আমি নাটের গুরু ছিলাম না: আশরাফুল আমি নাটের গুরু ছিলাম না: আশরাফুল – SportsTour24

স্পোর্টসট্যুর প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটা এমন কাণ্ড, যা নিয়ে অনেক কিছুই হয়েছিল। দেশের ক্রিকেটে রীতিমতো বড় এক ধাক্কা হয়েই এসেছিল সেই কাণ্ড। সেই ধাক্কা অবশ্য ভালোভাবেই কাটাতে পেরেছিল ক্রিকেট।

 

তবে আলোচিত সেই আইসিএল (ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ) কাণ্ড নিয়ে এখনও কথা হয় বাংলাদেশের সদরে-অন্দরে। অনেকেই মোহাম্মদ আশরাফুলের দিকে আঙুল তুলেন যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইসিএলে যাওয়ার পেছনে তাঁর হাত আছে, তিনিই ‘নাটের গুরু’।

 

তবে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি নাটের গুরু ছিলেন না।

 

ক্রীড়াসাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের উপস্থাপনায় ইউটিউব এবং ফেসবুকে ‘নট আউট নোমান’ শীর্ষক লাইভ অনুষ্ঠানে আশরাফুলকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়।

 

তিনি নাটের গুরু ছিলেন কিনা জানতে চাওয়া হলে আশরাফুল বলেন, ‘‘আমি পুরো দল গুছিয়ে দিয়েছি এমন অভিযোগ সঠিক নয়। ওই দলে অনেক ক্রিকেটারই যোগ দিয়েছিলেন, যাদের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। আবার অনেকে খেলেছেন, যাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আসলে প্রস্তাবটা আমার কাছেই এসেছিল। কারণ, আমিই তখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলাম। ব্যাপারটা এমন ছিল যে, আমি যদি যাই তাহলে বাংলাদেশের একটি দল আইসিএল খেলতে যাবে।’

 

সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করা আশরাফুল বলেন, ‘‘আমার কাছে যখন প্রস্তাব আসে তখন আমি সবাইকে বলেছি, তোমরা আইসিএল খেলতে যেতে চাও কি না? অনেকে বলেছে ‘হ্যাঁ’, আবার অনেকে বলেছে ‘না’। প্রশ্ন ছিল, আমি যদি যাই তাহলে টিম হবে। কিন্তু তখনকার বোর্ডে জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট অনেককেই জানিয়ে দেই। লিপু (গাজী আশরাফ হোসেন লিপু) ভাইকে বলেছি। তখনকার কোচ জেমি সিডন্সকেও জানিয়েছি যে, আমার কাছে অমন এক প্রস্তাব এসেছে। মাশরাফিকেও বলা হয়েছে, ‘দোস্ত তুই যাবি?’ ও সোজা বলে দেয় ‘নাহ! আমি যাব না।’’

 

‘কথা ছিল আমি গেলে দল হবে। কিন্তু ওই সময় আমি দেশের বাইরে চলে যাই। আর তাই বলা হয় আমিই নাকি সব করেছি! এটা মোটেও ঠিক নয়। আমি জানি ওই দলে খেলতে যাওয়া কেউ কেউ বলেছেন আশরাফুল নাটের গুরু। সেটাও সত্য নয়। আমি দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সবাই ভেবেছে যে দল করে চলে গেছি। তাই কথা হয়েছে আশরাফুল সবকিছু করেছে। আসলে এটা নয়। অনেকে গেছেন যাদের সঙ্গে কথাই হয়নি আমার। আমি পরে শুনেছি উনারাই টিম করেছেন। কিন্তু আমার নাম দিয়ে দেয়া হয়েছে।’-আশরাফুল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করেন এভাবে।

 

খানিকটা পেছনে ফিরে দেখা যাক। আইসিএল শুরু হয় ২০০৭ সালে। সেবার দল অংশ নেয় ৬টি। ২০০৮ সালে দল বেড়ে দাঁড়ায় ৯-এ। ওই বছরই বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় ‘ঢাকা ওয়ারিয়র্স’ নামের একটি দল।

আইসিএলে অংশ নেওয়া সেই দল।

২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ‘বোমা ফাটে’ দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। ওইদিনই জানা যায়, বাংলাদেশের ১৪ জনের দল অংশ নিচ্ছে আইসিএলে। সে দলের ১৪ জনের ১২ জনই কোনো না কোনো সময় খেলেছেন জাতীয় দলে। ওই সময় অধিনায়কত্ব ছাড়া হাবিবুল বাশার সুমন ছিলেন ‘ঢাকা ওয়ারিয়র্স’র অধিনায়ক। আফতাব আহমেদ, মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন, শাহরিয়ার নাফীস, অলক কাপালি, ধীমান ঘোষ, মোশাররফ হোসেন রুবেল, ফরহাদ রেজারা জাতীয় দল ছেড়ে চলে এসেছিলেন। ছিলেন মোহাম্মদ রফিক ও মঞ্জুরুল ইসলামের মতো সাবেকরা। আর গোলাম মাবুদ, মাহবুবুল করিমরা নিজেদের ঘরোয়া ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে গিয়েছিলেন আইসিএলে।

 

মূলত বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) অনুমোদন না দেওয়ায় আইসিএল ‘বিদ্রোহী লিগ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। বিসিসিআই বলে দেয়, যারাই আইসিএলে যোগ দেবে তারাই বিদ্রোহী।

 

আইসিএলে অংশ নেওয়া ১৪ বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

 

দৃশ্যপটে আইপিএল হাজির হয়ে যাওয়ায় মারা খেতে শুরু করে আইসিএল। ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় আইসিএল।

 

বিসিবি জানিয়ে দেয়, ২০০৯ সালের ১৫ জুনের মধ্যে যেসব বাংলাদেশি খেলোয়াড় আইসিএলের সাথে চুক্তি বাতিল করবেন, তাদের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের দরজা খুলে দেওয়া হবে। চুক্তি বাতিল করায় ১৬ জুন আগের ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বিসিবি। পরবর্তীতে শাহরিয়ার নাফীস, আফতাব আহমেদ, নাজিমউদ্দিন, ফরহাদ রেজারা জাতীয় দলেও খেলেছেন। আর হাবিবুল বাশার তো এখন জাতীয় দলের নির্বাচক।

 

স্পোর্টসট্যুর২৪ডটকম/আরআই-কে

শেয়ার করুন :