবা ফেডারেশনের সভাপতি বেনজীর আহমেদকে। দাবা ছোট্ট একটা ঘরের মধ্যে হতো। বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পর ছোট্টঘর থেকে বের করে দাবার বড় বড় আয়োজন করছেন এবং খেলাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, সেদিন বেশি দূরে নয় যখন বাংলাদেশ কেবল উপমহাদেশেই নয়, বিশ্ব দরবারেও দাবায় মাথা উঁচু করে দাড়াবে ইন শা আল্লাহ!’

 

‘(দাবার জন্য) একটি জায়গা ঠিক করার চেষ্টা করছি। কারণ, যেখানে দাবা চলে তা দিয়ে বিশ্বমানের চিন্তা করাটাও দূরের বিষয়। আমরা সমাধানে আসতে যাচ্ছি। দ্রুত যেন দাবার জন্য স্থায়ী জায়গা হতে পারে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে। আমরা মুজিববর্ষে বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবো।’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়। সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিল ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এ দাবা প্রতিযোগিায় ১৭ জন গ্র্যান্ডমাস্টারসহ ১৪টি দেশের ৭৪ জন দাবাড়ু অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হন ইন্দোনেশিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার মেঘারেন্ত সুশান্ত।

 

আজ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন এবং সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দাবার এই ইভেন্টটি জাতির জন্য, স্পোর্টসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালীন বিশ্ব দাবাই চলে গেছে অনলাইনে। আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে আমরাই এতো বড় একটা ইভেন্ট করতে পেরেছি। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

 

‘ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই জায়গার কথা বলি। যতোক্ষণ জায়গা না দেবেন চাইতেই থাকবো। বড় এবং ভালো জায়গা পেলে আরো ভালো করতে পারবো। আমি ঘোষণা দিতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এই দাবা টুর্নামেন্ট প্রতিবছর আয়োজন করবো। এটা হবে বাংলাদেশের একটা গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট।’

 

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক দাবায় চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়া

 

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন এশিয়ান চেস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিশাম আল তাহির। উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাক সৈয়দ শাহাব উদ্দিন শামীম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম, গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আমির আলী রানা, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন ও নেতৃত্বের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রাইজমানি ছিল ৬ হাজার ডলার। চ্যাম্পিয়ন সুশান্ত পেয়েছেন ১ হাজার ২০০ ডলার।

শেয়ার করুন :